আকেল হোসেনের উত্থান ও ডোয়াইন ব্রাভোর ভূমিকা
চলতি আইপিএল ২০২৬ মৌসুমে চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ স্পিনার আকেল হোসেন। ৩৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার মাঠের পারফরম্যান্সে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে তার ৪/১৭ রানের বিধ্বংসী স্পেলটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে। সেই ম্যাচে তার বোলিং তোপে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়েছিল এবং চেন্নাই ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
মানসিক শক্তি জোগালেন ব্রাভো
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে জয়ের পর আকেল হোসেন খোলাখুলি কথা বলেছেন তার উন্নতির নেপথ্যে থাকা মানুষটির ব্যাপারে। তিনি জানান, দলের প্রাক্তন তারকা এবং বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মেন্টর হিসেবে কাজ করা ডোয়াইন ব্রাভো তাকে কীভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছেন। জিও-হটস্টারের সাথে আলাপকালে আকেল বলেন, ‘ব্রাভো আমাকে পরামর্শ দিয়েছিল পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোতে সাহসী হতে। স্পিনারদের জন্য এই সময়ে বল করা বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ ব্যাটাররা সব সময় আক্রমণাত্মক থাকে। কিন্তু ব্রাভো আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের পরিকল্পনায় স্থির থাকতে হয়।’
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের প্রশংসায় আকেল
আকেল হোসেনের বোলিং শৈলী মুগ্ধ করেছে খোদ ভারতীয় স্পিন কিংবদন্তি রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে নতুন বলে আকেলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অশ্বিন। তিনি বলেন, ‘পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোতে আকেলই ম্যাচের সুর নির্ধারণ করে দেয়। বিশেষ করে লোকেশ রাহুলের মতো ব্যাটারকে শুরুতে আউট করাটা ছিল টার্নিং পয়েন্ট।’ অশ্বিন আরও যোগ করেন যে, পিচের সুবিধা বুঝে আকেল যেভাবে নিজের বৈচিত্র্য ব্যবহার করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আর্দ্র পিচেও তিনি খুব বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করেছেন।
পাওয়ারপ্লে-তে কেন এতো ভয়ংকর আকেল?
চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড চলতি মৌসুমে আকেল হোসেনকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করছেন। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই মৌসুমে আকেলের ইকোনমি রেট মাত্র ৭.২৪। পাওয়ারপ্লে-র মতো কঠিন সময়ে ব্যাটাররা তাকে সহজে আক্রমণ করতে পারছেন না। আকেল নিজেই ব্যাখ্যা করেন, ‘যেসব পিচে বল তেমন ঘোরে না, সেখানে মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং নিজের কৌশলে অটল থাকা খুব জরুরি। উইকেটের লোভে অতিরিক্ত কিছু করতে গিয়ে পরিকল্পনার বাইরে যাওয়া যাবে না। ধৈর্যই এখানে সাফল্যের চাবিকাঠি।’
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দলের ভারসাম্য
আকেল হোসেনের মতো একজন স্পিনার যখন নতুন বলে এত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, তখন দলের অধিনায়ক গায়কোয়াড অনেক বেশি স্বাধীনতা পান। পাওয়ারপ্লে-র ভেতর নিজের কোটার বেশিরভাগ ওভার শেষ করে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের বড় উইকেট তুলে নেওয়া আকেলের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সিএসকে সমর্থকরা আশা করছেন, মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতেও আকেল হোসেন তার এই দুর্দান্ত ছন্দ বজায় রাখবেন এবং হলুদ জার্সিতে আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেবেন। তার এই সাহসিকতা এবং ব্রাভোর দেওয়া দিকনির্দেশনা চেন্নাইকে এবারের আইপিএলের শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
0 Comments