আইপিএল ২০২৬-এ মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
আইপিএল ২০২৬ আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের জার্সি গায়ে মিচেল স্টার্কের প্রত্যাবর্তন ছিল চোখ ধাঁধানো। দীর্ঘ ইনজুরি ও মাঠের বাইরে থাকার পর শুক্রবার রাতে জয়পুরের সয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে বল হাতে জ্বলে উঠলেন ৩৫ বছর বয়সী এই অজি তারকা। তার বোলিং তোপে দিশেহারা হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা।
তিন উইকেটের ঝলক
ম্যাচের শুরুতেই রাজস্থানের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল স্টার্ককে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে অভিজ্ঞ স্টার্ক পরক্ষণেই তার জবাব দেন। নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই জয়সওয়ালকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিল্লিকে দারুণ ব্রেক-থ্রু এনে দেন তিনি। এরপর একে একে রিয়ান পরাগ এবং রবীন্দ্র জাদেজার মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। সব মিলিয়ে ৪ ওভার বল করে ৪০ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি।
অবসর নিয়ে কী ভাবছেন স্টার্ক?
ম্যাচ শেষে স্টার্কের বোলিং হাতে টেপ বা স্ট্র্যাপিং দেখে অনেকের মনেই তার ফিটনেস ও দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা জেগেছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল তার অবসরের পরিকল্পনা নিয়ে। তবে সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে স্টার্ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি এখনই ক্রিকেট ছাড়ছেন না। তিনি বলেন, ‘শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্ট্র্যাপিং দেখে অনেকেই হয়তো অবসরের কথা ভাবতে পারেন, কিন্তু আমি এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি। ক্রিকেট ও জীবনের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের এগিয়ে যেতে হয়। আমি সেই পথেই আছি।’
দীর্ঘ বিরতির পর স্বস্তির নিঃশ্বাস
স্টার্ক জানান, প্রায় তিন মাস তিনি কোনো ব্যাটারের বিপক্ষে বোলিং করেননি। ইনজুরি কাটিয়ে ফিটনেস ধরে রাখা এবং বোলিংয়ের ছন্দ ফিরে পাওয়া ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘গত তিন মাসে কোনো ব্যাটারের বিপক্ষে বল করিনি। তবে মাঠে ফিরে নিজের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি। নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে আমি কনুইয়ের পজিশন নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এই জয়টি আমার আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নিজের ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট স্টার্ক আরও বলেন, ‘আজকের ম্যাচটি আমার জন্য একটি দারুণ শিক্ষা ছিল। ২০ ওভার ফিল্ডিংয়ের পর পায়ের জড়তা কেটেছে। আশা করছি, টুর্নামেন্টের বাকি অংশে আমি আরও ভালো পারফর্ম করতে পারব। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে এই মৌসুমের বাকি অংশটুকু আমি উপভোগ করতে চাই।’
স্টার্কের এই পারফরম্যান্স কেবল দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্যই নয়, বরং টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াতেও সাহায্য করেছে। ইনজুরির ধকল কাটিয়ে বিশ্বমানের এই বোলার আবারো তার পুরনো ফর্মে ফিরে আসায় ক্রিকেটপ্রেমীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত। অভিজ্ঞ এই পেসারের উপস্থিতিতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বোলিং আক্রমণ যে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।
প্রীতম সান্ত্রা, ক্রিকেটঅ্যাডিক্টর ডটকমের একজন নিয়মিত লেখক, যিনি নিয়মিত ক্রিকেটের মাঠের খবর আপনাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।
0 Comments