[CRK] মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ভরাডুবি: পাওয়ারপ্লে-র ব্যর্থতা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের বিশ্লেষণ
[CRK]
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপর্যয়: পাওয়ারপ্লে-র ব্যর্থতা ও জয়াবর্ধনের স্বীকারোক্তি
আইপিএল ২০২৬ আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (MI) বর্তমানে এক কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে অবস্থান করছে তারা। সম্প্রতি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) কাছে ১০৩ রানের এক বিশাল পরাজয় তাদের এই দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। দলের প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে এই পরাজয়ের পর দলের বোলিং আক্রমণ এবং কৌশলগত ব্যর্থতার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
বোলিং আক্রমণে বড় ধরনের ঘাটতি
ম্যাচ পরবর্তী আলোচনায় জয়াবর্ধনে স্বীকার করেছেন যে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং বিভাগে একটি বড় ধরনের ‘ফাঁক’ বা ঘাটতি রয়েছে। তিনি জানান, ইনজুরি এবং অসুস্থতার কারণে দলের কম্বিনেশন ঠিক করতে তারা এখনও হিমশিম খাচ্ছে। যদিও কিছু কিছু সময়ে তারা ভালো বল করেছে, কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে তাদের ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইকোনমি রেট ১০.৫২, যা এই মরসুমে যেকোনো দলের তুলনায় সর্বোচ্চ। অর্থাৎ, তারা প্রতি ওভারে গড়ে সবচেয়ে বেশি রান দিচ্ছে। অন্যদিকে, তারা এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৪টি উইকেট নিতে পেরেছে, যা টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বনিম্ন সংখ্যা। দলের প্রধান অস্ত্র জাসপ্রিত বুমরাহ অত্যন্ত মিতব্যয়ী বোলিং করলেও, সাত ম্যাচে মাত্র দুটি উইকেট নিতে পেরেছেন, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা।
পাওয়ারপ্লে এবং কৌশলগত পরিবর্তন
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অসামঞ্জস্যতা কেবল পারফরম্যান্সে নয়, বরং খেলোয়াড়দের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে। সিজন শুরুর দিকে ট্রেন্ট বোল্টকে নতুন বলের জন্য প্রাধান্য দেওয়া হলেও, পাওয়ারপ্লে-তে উইকেট নিতে ব্যর্থতা এবং উচ্চ ইকোনমি রেটের কারণে কোচিং স্টাফরা পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হন।
জয়াবর্ধনে জানান, “আমরা কিছু নতুন পরীক্ষা করছি। বুমরাহকে আমরা পাওয়ারপ্লে-তে ব্যবহার করছি কারণ আমাদের শুরুতে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। আমরা প্রথম ওভার থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছিলাম না, ১০-১২ বা ১৩ রান দিয়ে দিচ্ছিলাম। আমরা চাই সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে।” এই কারণেই বুমরাহকে শেষ ওভারের জন্য জমিয়ে না রেখে পাওয়ারপ্লে-তে আনা হয়েছে, এমনকি গত দুটি ম্যাচে তিনি ওপেনিং ওভারটি করেছেন।
CSK-র বিরুদ্ধে পাওয়ারপ্লে-র বিপর্যয়
চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল পাওয়ারপ্লে-র লড়াই, যেখানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাট এবং বল—উভয় ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে ছিল। পাওয়ারপ্লে-তে যেখানে সিএসকে ৭৩ রান তুলেছে (মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে), সেখানে এমআই মাত্র ২৯ রান করতে পেরেছে ৩ উইকেট হারিয়ে। এটি ছিল আইপিএলে সিএসকে-র বিরুদ্ধে এমআই-এর সর্বনিম্ন পাওয়ারপ্লে স্কোর।
জয়াবর্ধনে বলেন, “যখন আপনি এই ধরণের ম্যাচ হারেন, তখন সেটি বিশ্লেষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে পাওয়ারপ্লে-তে বল এবং ব্যাট উভয় ক্ষেত্রেই আমরা হেরে গিয়েছি। আহমেদাবাদে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে আমরা একটি ছন্দ খুঁজে পেয়েছিলাম, কিন্তু এখানে সেই ছন্দ আমরা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছি।”
মিচেল স্যান্টনারের কনকাশন সাব এবং শার্দুল ঠাকুর
ম্যাচ চলাকালীন একটি নাটকীয় মোড় আসে যখন মিচেল স্যান্টনারকে কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠ ছাড়তে হয়। কার্তিক শর্মাকে ক্যাচ ধরার সময় ডাইভিং করার পর স্যান্টনার মাথা এবং কাঁধের ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। যদিও প্রথমে কাঁধের জন্য বরফ লাগানো হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি মাথা ঘোরা (dizziness) অনুভব করায় তাকে স্ক্যান করতে পাঠানো হয়।
ম্যাচ রেফারির অনুমতিক্রমে শার্দুল ঠাকুর স্যান্টনারের পরিবর্তে ব্যাটিংয়ে নামেন। জয়াবর্ধনে মজা করে বলেন, “মিচ হয়তো হতাশ হবে যে তার ব্যাটিং ক্ষমতার সাথে শার্দুল ঠাকুরের তুলনা করা হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এমনই ছিল। আশা করি তার ইনজুরি গুরুতর নয়।”
আশার আলো: এএম গজানফারের উত্থান
পুরো ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মাঝেও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন তরুণ বোলার এএম গজানফার। সিএসকে-র ব্যাটসম্যানরা যখন প্রতি ওভারে ১০ রানের বেশি তুলছিলেন, তখন গজানফার ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে লড়াই করেছেন। তিনি পাওয়ারপ্লে-তে ruturaj Gaikwad এবং নবম ওভারে শিবম দুবে-কে আউট করে দলের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছিলেন।
তার প্রশংসা করে জয়াবর্ধনে বলেন, “আমার মনে হয় আল্লাহ (গজানফার) খুব ভালো বল করেছে। সে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিপক্ক। যেভাবে সে চিন্তা করে এবং পাওয়ারপ্লে-তে বল করে, তা প্রশংসনীয়। আমরা তাকে সমর্থন করতে থাকব।”
আগামীর চ্যালেঞ্জ
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সামনে এখন পাঁচ দিনের বিরতি রয়েছে নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করে নেওয়ার জন্য। আগামী ২৯শে এপ্রিল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) দলের মুখোমুখি হবে তারা। এই বিরতি কাজে লাগিয়ে তারা পুনরায় তাদের ছন্দ ফিরে পেতে চায়।
