ডিপিএলে গুলশানের দাপুটে জয়
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৬০ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে গুলশানের জয়ের মূল কারিগর ছিলেন শাহাদাত হোসেন সবুজ। তার ব্যাট থেকে আসা দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয় নিশ্চিত করে দলটি।
গুলশানের রানের পাহাড়
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। ইনিংসের শুরুটা খুব একটা আশানুরূপ ছিল না। ওপেনার মইনুল ইসলাম ইতিবাচক ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ৩৬ রান করলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। এরপর বিশাল চৌধুরী দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে গুলশান। তবে সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শাহাদাত হোসেন ও শাহরিয়ার সাকিব।
এই দুই ব্যাটারের ১৮৭ রানের বিশাল জুটি গুলশানকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। শাহাদাত হোসেন অত্যন্ত সাবলীল ব্যাটিং করে ১২১ বলে ১৩২ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে ছিল ১৭টি চার ও একটি ছক্কা। অন্যদিকে, শাহরিয়ার সাকিব তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৯৪ বলে ৭৫ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত গুলশান বড় সংগ্রহ নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে।
বৃষ্টির বাধা ও সংশোধিত লক্ষ্য
ডিপিএলের অন্যান্য ম্যাচের মতোই এই ম্যাচেও হানা দেয় বৃষ্টি। ফলে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের লক্ষ্য পুননির্ধারণ করা হয়। ডিএলএস পদ্ধতিতে ২৬ ওভারে তাদের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ১৯৩ রান। আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পর শুরু হয় অগ্রণী ব্যাংকের লড়াই।
ব্যর্থ অগ্রণী ব্যাংকের ব্যাটিং লাইনআপ
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অগ্রণী ব্যাংককে ভালো শুরু এনে দেন ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তার সাথে তৌফিক খান তুষারও কিছুটা অবদান রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে ম্যাচটি তাদের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে। রবিন এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫৩ বলে ৫৭ রানের একটি ইনিংস খেললেও অপর প্রান্ত থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি।
দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার তোফায়েল আহমেদ, মার্শাল আইয়ুব এবং নাসির হোসেনের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা বড় ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। যার ফলে ২৪.১ ওভারে মাত্র ১৩২ রানেই গুটিয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংকের ইনিংস। গুলশানের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা দাঁড়াতেই পারেনি।
বোলারদের আধিপত্য
গুলশানের জয়ের পেছনে বোলারদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ফরহাদ রেজা, নাঈম হোসেন এবং আব্দুর রহিম প্রত্যেকেই তিনটি করে উইকেট শিকার করে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও গুলশান যেভাবে পেশাদারিত্বের সাথে পুরো ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই জয় গুলশানের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থানের জন্য বড় এক প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
উপসংহার
শাহাদাত হোসেনের ব্যাটিং প্রতিভা এবং গুলশানের সামগ্রিক দলীয় পারফরম্যান্স এই জয়কে স্মরণীয় করে রেখেছে। ডিপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে বড় ব্যবধানের এই জয় গুলশানকে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বোলাররা যে কাজটি করেছেন, সেটিই মূলত অগ্রণী ব্যাংকের জয়ের আশা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন একপেশে অথচ উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ উপভোগ করতে পেরেছেন। আগামী ম্যাচগুলোতে গুলশান তাদের এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments