পাকিস্তানের ক্রিকেটে কি নতুন হাওয়া?
ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের পরাজয়টি ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ২৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে সফরকারীদের। এই হারের পরেই শান মাসুদের অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট মহলে এখন জোর গুঞ্জন, আবারও টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফিরতে পারেন বাবর আজম।
অধিনায়কত্বের পরিবর্তনের গুঞ্জন
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অন্দরমহলে বাবর আজমকে পুনরায় টেস্ট অধিনায়ক করার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার এর আগে ২০টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান, যা তার অধিনায়ক হিসেবে ৫০ শতাংশ সাফল্যের হার নির্দেশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা বাবরকে আবারও দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যদি বাবর পরবর্তী টেস্টে ফিট থাকেন এবং ব্যাট হাতে ভালো পারফরম্যান্স করেন, তবে এই দাবি আরও জোরালো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ব্যাটিং বিপর্যয় ও নাহিদ রানার দাপট
প্রথম টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ইমাম-উল-হক মাত্র ২ রান করে তাসকিন আহমেদের শিকার হন। তরুণ ব্যাটার আজান আওয়াস ১৫ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের ষষ্ঠ উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফেরেন। আবদুল্লাহ ফজল দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
অন্যদিকে, বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা তার গতি এবং বাউন্স দিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের নাজেহাল করে ছাড়েন। মাত্র ৯.৫ ওভারে ৪০ রান খরচ করে ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। শান মাসুদ, সাউদ শাকিল এবং মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের তিনি পরাস্ত করেন। নোমান আলী এবং শাহিন আফ্রিদিকে আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন এই উদীয়মান পেসার।
শান মাসুদের ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী শেষ টেস্ট শুরু হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচে পাকিস্তান দলের লক্ষ্য থাকবে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে ড্র করা। তবে শান মাসুদের জন্য এই ম্যাচটি কেবল অধিনায়ক হিসেবে নয়, বরং দলে নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াইও হতে পারে। হারের পর মাসুদ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, দল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখনই সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগাতে পারিনি। বোলারদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না, কিন্তু এমন উইকেটে সুযোগ বারবার আসে না, আর আমরা তা নিতে ব্যর্থ হয়েছি।’
সিরিজের গুরুত্ব
২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। এবারও সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নেওয়ায় স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। অন্যদিকে, পাকিস্তান শিবির এখন চরম চাপের মুখে। বাবর আজম পুনরায় নেতৃত্বের দায়িত্ব নিলে পাকিস্তান ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে কি না, তা দেখার জন্য ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কাটিয়ে পাকিস্তান শেষ ম্যাচে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সামগ্রিকভাবে, পাকিস্তানের ক্রিকেটে এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। ব্যর্থতার গ্লানি মুছে সিরিজ ড্র করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শান মাসুদ কি তার শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন, নাকি নেতৃত্বের ব্যাটন আবারও বাবরের হাতে ফিরে যাবে? উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সিলেট টেস্টের শেষ পর্যন্ত।
0 Comments