মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
আইপিএল ২০২৬-এর শিরোপার দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। তবে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে এসে তাদের পারফরম্যান্স যেন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সমর্থকদের। হিমাচল প্রদেশে পাঞ্জাব কিংসের ঘরের মাঠে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স যে দাপট দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বল হাতে শার্দূল ঠাকুর এবং ব্যাট হাতে তিলক ভার্মার বীরত্বে পাঞ্জাবকে হারিয়েছে মুম্বাই। ২০০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হাতে মাত্র এক বল রেখে ৪ উইকেটে জয় নিশ্চিত করেছে ‘টিম ইন ব্লু’।”
রেকর্ড বইয়ে মুম্বাইয়ের নাম
ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে জেতার ক্ষেত্রে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এখন টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম সফল দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে জেতার তালিকায় পাঞ্জাব কিংস ১১টি জয় নিয়ে শীর্ষে থাকলেও, মুম্বাই তাদের ৮টি জয় নিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসছে। এই তালিকার শীর্ষে থাকা দলগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও উল্লেখযোগ্য। মুম্বাইয়ের এই জয় তাদের মনোবল অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পাঞ্জাব কিংসের টানা ব্যর্থতা
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের শুরুতে অজেয় থাকা পাঞ্জাব কিংস এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি তাদের টানা পঞ্চম হার। ২০২২ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পর আইপিএলের ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা পাঁচ জয়ের পর টানা পাঁচ ম্যাচে হারল পাঞ্জাব। পয়েন্ট টেবিলে এখন তারা চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে, যা তাদের ভক্তদের জন্য কিছুটা হতাশাজনক।
অধিনায়ক বুমরাহর আত্মবিশ্বাস
হার্দিক পান্ডিয়া এবং সূর্যকুমার যাদবের অনুপস্থিতিতে এই ম্যাচে মুম্বাইয়ের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলেছেন জসপ্রীত বুমরাহ। ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দে ভাসতে দেখা গেছে এই তারকা পেসারকে। নিজের অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বুমরাহ মজার ছলেই ওয়ানডে অধিনায়কত্বের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “আমি টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন শুধু ওয়ানডে ফরম্যাটটাই বাকি। তবে আমি মনে করি না এটা কখনো ঘটবে (হাসি)। তবে সত্যি বলতে, অধিনায়কত্ব উপভোগ করেছি।”
তিলক ভার্মার ম্যাজিক
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংসটি খেলেছেন তিলক ভার্মা। ৩৩ বলে অপরাজিত ৭৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে মুম্বাইকে জয় উপহার দিয়েছেন তিনি। তার এই ইনিংসের প্রশংসা করে বুমরাহ বলেন, “তিলক যেভাবে স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেছে, তা অবিশ্বাস্য। উইকেটের অপর প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও সে নিজের স্থিরতা বজায় রেখেছে। উইল জ্যাকসের ছোট কিন্তু কার্যকর ক্যামিও জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।”
বোলারদের মধ্যে শার্দূল ঠাকুরের কথা না বললেই নয়। ৪ ওভারে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে পাঞ্জাবের রানের গতি আটকে দিয়েছিলেন তিনি। বুমরাহ জানান, তিলক এবং শার্দূলের অবদানই আজকের এই জয়কে সম্ভব করেছে। এই জয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স শিবিরের জন্য শুধুমাত্র একটি পয়েন্ট নয়, বরং তাদের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তারা ঠিক এভাবেই নিজেদের সেরাটা ধরে রাখতে চাইবে।
0 Comments