পাকিস্তানের ক্রিকেটের মহাতারকা শহীদ আফ্রিদি
পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমী জনমানসে শহীদ আফ্রিদি এক অবিচ্ছেদ্য নাম। মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব এবং প্রভাব সীমানা ছাড়িয়ে গেছে বহু আগেই। সম্প্রতি ১৩ মে, বুধবার, পাকিস্তানের প্রাক্তন এই অধিনায়ককে তার অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ (Hilal-e-Imtiaz) প্রদান করা হয়। তবে এই সম্মাননাটি পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেটমহলে এক অদ্ভুত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুরস্কারের নাম নিয়ে কেন এত বিতর্ক?
হিলাল-ই-ইমতিয়াজ পাকিস্তানের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সম্মান। এর আগে ওয়াসিম আকরাম এবং ওয়াকার ইউনিসের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা এই খেতাব অর্জন করেছেন। কিন্তু এবারের পুরস্কার বিতরণের পর ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি একটি কৌতুকপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। মূলত হিন্দিতে এই পুরস্কারের নামের উচ্চারণের সাথে একটি অসংলগ্ন শব্দের মিল থাকার কারণে নেটিজেনদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এটি নিছকই একটি কাকতালীয় ঘটনা, তবুও এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
আফ্রিদির বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ার
১৯৯৬ সালের অক্টোবরে কেনিয়ার বিপক্ষে ওডিআই ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শহীদ আফ্রিদির পথচলা শুরু। শুরুর দিকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন, যা প্রায় দুই দশক অক্ষত ছিল। ১০২ রানের সেই বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১১টি বিশাল ছক্কা।
আফ্রিদির ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান সত্যিই ঈর্ষণীয়:
- ২৭ টেস্ট, ৩৯৮ ওডিআই এবং ৯৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫৪১টি উইকেট শিকার করেছেন, যা পাকিস্তানের কোনো স্পিনারের জন্য সর্বোচ্চ।
- ১১,০০০-এর বেশি রান করেছেন সব ফরম্যাট মিলিয়ে।
- টেস্ট ক্রিকেটেও তার ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৬.৯৭।
- ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ব্যাটার তিনি, তার সামনে কেবল রোহিত শর্মা ও ক্রিস গেইল।
২০০০ ও ২০১২ সালের এশিয়া কাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন আফ্রিদি। এছাড়া ২০০৯ সালে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পেছনেও ছিল তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য।
বিতর্ক ও আফ্রিদি
সফল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আফ্রিদি নানা সময়ে বিতর্কেও জড়িয়েছেন। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বল টেম্পারিংয়ের দায়ে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া বড় বড় আইসিসি টুর্নামেন্টে আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারা এবং ভারত ও ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার কারণেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন।
তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে মাঠে তার প্রভাব অনস্বীকার্য। হিলাল-ই-ইমতিয়াজ সম্মাননা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এই নামের কাকতালীয় উচ্চারণ নিয়ে হওয়া সমালোচনা তার অর্জনের গ্লানি ঘটাতে পারবে না, তবুও এটি ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এক মজার উপাখ্যান হয়ে থাকবে।
0 Comments