News

[CRK] অ্যাশেজের চ্যালেঞ্জে নতুন রূপে ইংল্যান্ড: বেন ডাকেটের চোখে ‘বেজবল’ বিবর্তন

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

[CRK]

নতুন প্রজন্মের ইংল্যান্ড: অ্যাশেজের চ্যালেঞ্জ ও দৃষ্টিভঙ্গি

অ্যাশেজ সিরিজ মানেই স্নায়ুচাপের লড়াই। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করা যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ইংল্যান্ডের ওপেনার বেন ডাকেট এবারের সফরের আগে বেশ আশাবাদী। তার মতে, বর্তমান ইংল্যান্ড দল অতীতের তুলনায় অনেক বেশি পরিপক্ক। ‘বেজবল’ বা আক্রমণাত্মক ঘরানার ক্রিকেটের জন্য পরিচিত হলেও, দলটি এখন ‘বেপরোয়া’ তকমা ঝেড়ে ফেলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে শিখছে।

অতীতের বোঝা ছাড়াই নতুন শুরু

অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত ইংল্যান্ড দলে ১১ জন এমন খেলোয়াড় আছেন, যারা আগে কখনো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেননি। দলের গড় বয়স ২৮, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের গড় বয়স ৩৩। ডাকেট মনে করেন, অভিজ্ঞতার চেয়ে এই নতুনত্বই তাদের বড় শক্তি। ‘উইলো টক’ পডকাস্টে তিনি বলেন, “আমাদের দলে এমন সব খেলোয়াড় আছে যাদের মাথায় আগের কোনো ব্যর্থতার বোঝা নেই। আমি এই দলের চতুর্থ বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়, যা ভেবে শুরুতে অবাকই হয়েছিলাম। তবে এই সতেজ দলটাই আমাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।”

‘বেজবল’ কি কেবলই বিনোদন?

অনেকেই মনে করেন ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বা ‘বেজবল’ কেবলই বিনোদনমূলক। কিন্তু ডাকেট জানালেন, এই দর্শনের বিবর্তন ঘটছে। তিনি বলেন, “আমরা শুধু বিনোদন দিতে বা বেপরোয়াভাবে উইকেট বিলিয়ে দিতে চাই না। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আমাকে শিখিয়েছেন যে, আমার সামর্থ্য শুধু ৩০ বলে ৪০ রান করার চেয়েও বেশি। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত পড়া।”

ডাকেট উদাহরণ হিসেবে ভারতের বিপক্ষে গত গ্রীষ্মের কথা উল্লেখ করেন। “কখনো কখনো দিনের শেষে হাতে ৫ ওভার থাকে। তখন রান করার চেয়ে টিকে থাকা বেশি জরুরি। আমার অতীতে এমন কিছু ইনিংস আছে যেখানে ৬০ বলে ৮০ রান করে দারুণ দেখালেও দলের জন্য তা খুব একটা কাজে আসেনি। এখন আমি শিখছি কীভাবে দ্রুত রান না করে ক্রিজে টিকে থাকতে হয় এবং বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।”

বিশ্বের সেরা বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি

বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ওপেন করা যে কোনো ব্যাটারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। ডাকেট স্বীকার করেন, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কতটা কঠিন হতে পারে। তবে প্যাট কামিন্সের চোটের বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ মতামত দিয়েছেন। “কামিন্স বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। ওর মতো খেলোয়াড় না থাকাটা নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য একটা সুযোগ। তবে আমি চাই কামিন্স সুস্থ থাকুক, কারণ সেরাদের বিপক্ষে লড়াই করার আনন্দই আলাদা।”

বেন স্টোকসের ‘বিস্ট মোড’

ডাকেট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। স্টোকসকে তিনি দলের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অনুশীলনে স্টোকসের তীব্রতা দেখে ডাকেট অবাক। “স্টোকস এখন ‘বিস্ট মোড’-এ আছে। ও অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করছে। দৌড়ানোর পাশাপাশি টানা দুই স্পেল বোলিং এবং দুই ঘণ্টা ব্যাটিং—এই পর্যায়ে অনুশীলন করতে আগে কখনো কাউকে দেখিনি। অ্যাশেজের পাঁচটি টেস্টেই যদি ও সুস্থ থেকে বল করতে পারে, তবে তা আমাদের জন্য বিশাল প্রাপ্তি হবে।”

উপসংহার

অ্যাশেজ শুরু হতে আর দেরি নেই। ইংল্যান্ডের এই নতুন দল, যারা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত এবং কৌশলী, তারা কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়। ডাকেটের মতে, তারা কেবল বিনোদনের জন্য খেলছে না, বরং প্রতিটি মুহূর্তের গুরুত্ব বুঝে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। এই অ্যাশেজ ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের এক নতুন মোড় হতে পারে।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.