[CRK] এশিয়া কাপের নাটকীয়তা: হারিস রউফ নিষিদ্ধ, সূর্যকুমার ও বুমরাহ্-এর বিরুদ্ধে আইসিসি ব্যবস্থা
[CRK]
এশিয়া কাপের রেশ কাটেনি: শাস্তির মুখে ভারত-পাকিস্তানের তারকারা
ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ লড়াই হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ এবার মাঠের বাইরে আইসিসির দপ্তরে পৌঁছেছে। এশিয়া কাপ ২০২৫-এর তিনটি ম্যাচের চরম উত্তেজনা এবং খেলোয়াড়দের আচরণবিধি লঙ্ঘনের জেরে শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। এই শাস্তির তালিকায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান দলের গতি তারকা হারিস রউফ।
হারিস রউফের দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ
মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে হারিস রউফকে খেলতে দেখা যায়নি এবং আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচেও তিনি unavailable থাকবেন। রউফ মোট চারটি ডিমেয়ারিট পয়েন্ট অর্জন করেছেন, যা তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে।
আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, ২৪ মাসের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় যদি চারটি ডিমেয়ারিট পয়েন্ট অর্জন করেন, তবে তাকে দুই ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয়। রউফের এই পয়েন্টগুলো এসেছে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে দুটি আলাদা অপরাধ থেকে। যদিও আইসিসি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে যে এই ঘটনাগুলো ১৪ এবং ২৮ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে ঘটেছিল, তবে প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল ২১ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বরের ফাইনাল ম্যাচে।
রউফ আইসিসির আচরণবিধির আর্টিকেল ২.২১ লঙ্ঘন করেছেন, যা মূলত খেলাধুলার সম্মানহানি করার সাথে সম্পর্কিত। যেহেতু রউফ কোনো অভিযোগই স্বীকার করেননি, তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির পর এই কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূর্যকুমার, বুমরাহ্ এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
শুধুমাত্র হারিস রউফ নন, এশিয়া কাপের উত্তেজনার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আইসিসির নজরে এসেছেন। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব-এর বিরুদ্ধেও একই ধারায় (আর্টিকেল ২.২১) অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্যকুমারের কিছু মন্তব্যের কারণে তাকে দুটি ডিমেয়ারিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে, ফাইনাল ম্যাচে একটি অঙ্গভঙ্গির কারণে জাসপ্রিত বুমরাহ্ একটি ডিমেয়ারিট পয়েন্ট পেয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান একটি ডিমেয়ারিট পয়েন্ট এবং আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা পেয়েছেন ২১ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার জন্য। তবে মজার ব্যাপার হলো, আইসিসি এই ঘটনাটিকে ভুলবশত ১৪ সেপ্টেম্বরের বলে উল্লেখ করেছে।
আরশদীপ সিং-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ২১ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনার জন্য তার বিরুদ্ধে আর্টিকেল ২.৬ (অশ্লীল বা অপমানজনক অঙ্গভঙ্গি) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ শুনানির পর তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।
মাঠের উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন
এশিয়া কাপের এই তিনটি ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা মাঠের লড়াইকে ছাড়িয়ে রাজনৈতিক মাত্রায় পৌঁছেছিল। টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাথে করমর্দন (Handshake) করতে অস্বীকার করেন। পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি “খেলার স্পিরিটের পরিপন্থী”। এর জবাবে সূর্যকুমার যাদব দাবি করেন যে, “কিছু জিনিস স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের চেয়েও বড় হয়”।
এই সংঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট খেলোয়াড়দের করমর্দন করতে বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। যদিও আইসিসি এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এই টানাপোড়েনের ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচ এক ঘণ্টারও বেশি বিলম্বিত হয়েছিল, যতক্ষণ না পিসিবি (PCB) এবং আইসিসির মধ্যে সমঝোতা হয়।
ফাইনালের নাটকীয়তা এবং ট্রফি বিতর্ক
টুর্নামেন্টটি শেষ হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম এশিয়া কাপ ফাইনাল দিয়ে। শেষ ওভারের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ভারত জয়লাভ করলেও নাটকীয়তা সেখানেই শেষ হয়নি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। ভারত অধিনায়ক ও দলের খেলোয়াড়রা এসিসি (ACC) সভাপতি এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভী-র হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেন। নকভী নিজে ট্রফিটি হস্তান্তর করতে চাইলেও ভারতীয় দল তা গ্রহণ করেনি।
দীর্ঘ বিলম্বের পর ভারত ট্রফি ছাড়াই পোডিয়ামে উদযাপন করে। জানা গেছে, ট্রফিটি এখনও ভারতীয় দলের হাতে পৌঁছায়নি।
আগামীর পথচলা
বর্তমানে ফয়সালাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ চলছে। হারিস রউফ তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আবারও মাঠে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট কূটনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
