[CRK]

“আমি এরকম আগে কখনও দেখিনি” – এই কথাগুলো বললেন নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার ইশ সদি, আর তাঁর মন্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলার নহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের তারকা খেলোয়াড় বিস্মিত হয়েছেন এই তরুণ পেসারের গতি এবং ধারাবাহিকতা দেখে, বিশেষ করে এশিয়ার কঠিন পরিস্থিতিতে।

এশিয়ার পিচে এত গতি? অস্বাভাবিক কিন্তু সত্যি

বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য তো বটেই, ক্রমাগত ১৫০ কিমি/ঘন্টার কাছাকাছি গতিতে বোলিং করা স্থানীয় কোনো পেসারকে দেখলে তা বিশেষ আবেগের। কিন্তু এখন সেই আবেগ শুধু স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিউজিল্যান্ডের তারকা উইকেট-কিপার টম ল্যাথাম আগেই বিস্মিত হয়েছিলেন যখন জানতে পেরেছিলেন যে নহিদ রানা মাত্র ২৩ বছরের। এবার তাঁর সঙ্গী ইশ সদিও স্বীকার করলেন, এত উচ্চ গতি ধরে রাখা একজন বোলারের পক্ষে সাধারণত অসম্ভব – বিশেষ করে এখানকার মতো পিচে।

সদি বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত কাউকে এত ধারাবাহিকভাবে এশিয়ার পরিস্থিতিতে এত গতি বজায় রাখতে দেখিনি।” তিনি আরও জানান, মিরপুর বা চট্টগ্রামের মতো পিচগুলো সাধারণত অতি দ্রুত বোলিংয়ের পক্ষে নয়। এমনকি বিশ্বমানের কিছু পেসারও এখানে এত গতি ধরে রাখতে পারেননি। তাই নহিদ রানার পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বে কৌতূহল তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের নতুন পেস আক্রমণ

ইশ সদি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের পেসাররা খুবই চমকপ্রদ। তাঁদের বোলিং দেখে মনে হয়, তাঁরা যেকোনো দলের বিরুদ্ধেই চ্যালেঞ্জ হতে পারেন।” তিনি আগে নহিদকে বোলিং করতে দেখেননি, কিন্তু আন্তঃজাতীয় বৃত্তে তাঁর নাম শোনা যাচ্ছিল। “শুনেছি প্রতিটি বলই উচ্চ গতিতে ফেলেন নহিদ, আর তা তাঁর পুরো ওভারের মধ্যে ধরে রাখেন।

চ্যালেঞ্জ আছে, তবু প্রস্তুত নিউজিল্যান্ড

সদি আরও বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানদের সেরাটা দিতে হবে, আর জয় তুলে নিতে হবে। তবে বাংলাদেশ এখন আগের মতো নয়।” তিনি উল্লেখ করেন, এখন দলে অনেক নতুন মুখ, এবং পূর্বের সময়ের সাথে তুলনা করলে তাদের শক্তি বেড়েছে।

এক দশক আগে ২০১৩ সালে যখন প্রথমবার তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন দলটি ছিল ভিন্ন। এখন আর সেই দলের কেউ নেই। এটা মানতেই হবে যে বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রবল হয়ে উঠেছে।

নহিদ ও মুস্তাফিজুর ছাড়া নিউজিল্যান্ডের সাময়িক রেহাই

তবে ভাগ্যের দিক থেকে নিউজিল্যান্ডের জন্য সুসংবাদ এই যে, তারা তৈরির সিরিজে নহিদ রানা বা মুস্তাফিজুর রহমানকে মুখোমুখি হবে না। উভয়েই অনুপস্থিত। মুস্তাফিজুর ছিলেন ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের নায়ক, আর নহিদ ছিলেন গতির অভিনব উপহার। সদি স্বীকার করেন, তাঁদের উপস্থিতি চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলত।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “এটা নতুন দল, নতুন চ্যালেঞ্জ। মুস্তাফিজুরকে আমরা চিনি, পরিকল্পনা করতে পারি। কিন্তু এখন একেবারে নতুন আক্রমণ।”

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের উত্থান

সদি আবেগের সঙ্গে বলেন, “কিছু খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কম হতে পারে, কিন্তু এটাই তো ক্রিকেটের সৌন্দর্য—পরিবর্তন।” তাঁর মতে, বাংলাদেশ এশিয়ার মাঠে সবসময়ই একটি কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে নিউজিল্যান্ডের তরুণ খেলোয়াড়রা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং এশিয়ায় খেলার ধারাবাহিকতার মাধ্যমে নিজেদের মানিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ইশ সদি শুধু নহিদ রানাকেই নয়, গোটা দলকে সম্মান জানিয়েছেন। আর এই মর্যাদা তারা আগের চেয়ে বেশি ক্রেডিট অর্জন করেছেন পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।


Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *