মুম্বাইয়ের কাছে হার, হতাশায় ডুবলেন ঋষভ পন্ত
আইপিএলের মঞ্চে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ৪ মে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এক কথায় রোমাঞ্চকর। মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস (এলএসজি)। তবে ম্যাচের শেষে হাসি ফুটেছে স্বাগতিক মুম্বাইয়ের ডাগআউটে। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের ২২২৮ রানের বিশাল সংগ্রহ টপকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স যেভাবে জয় ছিনিয়ে নিল, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে। দলের পরাজয়ের পর লক্ষ্ণৌ অধিনায়ক ঋষভ পন্ত সরাসরি দায়ভার চাপালেন তার দলের ব্যাটারদের ওপর।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং টস
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নিয়মিত অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া পিঠের সমস্যার কারণে এই ম্যাচে খেলেননি। তার জায়গায় দলের নেতৃত্ব দেন সূর্যকুমার যাদব। টস জিতে সূর্যকুমার প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যখন মিচেল মার্শ এবং নিকোলাস পুরান বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাট করছিলেন। জসপ্রীত বুমরাহ, উইল জ্যাকস, দীপক চাহারদের মতো বোলাররাও তাদের তোপের মুখে অসহায় হয়ে পড়েন।
ব্যাটারদের তাণ্ডব ও রানের পাহাড়
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করায়। এটি আইপিএলের ইতিহাসে দলটির অন্যতম সর্বোচ্চ স্কোর। এই ইনিংসে পন্তের দল মোট ১৬টি বিশাল ছক্কা হাঁকায়। যার মধ্যে একাই ৮টি ছক্কা মারেন নিকোলাস পুরান এবং ৩টি ছক্কা আসে মিচেল মার্শের ব্যাট থেকে। পাওয়ার প্লে-তে ৯০ রান এবং পরবর্তী ৯ ওভারে আরও ৮৫ রান তুলে লক্ষ্ণৌ জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এলএসজি পেসারদের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১০৮ রান এবং স্পিনারদের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১২০ রান সংগ্রহ করেছিল।
পন্তের আক্ষেপ ও বাস্তবতা
ম্যাচ শেষে হতাশ ঋষভ পন্ত বলেন, ‘আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম, তাতে আমাদের আরও বেশি রান পাওয়া উচিত ছিল। অন্তত ১০-১৫ রান কম হয়েছে, কারণ উইকেটটা ২২০-২৩০ রানের উপযোগী ছিল।’ বোলারদের দোষ দিতে নারাজ পন্ত যোগ করেন, ‘বোলারদের সবসময় দোষ দেওয়া যায় না। তারা টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ কাজ করছে। মুম্বাইয়ের ব্যাটাররা এই কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো জানে, তাই তারা সফল হয়েছে।’
ভাগ্যের সন্ধানে লক্ষ্ণৌ
দলকে জেতানোর উপায় কী? এই প্রশ্নের জবাবে পন্তের উত্তর ছিল কিছুটা আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন কিছুটা ভালো ভাগ্য প্রয়োজন। ঈশ্বর আমাদের আশীর্বাদ করলে হয়তো পরিস্থিতি বদলাবে। আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’ মুম্বাইয়ের জয়ের নায়ক ছিলেন রায়ান রিকেলটন (৮৩) এবং ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে নামা রোহিত শর্মা (৮৪)। ওপেনিং জুটিতে ১৪৩ রানের সেই পার্টনারশিপই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। পন্তের কথায়, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের ম্যাচগুলোতে আরও ভালো করার লক্ষ্য স্থির করেছে এলএসজি। ক্রিকেট ভক্তরা এখন দেখার অপেক্ষায়, পন্তের দল এই বিপর্যয় সামলে প্লে-অফের লড়াইয়ে ফিরতে পারে কি না।
0 Comments