বৈভব সূর্যবংশী: আইপিএলের নতুন সেনসেশন
ভারতীয় ক্রিকেটের উদীয়মান তারকা বৈভব সূর্যবংশী গত বছর আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে মাঠে নামার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টগুলোতে তার ব্যাটিং দক্ষতা তাকে দ্রুতই জাতীয় দলে অভিষেকের দৌড়ে শামিল করেছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করছেন, তাতে অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে দেখছেন।
সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের কঠোর সমালোচনা
তবে এই সাফল্যের মাঝেও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার বৈভবের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাঞ্জরেকারের মতে, টি-টোয়েন্টির মারকাটারি ব্যাটিং আর টেস্ট ক্রিকেটের টেকনিক এক বিষয় নয়। স্পোর্টস্টারের সাথে এক আলোচনায় তিনি বলেন, বৈভব যেভাবে লেগ সাইডে সরে গিয়ে পয়েন্টের দিকে বল মারেন, তা টি-টোয়েন্টির জন্য মানানসই হলেও টেস্ট ক্রিকেটের জন্য তা যথেষ্ট নয়।
মাঞ্জরেকার আরও বলেন, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশের কঠিন কন্ডিশনে খেলতে হলে বলের লাইনের কাছাকাছি যাওয়া জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘যদি আপনি চান আপনার সন্তান বিখ্যাত ও ধনী হোক, তবে টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং ঠিক আছে। কিন্তু যদি আপনি চান সে সমালোচকদের শ্রদ্ধা অর্জন করুক, তবে তাকে বলের লাইনে এসে খেলার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
ওয়ানডে ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বৈভবের সাফল্য
মাঞ্জরেকারের এই সমালোচনার বিপরীতে বৈভবের পরিসংখ্যান কথা বলছে অন্য ভাষায়। তিনি কেবল টি-টোয়েন্টিতেই নন, ৫০ ওভারের ফরম্যাটেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২৫-২৬ বিজয় হাজারে ট্রফিতে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৮৪ বলে ১৯০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তিনি জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় করেন। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার ৮০ বলে ১৭৫ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংসটি ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।
বিরাট কোহলির প্রসঙ্গ ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
মজার বিষয় হলো, সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের এই ধরনের সমালোচনা নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে যখন বিরাট কোহলি তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিলেন, তখনও মাঞ্জরেকার কোহলির টেস্ট ফরম্যাটে টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, কোহলি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত নন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বিরাট কোহলি কেবল ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়কই হননি, বরং ফরম্যাটটির অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
উপসংহার
বৈভব সূর্যবংশী এখন তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই আছেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার সাফল্য অনস্বীকার্য। মাঞ্জরেকারের পরামর্শ গঠনমূলক কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ক্রিকেট প্রেমীরা তাকিয়ে আছেন এই তরুণ প্রতিভার দিকে, যিনি হয়তো ভবিষ্যতে টেস্ট ক্রিকেটেও নিজেকে বড় উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। তাকে এখন দীর্ঘ ফরম্যাটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে, যাতে তিনি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করে ভারতীয় ক্রিকেটের সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।
আপনি কি মনে করেন বৈভব সূর্যবংশীর টেকনিক টেস্ট ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট করে জানান।
0 Comments