[CRK]
“আমরা এগিয়ে গেছি” – এই কথাগুলোই সবচেয়ে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আর পিছনে ফিরে তাকাচ্ছে না। ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপ থেকে অনুপস্থিতি ছিল একটি কষ্টদায়ক ঘটনা, তবুও দল ও কর্তৃপক্ষ এখন মনোনিবেশ করেছে পরবর্তী বড় লক্ষ্যে – ২০২৮ টি২০ বিশ্বকাপ।
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বাদ: ঘটনার ধারাবাহিকতা
বাংলাদেশ টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ খেলতে পারেনি, যদিও টুর্নামেন্টের জন্য আগাম প্রস্তুতি চলছিল। তবে অপ্রত্যাশিত ঘটনাবলি সেই স্বপ্ন থমকে দেয়। গোড়া ঘটনাটি শুরু হয় ৩ জানুয়ারি তারিখে, যখন বিসিসিআই (BCCI) কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি সেই নির্দেশ মেনে নেয় এবং দ্রুতই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
প্রতিক্রিয়া হিসেবে, BCB আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-কে জানায় যে, দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে না। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা, ইমেইল এবং সরাসরি বৈঠকের পরেও বাংলাদেশ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। এরপর, ICC বাংলাদেশের স্থলে টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডকে নেয়।
২০২৮-এর জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ
যেখানে ঘটনাগুলো থমকে দাঁড়াল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ। আগামী ২০২৮ টি২০ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে। এই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই যোগ্যতা অর্জন করেছে, এবং দলপ্রধান লিটন দাস-এর নেতৃত্বে তৈরি হচ্ছে একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎমুখী কাঠামো।
ক্যাপ্টেন লিটন দাসের মনোভাব
নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে এক সাক্ষাৎকারে লিটন দাস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “আমরা সবাই ওই বিশ্বকাপ থেকে এগিয়ে গেছি। সেই সময়ে আমরা একটি টুর্নামেন্ট খেলেছিলাম, যেখানে খেলোয়াড়রা ভালো ক্রিকেট খেলার উপর ফোকাস করেছিল। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমি বিশ্বাস করি, খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের জন্য বিজয়ী মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ২০২৮ বিশ্বকাপ। আমরা জানি, এটা আসিয়াতে হবে না, তাই আমরা তার সাথে মানিয়ে নেব। আমাদের আগের দল বন্ডিং ভালো ছিল, প্রস্তুতি ছিল দৃঢ়। আমরা সেটা এগিয়ে নিতে চাই।”
টি২০তে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
দীর্ঘ বিরতির পর টি২০ ক্রিকেটে ফিরে আসার প্রসঙ্গে লিটন বলেন, “হ্যাঁ, অনেকদিন আমরা টি২০ খেলিনি। প্রথম কয়েকটি ম্যাচে বেশি চাপ দেওয়া হবে না। যখন খেলোয়াড়রা কয়েকটি ম্যাচ খেলবে, তখন তাদের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাবে। এ বছর আমাদের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ৯টি টি২০ ম্যাচ, যা খুবই ইতিবাচক। একবার গতি পেলে, পরের সিরিজগুলো সহজ হবে।”
নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “বোর্ডের সাথে এ বিষয়ে বেশি আলোচনা হয়নি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মনে করেছে আমি সঠিক ব্যক্তি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করব। ২০২৬-এর জন্য যেভাবে প্রস্তুতি ছিল, একইভাবে ২০২৮-এর জন্য প্রস্তুতি নেব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমার কাছে অনেক স্বাধীনতা আছে। আমি বাছাইকর্তাদের ও কোচদের সাথে একসাথে দল গড়ছি। সবাই একসাথে কাজ করছে। ব্যাটসম্যানরা যদি তাদের ভূমিকা পালন করে, তাহলে তাদের নিম্নক্রমের উপর নির্ভর করতে হবে না। আর বোলাররা যদি কাজ করে, তাহলে ব্যাটসম্যানদের উপর ভার পড়বে না।”
পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায়
বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচে ২৭ এপ্রিল মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এটি তিন ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এই সিরিজ হবে নতুন প্রস্তুতির প্রথম ধাপ – যেখানে প্রতিটি ম্যাচই হবে ২০২৮ বিশ্বকাপের পথে একটি স্টেশন।
দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা, এইবার বাংলাদেশ পুনরুজ্জীবিত হবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। এবং লিটন দাসের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া এই নতুন দল, একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জয়ধ্বনি করবে।
0 Comments