আইপিএল ২০২৬: পাঞ্জাব কিংসের ছন্দপতন ও সংকটের নেপথ্য
আইপিএল ২০২৬-এর শুরুতে যে পাঞ্জাব কিংসকে দেখা গিয়েছিল, তাদের বর্তমান পারফরম্যান্স তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ধারাবাহিকভাবে টানা পাঁচটি ম্যাচ হেরে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে নেমে গেছে দলটি। বিশেষ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ধর্মশালায় সর্বশেষ হারটি দলের ক্যাম্পকে বেশ চাপে ফেলেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে দলের সহকারী কোচ ব্র্যাড হ্যাডিন বারবার একটি কথাই বলছেন, ‘আমাদের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’
চাপের মুখে নুয়ে পড়ছে পাঞ্জাব
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাড হ্যাডিন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, পাঞ্জাব কিংসের খেলোয়াড়রা গত কয়েকটি ম্যাচে চাপের মুখে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টটাই চাপের। এই পর্যায়ে এসে বড় মুহূর্তগুলো সামলানোর সক্ষমতা থাকা জরুরি। আমরা শেষ কয়েকটি ম্যাচে সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছি।’
তবে আশার কথা হলো, টুর্নামেন্টের শুরুতে পাওয়া জয়গুলো তাদের এখনো প্লে-অফের দৌড়ে টিকিয়ে রেখেছে। হ্যাডিন জানান, এখনই হার মানার সুযোগ নেই। তাদের হাতে দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং ভাগ্য এখন তাদের নিজেদের হাতেই।
ব্যাটিং লাইনআপের ছন্দপতন
এক সময় দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ২৬৪ রান তাড়া করে জেতা পাঞ্জাব আজ রান তোলার জন্য রীতিমতো লড়াই করছে। ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে শ্রেয়াস আইয়ারের ফিনিশিং—সবকিছুতেই যেন ভাটা পড়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষক মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান মনে করেন, ব্যাটাররা তাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাবের ব্যাটারদের মধ্যে আগের মতো সেই তীব্রতা বা ইনটেন্ট দেখা যাচ্ছে না। তারা যেন টপ অর্ডারে একটু দিশেহারা হয়ে পড়েছে।’
ইউভেন্দ্র চাহালের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
পাঞ্জাব কিংসের টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার অভিনব মুকুন্দ। বিশেষ করে লেগ স্পিনার ইউভেন্দ্র চাহালকে ব্যবহারের ধরনে বড় ঘাটতি দেখছেন তিনি। ম্যাচে চাহাল ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিলেও, তাকে দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র হিসেবে সঠিক সময়ে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
- চাহালের কোটা শেষ না করা: তিলক ভার্মা এবং শেরফেন রাদারফোর্ডের মতো বাঁহাতি ব্যাটাররা ক্রিজে থাকার সময় চাহালকে বল না দেওয়াটা ছিল একটি বড় ভুল।
- কৌশলগত সীমাবদ্ধতা: ইমপ্যাক্ট সাব হিসেবে অন্য কাউকে না নামাতে পারায় দলের বোলিং কম্বিনেশনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।
- অভিজ্ঞতার অভাব: লকি ফার্গুসন, জেভিয়ার বার্টলেট বা বেন ডোয়ারশুইসের মতো বোলারদের বিভিন্ন শক্তিমত্তা থাকলেও, অধিনায়ক তাদের কোন সময়ে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় থাকছেন।
প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ
পাঞ্জাব কিংসের সামনে এখন আর কোনো ‘আগামীকাল’ নেই। পরবর্তী দুই ম্যাচ তাদের জন্য ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে। আরসিবির বিপক্ষে ধর্মশালায় এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোতে পাঞ্জাবকে তাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে।
হ্যাডিনের ভাষায়, ‘আমাদের আর লুকানোর সুযোগ নেই। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। পরের দুই ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে আমাদের প্লে-অফে যাওয়ার সুযোগ অর্জন করতে হবে।’ এখন দেখার বিষয়, পাঞ্জাব কিংস কি তাদের এই দুঃসময় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি আইপিএল ২০২৬ থেকে তাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠে।
0 Comments