[CRK] বিপিএল ২০২৫-২৬: মাত্র পাঁচটি দল নিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে এবারের আসর
[CRK]
বিপিএল ২০২৫-২৬: বড় পরিবর্তনের মুখে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আবারও আলোচনায়। ২০২৫-২৬ মৌসুমের বিপিএল নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এবারের আসরে দলের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে সাত থেকে পাঁচে। এর ফলে বিপিএলের কলেবর কিছুটা ছোট হয়ে আসছে, যা নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তালিকা ও মালিকানায় পরিবর্তন
বিসিবির মিডিয়া বিভাগ গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণকারী পাঁচটি দলের নাম ঘোষণা করেছে। নতুন এই তালিকায় গতবারের সব দল জায়গা পায়নি। ঢাকার প্রতিনিধিত্ব করছে ঢাকা ক্যাপিটালস এবং রংপুরের প্রতিনিধিত্ব করবে রংপুর রাইডার্স। এই দুটি দল গত ২০২৪-২৫ মৌসুমের ধারাবাহিকতায় এবারও টুর্নামেন্টে টিকে রয়েছে। তবে অন্য তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। মালিকানা পরিবর্তনের কারণে আগের চিটাগং কিংস, দুর্বার রাজশাহী এবং সিলেট স্ট্রাইকার্স এবার টুর্নামেন্টে থাকছে না। তাদের জায়গায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং সিলেট টাইটানস।
যাঁরা বাদ পড়লেন
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, গত দুই আসরের টানা চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল এবার বিপিএলে থাকছে না। তাদের সাথে তালিকার বাইরে চলে গেছে খুলনা টাইগার্স। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলের অনুপস্থিতি এবারের টুর্নামেন্টকে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিসিবি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দলগুলোর তালিকা প্রকাশ করলেও, নতুন মালিকদের পরিচয় বা তাদের চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
খেলোয়াড় ড্রাফট ও টুর্নামেন্টের সময়সূচি
দল গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিপিএল ২০২৫-২৬ আসরের খেলোয়াড় ড্রাফট। এই দিনটিতেই নির্ধারিত হবে কোন তারকা ক্রিকেটার কোন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে মাঠে নামবেন। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল টুর্নামেন্ট শুরু করার সম্ভাব্য সময়ও চূড়ান্ত করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর ২০২৫-এর মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি ২০২৬-এর মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে এই উত্তেজনাপূর্ণ টুর্নামেন্ট।
টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
বিপিএলের মতো একটি বড় আসরে দলের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের বাদ পড়া অনেককেই ভাবিয়ে তুলছে। ক্রিকেটের প্রসার ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখার জন্য এই পরিবর্তন কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে দলগুলোর নতুন মালিকানা এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নামের পরিবর্তন সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে গড়ানো এই টুর্নামেন্ট কতটা দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে।
ক্রিকেট প্রেমীদের চোখ এখন ১৭ নভেম্বরের খেলোয়াড় ড্রাফটের দিকে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোন কৌশল অবলম্বন করে দল সাজায় এবং কাদের অধীনে মাঠে নামে, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট নতুন রূপে কতটা প্রাণবন্ত হয়, তার অপেক্ষায় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।
