আইপিএল ২০২৬: সংকটে লখনউ সুপার জায়ান্টস ও ঋষভ পন্তের নেতৃত্ব

আইপিএল ২০২৬-এর আসর লখনউ সুপার জায়ান্টসের (LSG) জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো কাটছে। দলের অধিনায়ক ঋষভ পন্ত এখন চরম সমালোচনার মুখে। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি সরাসরি পন্তের নেতৃত্বের মান এবং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা লখনউ দল টানা ছয়টি হারসহ মোট সাতটি ম্যাচে হেরে প্লে-অফের দৌড় থেকে প্রায় ছিটকে যাওয়ার পথে।

মনোজ তিওয়ারির নিশানায় পন্তের রণকৌশল

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে সুপার ওভারে হার হোক কিংবা মুম্বাইয়ের বিপক্ষে লড়াই—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পন্তের অধিনায়কত্ব ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মনোজ তিওয়ারি ক্রিকবাজের এক আলোচনায় বলেন, পন্ত ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছেন। মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচের উদাহরণ টেনে তিওয়ারি বলেন, যখন প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা অনায়াস রান তুলছিল, তখন একমাত্র প্রিন্স যাদব ইয়র্কার দিয়ে তাদের চাপে রাখতে পেরেছিলেন। কিন্তু পন্ত অধিনায়ক হিসেবে বাকি বোলারদের সেই একই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

অর্জুন টেন্ডুলকারকে নিয়ে বড় প্রশ্ন

তিওয়ারির সমালোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল তরুণ পেসার অর্জুন টেন্ডুলকার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নেট প্র্যাকটিসে নিয়মিত নিখুঁত ইয়র্কার মারা অর্জুন টেন্ডুলকারকে কেন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না? তিওয়ারির কথায়, লখনউয়ের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেই দেখা গেছে অর্জুন নেটে দারুণ ইয়র্কার দিচ্ছেন। তবুও তাকে বাইরে বসিয়ে রাখা পন্তের অদূরদর্শিতার পরিচয়। তিনি সরাসরি বলেন, ‘এখানেই এমএস ধোনি বা রোহিত শর্মার মতো অধিনায়কদের সঙ্গে পন্তের পার্থক্য বোঝা যায়। একজন ভালো অধিনায়ক জানেন কখন কোন সম্পদকে কাজে লাগাতে হয়।’

নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলেন পন্ত

এদিকে, ঋষভ পন্ত নিজেও তার ফর্মহীনতাকে দলের হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন। ব্যাট হাতে পন্তের পারফরম্যান্স দলের বড় মাথাব্যথার কারণ। গত ম্যাচে নিকোলাস পুরান এবং মিচেল মার্শ ভালো শুরু করলেও, পন্ত মাত্র ১০ বলে ১৫ রান করে আউট হয়ে যান। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ক্রিজে আরও কিছুক্ষণ সময় কাটালে হয়তো দলের স্কোর আরও বড় হতো, যা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল।

লখনউয়ের দুর্দশার কারণ কী?

আইপিএল ২০২৬-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের বোলিং ও ব্যাটিং—উভয় বিভাগেই বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ২২৮ রানের মতো বিশাল পুঁজি নিয়েও তারা বোলিং ব্যর্থতায় ম্যাচ হেরেছে। মোহম্মদ শামি বা মহসিন খানের মতো বোলাররা রান আটকানোয় ব্যর্থ হচ্ছেন, আর পন্ত অধিনায়ক হিসেবে সেই রানপ্রবাহ রোধ করতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

অধিনায়কত্বের চাপে পন্ত

একজন উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক হিসেবে পন্তের উপর প্রত্যাশার চাপ আকাশচুম্বী। তবে চলতি মরসুমে সেই প্রত্যাশা পূরণে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। ব্যাটিংয়ে রান নেই, আবার অধিনায়ক হিসেবেও দলের মনোবল ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পন্ত যদি দ্রুত তার রণকৌশল পরিবর্তন না করেন এবং দলের তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে ব্যবহার না করেন, তবে লখনউয়ের জন্য সামনের পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে লখনউ সুপার জায়ান্টস ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, নাকি পন্তের অধিনায়কত্বে এক হতাশাজনক মৌসুমের সমাপ্তি ঘটবে তাদের।


Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *