ইংল্যান্ড ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা
অ্যাশেজের ভরাডুবি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যৎ সাফল্যের লক্ষ্যে নতুন করে দল সাজাতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা নিয়োগ দিয়েছে নতুন জাতীয় নির্বাচক এবং নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য ঘোষণা করেছে এক নতুন চেহারার টেস্ট দল।
মার্কাস নর্থ: নতুন নির্বাচক হিসেবে এক চমক
ইংল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ব্যাটার মার্কাস নর্থের নিয়োগ ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি ব্যক্তি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তিনি। মার্কাস নর্থের দায়িত্ব হবে ইংল্যান্ডের মূল দলের পাশাপাশি বয়সভিত্তিক সব দলের জন্য খেলোয়াড় নির্বাচন করা। নর্থের ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি ডারহামের ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে বেন স্টোকসের সাথে কাজ করার সুবাদে ইংলিশ ক্রিকেটারদের সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রাখেন। বিশ্লেষকদের মতে, কাউন্টি ক্রিকেটের ফর্মকে এতদিন অবহেলার যে অভিযোগ নির্বাচকদের বিরুদ্ধে ছিল, তা কাটিয়ে উঠতেই এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের নতুন দল ও প্রত্যাশা
আসন্ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজের জন্য ইংল্যান্ডের দল গঠনে বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অ্যাশেজে ভরাডুবির পর জ্যাক ক্রলি ও ওলি পোপকে প্রথম টেস্টের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে দলে জায়গা পেয়েছেন তিন নতুন মুখ, যা দলের তরুণায় ভরসা রাখার ইঙ্গিত দেয়।
- এমিলিও গে: ইতালির হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভালো খেলা এই ওপেনারকে দলে নেওয়া হয়েছে।
- জেমস রিও: ২২ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার দীর্ঘ সময় ধরেই ইংলিশ ক্রিকেটে ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে বিবেচিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২টি সেঞ্চুরির মালিক রিও দলের গভীরতা বাড়াবেন।
- সনি বেকার: ২৩ বছর বয়সী এই পেস বোলার প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন।
ফাস্ট বোলিং ও স্পিন শক্তির পুনর্গঠন
ইংল্যান্ডের পেস বোলিং আক্রমণ বর্তমানে বেশ চাপের মুখে। জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডের অবসরের পর মার্ক উড ও ব্রাইডন কারসের ইনজুরি এবং জোফরা আর্চারের অনুপস্থিতিতে বোলিং লাইনআপ বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ম্যাথিউ ফিশার এবং সনি বেকারের মতো তরুণদের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি গাস অ্যাটকিনসন, ওলি রবিনসন ও জশ টাংয়ের ওপর থাকবে বোলিং আক্রমণের মূল দায়িত্ব। স্পিন বিভাগে শোয়েব বশিরের সাথে ফিরেছেন রেহান আহমেদ, যা ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই ভারসাম্য আনতে সাহায্য করবে।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তন
নতুনদের পাশাপাশি দলে অভিজ্ঞ ওলি রবিনসনের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করা রবিনসন ২২.৯২ গড়ে ৭৬ উইকেট শিকার করেছেন। সম্প্রতি কাউন্টি ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি নিজের ব্যাটিং সক্ষমতারও প্রমাণ দিয়েছেন। রেহান আহমেদও দলে ফিরেছেন, যার লেগ স্পিন ও ব্যাটিং দক্ষতা দলের জন্য বাড়তি পাওনা হতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
লর্ডসে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টটি ইংল্যান্ডের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। অধিনায়ক বেন স্টোকসের নেতৃত্বে এই নতুন দলটি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলো যথাক্রমে দ্য ওভাল ও নটিংহামে অনুষ্ঠিত হবে। ইংল্যান্ডের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নিজেদের জাত চেনানো। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে কাজ করে, তবে ইংল্যান্ড খুব দ্রুতই তাদের হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ইংল্যান্ড দলের বর্তমান স্কোয়াড: বেন স্টোকস (অধিনায়ক), রেহান আহমেদ, গাস অ্যাটকিনসন, সনি বেকার, শোয়েব বশির, জ্যাকব বেথেল, হ্যারি ব্রুক, বেন ডাকেট, ম্যাথিউ ফিশার, এমিলিও গে, জেমস রিও, ওলি রবিনসন, জো রুট, জেমি স্মিথ, জশ টাং।
0 Comments