অভিষেকেই স্বপ্নের সূচনা
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার জেডেন লেনক্স তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেট শিকার করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। সফরকারী নিউজিল্যান্ডের হয়ে এমন পারফরম্যান্স কেবল দলের আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, বরং ৩১ বছর বয়সী এই স্পিনারকে নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রেকর্ডের পাতায় জেডেন লেনক্স
জেডেন লেনক্স এমন এক কীর্তি গড়েছেন যা বিশ্বক্রিকেটে অত্যন্ত বিরল। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়া নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় বোলার তিনি। মজার ব্যাপার হলো, এই তালিকার তিনজন বোলারই বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম বলে উইকেট পেয়েছেন। মিরপুরের স্লো পিচকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে সাইফ হাসানকে আউট করে নিজের উইকেট শিকারের খাতা খোলেন এই বোলার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই তিনি সাইফের উইকেটটি তুলে নেন, যা কিউইদের ম্যাচে দারুণভাবে এগিয়ে দেয়।
কেন লেনক্সের এই পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ?
নিউজিল্যান্ড দল যখন ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছিল, তখন লেনক্সের এই সাফল্য ছিল তাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। অধিনায়ক নিক কেলি তাকে আক্রমণে আনেন এবং লেনক্স আস্থার প্রতিদান দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি। সাইফ হাসান ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে টিম রবিনসনের হাতে ধরা পড়েন, যা লেনক্সকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক অবিস্মরণীয় শুরু উপহার দেয়।
অভিজ্ঞতা ও ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান
জেডেন লেনক্স কেন্দ্রীয় অঞ্চলের (Central Districts) একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। যদিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অভিষেক হয়েছে অপেক্ষাকৃত দেরিতে, তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান বেশ সমৃদ্ধ। ৫৬টি ফার্স্ট ক্লাস উইকেট, ৮৪টি লিস্ট এ উইকেট এবং ৬৩টি টি-টোয়েন্টি উইকেট তার দক্ষতার প্রমাণ দেয়। এর আগে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজেও তিনি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে নজর কেড়েছিলেন। যেখানে তিনি ৪.১২ ইকোনমি রেটে বোলিং করে ৫টি ম্যাচে ৮টি উইকেট নিয়েছিলেন।
ভবিষ্যতের হাতছানি
নিউজিল্যান্ডের নিয়মিত স্পিনার মিচেল স্যান্টনার কাঁধের ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকায় লেনক্সের সামনে এখন বড় সুযোগ। স্যান্টনারের অনুপস্থিতি এবং লেনক্সের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে আসন্ন টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে। দলের প্রয়োজনে যেকোনো ফরম্যাটে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মুখে বল করার মানসিকতা তাকে কিউই দলের জন্য ভবিষ্যতে অন্যতম প্রধান অস্ত্র করে তুলতে পারে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট
সিরিজের এই শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড বেশ আক্রমণাত্মক শুরু করেছিল। যদিও বৃষ্টির কারণে খেলা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তবুও বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। নাথান স্মিথের জোড়া আঘাত এবং লেনক্সের প্রথম বলেই উইকেট শিকারের পর, ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। বৃষ্টির বিরতির আগ পর্যন্ত স্বাগতিকরা ৫০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বেশ ধুঁকছিল।
সব মিলিয়ে, জেডেন লেনক্সের এই অভিষেক কেবল একটি রেকর্ডের গল্প নয়, এটি একটি পরিশ্রমী ক্রিকেটারের ধৈর্যের ফসল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার এই উজ্জ্বল যাত্রা কতদূর এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments