ভারতীয় দলে মোহাম্মদ শামির প্রত্যাবর্তন কি সময়ের দাবি?
ভারতীয় দলে মোহাম্মদ শামির প্রত্যাবর্তন কি সময়ের দাবি?
আইপিএল ২০২৬ এখন তার শেষ লগ্নে। এই টুর্নামেন্ট বরাবরই ভারতীয় দলের নতুন প্রতিভার কারখান হিসেবে পরিচিত। বৈভব সূর্যবংশী, প্রিয়াংশ আর্য কিংবা প্রভসিমরণ সিংয়ের মতো তরুণদের নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতীয় ড্রেসিংরুম। তবে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামির প্রত্যাবর্তন।

জসপ্রীত বুমরাহর ওয়ার্কলোড এবং শামির প্রাসঙ্গিকতা
বিসিসিআই-এর বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইপিএল ২০২৬-এর পর জসপ্রীত বুমরাহকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) সাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর জন্য বুমরাহকে সতেজ রাখাটাই ম্যানেজমেন্টের মূল লক্ষ্য। বুমরাহর অনুপস্থিতিতে মোহাম্মদ সিরাজ এখন দলের প্রধান পেসার, কিন্তু তার ওপর অতিরিক্ত চাপের ভার কমানোর জন্য একজন অভিজ্ঞ বোলারের প্রয়োজন অপরিসীম। আর এখানেই মোহাম্মদ শামির নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে।
আইপিএল ২০২৬-এ শামির দুর্দান্ত ফর্ম
৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ শামি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। এলএসজি (LSG)-এর হয়ে এবারের আইপিএলে তিনি যেভাবে বোলিং করছেন, তা মুগ্ধ করার মতো। দল থেকে বাদ পড়ার পর শামি যেভাবে নিজের ফিটনেসের ওপর কাজ করেছেন, তার প্রতিফলন পড়ছে মাঠে। শুধু আইপিএল নয়, রণজি ট্রফি ২০২৬-এ ৩৭টি উইকেট শিকার করে তিনি নিজের ফর্মের জানান দিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ ভারতের শিরোপা জয়ের পর থেকেই তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন, কিন্তু তার ধারাবাহিকতা তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে শামির সম্ভাবনা
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিতব্য একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিতে মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গী হিসেবে শামিকে দলে দেখা যেতে পারে। টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দীর্ঘ টেস্ট সিরিজের আগে বুমরাহর ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করতে শামির মতো একজন অভিজ্ঞ বোলারের অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
কেন বাদ পড়েছিলেন শামি এবং তার সংগ্রামের গল্প?
এক সময় তিন ফরম্যাটের জন্য অপরিহার্য বোলার হওয়া সত্ত্বেও, ফিটনেস সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্বাচকদের সাথে যোগাযোগের অভাবের কারণে শামি দল থেকে ছিটকে পড়েন। গত বছর ইংল্যান্ড সফরের আগে অজিথ আগারকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি তাকে এনসিএ (NCA)-তে ফিটনেস প্রমাণ করার নির্দেশ দিয়েছিল। শামি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন।
তরুণ বনাম অভিজ্ঞতা: বিসিসিআই-এর দ্বিধা
যদিও শামির প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবুও টিম ম্যানেজমেন্টের একাংশ মনে করছে যে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তরুণ পেসারদের সুযোগ দেওয়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্য ভালো। প্রিন্স যাদব, মহসিন খান এবং কার্তিক ত্যাগীর মতো বোলাররাও এখন নির্বাচকদের নজরে রয়েছেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটের মতো কঠিন ফরম্যাটে শামির মতো একজন অভিজ্ঞ বোলারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।
উপসংহার
মোহাম্মদ শামির ভারতীয় দলে ফেরা সহজ হবে না, এটা নিশ্চিত। দল যেখানে নতুনদের গড়ে তোলার দিকে বেশি ঝুঁকেছে, সেখানে শামিকে আবারও দলে ফেরানো কি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে? নাকি তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য অমূল্য সম্পদ হিসেবে প্রমাণিত হবে? উত্তর লুকিয়ে আছে আসন্ন দিনগুলোতে, যখন বিসিসিআই আফগানিস্তান টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করবে। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, শামি তার পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও নির্বাচকদের দরজায় কড়া নাড়ছেন।
