ভ্যাপিং বিতর্কে রিয়ান পরাগের পাশে সঞ্জয় মাঞ্জরেকার
আইপিএল ২০২৬-এর মরশুমে মাঠের বাইরের এক বিতর্ক বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন মুন্নানপুর স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে ভ্যাপিং করতে দেখা যায় রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। বিসিসিআইও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং তার ম্যাচ ফি-এর ২৫ শতাংশ জরিমানা করার পাশাপাশি একটি ডিমেরিট পয়েন্ট প্রদান করে।
সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের দৃষ্টিভঙ্গি
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে যখন জলঘোলা হচ্ছে, তখন প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার রিয়ান পরাগের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। স্পোর্টস্টার-এর সাথে আলাপকালে ৬০ বছর বয়সী এই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি যখন ঘটনাটি দেখলাম, মনে হয়েছিল এটি ধূমপানের কাছাকাছি। কিন্তু তাতে এত বড় কী ব্যাপার? আমি জানি ২০১৯ সালে আইন পাস হয়েছিল এবং প্লেয়ারের কাজটি ভুল ছিল। তবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যে ই-সিগারেট সরবরাহ করেছে, প্লেয়ারের বিরুদ্ধে নয়।’
মাঞ্জরেকার আরও যোগ করেন যে, পরাগকে অহেতুক নিশানা করা হচ্ছে। তার কথায়, অতীতে ক্রিকেটে আরও অনেক গুরুতর ঘটনা ঘটেছে যা থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, রিয়ান পরাগকে একজন ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার ব্যক্তিত্ব বা পরিচিতির কারণে তার ওপর অতিরিক্ত কঠোর হওয়া উচিত নয়।
অতীতে ধূমপানের সংস্কৃতি
ক্রিকেটের অন্দরে ধূমপানের বিষয়টি নতুন কিছু নয়, এমনটাই মনে করেন প্রাক্তন রঞ্জি ট্রফি জয়ী অধিনায়ক। মাঞ্জরেকার তার খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমাদের সময়ে কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত ধূমপান করতে ভালোবাসতেন। আউট হওয়ার পর স্নায়ুর চাপ কমাতে বা হতাশা ঝেড়ে ফেলতে তারা এটি করতেন। শেন ওয়ার্নও ধূমপান করতেন। তবে তখনকার দিনে ক্যামেরার নজরদারি আজকের মতো এত সূক্ষ্ম ছিল না।’ অর্থাৎ, প্রযুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে আজকের ক্রিকেটাররা অনেক বেশি নজরদারির মধ্যে থাকেন, যা তাদের ছোটখাটো ভুলকেও বড় আকার দেয়।
প্লে-অফের লড়াই এবং রাজস্থানের পরবর্তী লক্ষ্য
মাঠের বাইরের এই বিতর্ক যখন চলছে, রাজস্থান রয়্যালসের জন্য মাঠের ভেতরের লড়াইটিও এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শনিবার সাওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটানসের মুখোমুখি হতে চলেছে জয়পুরের দলটি। বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে উভয় দলই ১০টি করে ম্যাচ খেলে ১২ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে, এই ম্যাচটি প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাজস্থানের জন্য বিগত দিনগুলো খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। নিজেদের ঘরের মাঠে গত ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে তারা পরাজিত হয়েছে। ২২৬ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও তারা জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয়। কেএল রাহুল এবং পাথুম নিসাঙ্কার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে দিল্লি অনায়াসেই সাত উইকেটে জয় তুলে নেয়। এখন দেখার বিষয়, ভ্যাপিং বিতর্ক ভুলে রাজস্থান রয়্যালস তাদের অধিনায়ক রিয়ান পরাগের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না।
উপসংহার
ক্রিকেট মাঠে শৃঙ্খলার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিসিসিআই যে ব্যবস্থা নিয়েছে তা নিয়ম মেনেই হয়েছে। তবে সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের মন্তব্য এই বিতর্ককে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। একজন তরুণ ক্রিকেটারের ভুলকে নিয়ম অনুযায়ী বিচার করা উচিত, নাকি তাকে এভাবে ‘সফট টার্গেট’ করা হচ্ছে—সেটি নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনার ঝড় রয়েই যাচ্ছে। এখন সব আলো নিভে মাঠের লড়াইয়েই রিয়ান পরাগ কেমন জবাব দেন, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
0 Comments