ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন নেতৃত্বের হাওয়া
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা। তবে ক্রিকেটের দুনিয়া বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা নয়। ভারতীয় দল এখন ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের পরবর্তী উত্তরসূরি কে হতে পারেন, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী। তার মতে, সঞ্জু স্যামসনই হলেন ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের আগামী দিনের যোগ্য নেতা।
কেন সঞ্জু স্যামসনকে বেছে নিলেন শাস্ত্রী?
আইসিসি রিভিউ-তে কথা বলার সময় রবি শাস্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সূর্যকুমার যাদবের পরবর্তী সময়ের জন্য ভারত যে একজন দক্ষ অধিনায়কের খোঁজ করছে, তাতে সঞ্জু স্যামসনের নাম সবার উপরে থাকা উচিত। শাস্ত্রী বলেন, “পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রাখলে, সূর্যকুমার যাদব আগামী কয়েক বছর কেমন খেলছেন তার ওপর ভিত্তি করে হয়তো নতুন অধিনায়কের প্রয়োজন পড়বে। তবে সঞ্জু স্যামসন নিজেকে নেতৃত্বের ভূমিকায় যোগ্য করে তুলেছে, কারণ রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সে আগেও এই দায়িত্ব পালন করেছে।”

বিশ্বকাপে স্যামসনের অসামান্য পারফরম্যান্স
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সঞ্জু স্যামসনের ব্যাট ছিল বিধ্বংসী। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে তার ৯৭ রানের ইনিংসটি ভারতকে সেমিফাইনালে তুলতে সাহায্য করেছিল। ওই টুর্নামেন্টে ৫টি ম্যাচ খেলে তিনি ৮০.২৫ গড়ে মোট ৩২১ রান সংগ্রহ করেন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১৯৯.৩৭। শুধু রান করাই নয়, চাপের মুখে দলের দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা তাকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শাস্ত্রী মনে করেন, স্যামসনের এই পরিপক্কতা তাকে ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে দেখার সবচেয়ে বড় কারণ।
হার্দিক ও শ্রেয়াস কেন পিছিয়ে?
ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে অনেকের নাম এলেও হার্দিক পান্ডিয়া এবং শ্রেয়াস আইয়ার কেন আলোচনার বাইরে, তার কারণগুলো স্পষ্ট। হার্দিক পান্ডিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চোট-আঘাতের সমস্যায় জর্জরিত। তার ফর্ম নিয়েও রয়েছে নিয়মিত অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে, শ্রেয়াস আইয়ার বর্তমানে জাতীয় দলের নির্বাচনে ব্রাত্য এবং বিসিসিআই চুক্তিতেও তার নাম নেই। ফলে নেতৃত্বের লড়াইয়ে তারা এখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন। হার্দিক পান্ডিয়ার ক্ষেত্রে সাদা বলের ক্রিকেটে নেতৃত্বের সম্ভাবনা এখন প্রায় ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভবিষ্যতের পথচলা
শাস্ত্রী বিশ্বাস করেন, স্যামসন কেবল একজন ব্যাটার হিসেবেই নন, বরং একজন নেতা হিসেবেও আগামী ২-৩ বছর ভারতীয় ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আইপিএল ২০২৬-এ চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তার পারফরম্যান্স সেই আস্থারই প্রতিফলন। শুরুতে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও, দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ৫৬ বলে ১১৫ রানের ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ভারতীয় দলের বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে সঞ্জু স্যামসনের ধারাবাহিকতা এবং ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং শৈলী তাকে অধিনায়কের পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে। রবি শাস্ত্রীর এই পরামর্শ ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments