ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্সের পরেও কেন সতীর্থের রোষানলে রিকেলটন?
আইপিএল ২০২৬-এর চলতি মরসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ওপেনার রায়ান রিকেলটন যেন রানের ফোয়ারা ছুটাচ্ছেন। সোমবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) বিপক্ষে তার বিধ্বংসী ইনিংস ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। ২২৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তিনি মাত্র ৪২ বলে ৮৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। তার এই ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও আটটি বিশাল ছক্কা। কিন্তু এমন রাজকীয় ইনিংস খেলার পরেও রিকেলটন নিজেই জানিয়েছেন, ম্যাচ শেষে দলের সতীর্থ কুইন্টন ডি ককের কাছ থেকে তাকে ‘গালি’ শুনতে হয়েছে।
সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ
ম্যাচ জয়ের পর রিকেলটন খোলাখুলি জানান, কুইন্টন ডি কক তাকে মজার ছলেই গালি দিয়েছেন। কারণটি বেশ অদ্ভুত—রিকেলটন ৮৩ রান করে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন। ডি ককের মতে, ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়ার পর রিকেলটনের সেঞ্চুরি মিস করাটা ছিল বড় ভুল। রিকেলটন নিজেও স্বীকার করেছেন যে, সেঞ্চুরি করার দারুণ সুযোগ ছিল তার সামনে। তিনি বলেন, ‘ডি কক আমার প্রথম সতীর্থ যে আমাকে রীতিমতো বকা দিয়েছে, কারণ আমি সেঞ্চুরিটা হাতছাড়া করেছি। তবে এটা আমাদের দারুণ সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ।’
দলের ভেতরের সুস্থ প্রতিযোগিতা
রিকেলটন এবং ডি কক—দুজনেই সাউথ আফ্রিকা দলের ওপেনার এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের একই পজিশনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী। স্বাভাবিকভাবেই বেঞ্চে বসে থাকা একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটারের উপস্থিতি যে বাড়তি চাপ তৈরি করে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন রিকেলটন। তিনি বলেন, ‘কুইন্টন ডি ককের মতো একজন দক্ষ খেলোয়াড় যখন বেঞ্চে বসে থাকেন, তখন মানসিক চাপ কাজ করাটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ পুরো বিশ্ব চাইছে তাকে মাঠে দেখতে। এই পরিস্থিতি সামলানোটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’
বন্ধুত্বের নজির
যদিও তারা মাঠে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু মাঠের বাইরে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। রিকেলটন জানান, ডি কক কেবল তাকে চাপই দেন না, বরং নেপথ্যে থেকে তাকে আরও ভালো খেলতে সাহায্য করেন। তাদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুমে একটি ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তারা ওপেনিং পার্টনার, যা তাদের বোঝাপড়াকে আরও মজবুত করেছে।
আইপিএল ২০২৬-এ রিকেলটনের ফর্ম
চলতি আইপিএলে রিকেলটন যেন স্বপ্নের ফর্মে আছেন। ৮ ইনিংসে ৩৮০ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি, যার স্ট্রাইক রেট ১৯০.৯৫। এই আসরে তিনি ইতোমধ্যে একটি সেঞ্চুরি করেছেন। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, দুই ম্যাচে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও তাকে ফিরতে হয়েছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পরবর্তী ম্যাচ ১০ মে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) বিপক্ষে রায়পুরে। এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী ম্যাচে রিকেলটন ফের কোনো ঝড় তুলতে পারেন কি না।
উপসংহার
ক্রিকেট মাঠে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সতীর্থদের মধ্যকার বোঝাপড়া। রিকেলটন ও ডি ককের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সুস্থ প্রতিযোগিতা কীভাবে দলের সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের এই দুই ওপেনারের ওপর ভরসা রেখেই শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে চলেছে।
0 Comments