[CRK] ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: ইডেন গার্ডেন্সে রিভার্স সুইংয়ের লড়াই
[CRK]
ইডেন গার্ডেন্সে নতুন লড়াইয়ের প্রতীক্ষা
ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন টেস্ট সিরিজ নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে দুই দলের লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর এই মাঠে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে, আর এই ম্যাচটি নিয়ে পিচ কিউরেটরদের পরিকল্পনা ও কন্ডিশন নিয়ে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।
পিচের চরিত্র ও রিভার্স সুইংয়ের সম্ভাবনা
ESPNcricinfo-এর তথ্য অনুযায়ী, ইডেনের ব্ল্যাক-সয়েল পিচটি ভালো বাউন্স উপহার দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ম্যাচের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর পিচটি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ম্যাচ শুরুর চার দিন আগে থেকেই পিচটিতে কোনো লাইভ ঘাস দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, খেলা শুরুর সময় সেখানে মাত্র দুই মিলিমিটার ঘাস অবশিষ্ট থাকবে। এই ধরণের পিচ সাধারণত দ্রুত রাফ হয়ে যায়, যা ফাস্ট বোলারদের জন্য রিভার্স সুইংয়ের দারুণ সুযোগ তৈরি করবে।
ফাস্ট বোলারদের স্বর্গরাজ্য কি ইডেন?
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে ইডেন গার্ডেন্সের টেস্টগুলোতে ফাস্ট বোলারদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি ছিল। এখানে খেলা সর্বশেষ ছয়টি লাল বলের টেস্টে ৯৭টি উইকেট পড়েছে, যার ৬১ শতাংশই নিয়েছেন পেসাররা। এছাড়া সকালের শীতল হাওয়া এবং সন্ধ্যার শেষ ঘণ্টার আবহাওয়া পেসারদের বল সুইং করানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তাই টস এখানে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে খুব বেশি ভূমিকা রাখবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তান সফরে স্পিন-বান্ধব পিচে দুর্দান্ত খেলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ভারতে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের স্পিন ত্রয়ী—সেনুরান মুথুসামি, কেশব মহারাজ এবং সাইমন হারমার—সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজ জেতার পর তাদের মনোবল তুঙ্গে। তবে ইডেনের পিচ পাকিস্তানের পিচের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় তাদের কৌশলও পরিবর্তন করতে হবে। ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড মিশ্র; ১৯৯৬ সালে তারা এখানে জিতলেও ২০০৪ এবং ২০১০ সালের সফরে পরাজিত হতে হয়েছিল তাদের।
গতানুগতিক ধারার বাইরে পিচ প্রস্তুতি
গত বছর নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ভারত এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। দিল্লি বা আহমেদাবাদের মতো পিচে ভারতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ইডেনে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। যদিও আউটফিল্ডটি দ্রুতগতি সম্পন্ন, কিন্তু ব্যাটসম্যানদের জন্য পিচ যত পুরনো হবে, ব্যাটিং তত কঠিন হয়ে পড়বে। ইডেন গার্ডেন্সে সবশেষ লাল বলের টেস্ট হয়েছিল ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যা ড্র হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে গোলাপি বলের টেস্ট অনুষ্ঠিত হলেও এবার চিরাচরিত লাল বলেই লড়াই হবে দুই শক্তির।
উপসংহার
দুই দলের শক্তির লড়াইয়ের পাশাপাশি ইডেনের এই নতুন পিচ কি রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফাস্ট বোলারদের রিভার্স সুইং এবং স্পিনারদের কারিকুরি—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর টেস্টের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব। ভারত কি তাদের ঘরের মাঠে আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে, নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের স্পিন শক্তি দিয়ে ভারতের ব্যাটারদের বোকা বানাবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মাঠের লড়াইয়ে।
