আইপিএল ২০২৬: আরসিবির সাফল্যের কৃতিত্ব দাবি করে বিতর্কে অম্বাতি রাইডু
আইপিএল ২০২৬-এর আসরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটি ইতিমধ্যেই প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন মাঠের বাইরের এক মন্তব্য নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আরসিবির এই সাফল্যের কৃতিত্ব দাবি করে বসেছেন প্রাক্তন চেন্নাই সুপার কিংস তারকা অম্বাতি রাইডু, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ভারতের প্রাক্তন পেসার ডোড্ডা গণেশ।
রাইডুর মন্তব্যের নেপথ্যে
সম্প্রতি ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সাথে আলাপচারিতায় রাইডু দাবি করেন, আরসিবি আজ যে সাফল্য পাচ্ছে, তার পেছনে সিএসকে সমর্থকদের গঠনমূলক সমালোচনার বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরাই চেয়েছিলাম আরসিবি ভালো করুক এবং আমরাই সত্য কথাগুলো তুলে ধরেছিলাম। আমাদের সমালোচনার কারণেই আরসিবি বুঝতে পেরেছিল যে তাদের কেমন দল গঠন করা প্রয়োজন। আজ তারা সফল, তাই তাদের উচিত আমাদের ধন্যবাদ জানানো। রাইডুকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয় তিনি কি আরসিবির সাফল্যের কৃতিত্ব নিতে চান? উত্তরে তিনি দ্বিধাহীনভাবে জানান, হ্যাঁ, অবশ্যই। তার দাবি, তাদের সমালোচনা যুক্তিযুক্ত ছিল এবং আরসিবি এখন তার সুফল পাচ্ছে।
ডোড্ডা গণেশের কড়া জবাব
রাইডুর এই অদ্ভুত দাবি মেনে নিতে পারেননি প্রাক্তন ভারতীয় বোলার ডোড্ডা গণেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) রাইডুর মন্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে তিনি একটি পুরনো প্রবাদ মনে করিয়ে দেন। গণেশ লেখেন, সাফল্যের অনেক বাবা থাকে (Success has many fathers)। অর্থাৎ, অন্যের পরিশ্রমের ফসল নিজেদের নামে চালিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকেই তিনি কটাক্ষ করেছেন। তার এই মন্তব্য ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আরসিবির বর্তমান ফর্ম
রাইডু যাই দাবি করুন না কেন, আরসিবির বর্তমান সাফল্যের কারণ তাদের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় পারফরম্যান্স। রায়পুরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে আরসিবি। সেই ম্যাচেও বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি এবং দলের সামগ্রিক ব্যাটিং দক্ষতা ছিল দেখার মতো। রিংকু সিং বা অংকৃষ রাঘুবংশীদের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা কেকেআরের হয়ে লড়লেও, ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে আরসিবির ব্যাটাররা কোনো বিপদে পড়েনি। দেবদত্ত পাডিক্কালের সাথে কোহলির জুটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
ভবিষ্যৎ পথচলা
আইপিএল ২০২৬-এর লিগ পর্যায়ে আরসিবির হাতে আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে একটি ম্যাচ হবে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ধরমশালায়, অন্যটি সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে হায়দ্রাবাদে। প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে আর মাত্র একটি জয়ই যথেষ্ট তাদের জন্য। আরসিবির এই জয়রথ কি শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয়ে শেষ হবে? নাকি রাইডুর মতো বাইরের মানুষের কৃতিত্বের দাবি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।
ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ এবং মাঠের বাইরের নাটকীয়তা সবসময়ই আইপিএলের অংশ। তবে দলের সাফল্যের আসল কৃতিত্ব সবসময়ই খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরিকল্পনার ওপরই বর্তায়। অম্বাতি রাইডুর মন্তব্য হয়তো ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এসেছে, কিন্তু গণেশের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটারদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এটি স্পষ্ট করে যে, সাফল্য সবসময়ই কঠোর পরিশ্রমের দাবি রাখে, কোনো মৌখিক সমালোচনার নয়।
আরসিবির এই মরসুমটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আসা রান এবং দলের সামগ্রিক ভারসাম্য তাদের এই লিগে অপরাজেয় করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ম্যাচগুলোতে তারা নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না।
0 Comments