সাসেক্সের দাপুটে জয়: লেস্টারশায়ারকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় উন্নতি
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সাসেক্স আরও একটি জয়ের দেখা পেয়েছে। হোভে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা লেস্টারশায়ারকে সাত উইকেটে পরাজিত করেছে। বৃষ্টির পূর্বাভাস ও কয়েক দফায় খেলা বন্ধ থাকার পরও লক্ষ্য তাড়ায় কোনো ভুল করেনি সাসেক্স। মাত্র ১৫.৩ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৩১ রানের লক্ষ্য অতিক্রম করে দলটি। এটি চলতি মৌসুমে সাসেক্সের তৃতীয় জয় এবং লেস্টারশায়ারের বিপক্ষে তাদের দ্বিতীয় জয়।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও নাটকীয়তা
ম্যাচের চূড়ান্ত দিনে বৃষ্টির লুকোচুরি ছিল লক্ষণীয়। লেস্টারশায়ার তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২২২ রানে অলআউট হলে সাসেক্সের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩১ রান। তবে লক্ষ্য তাড়ায় নামার আগেই বেশ কিছু নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম হয়। আম্পায়ার সুরেন্দিরান শানমুগাম এবং মাইকেল গফ সাসেক্সকে পাঁচ রানের পেনাল্টি দেন। লেভেলের ২ শৃঙ্খলাজনিত অপরাধের কারণে এই জরিমানা যোগ করা হয় লেস্টারশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংসের স্কোরে।
তবে এই পেনাল্টি সাসেক্সের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। টম ক্লার্ক এবং ড্যানিয়েল ইব্রাহিম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন। বৃষ্টির কারণে খেলা দুইবার বন্ধ থাকলেও, মাঠে ফেরার পর তারা বোলারদের ওপর চড়াও হন। বিশেষ করে বেন গ্রিন এবং ইয়ান হল্যান্ডের ওভারে বেশ কিছু বাউন্ডারি ও ছক্কা হাঁকিয়ে দলীয় রান দ্রুত এগিয়ে নেন তারা। ক্লার্ক ৩০ বলে ৩৯ রান করে আউট হন এবং ইব্রাহিম ৪৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। শেষপর্যন্ত জেমস কোলসের অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংসে ভর করে জয় নিশ্চিত হয় সাসেক্সের।
বোলারদের আধিপত্য ও রবিনসনের জাদু
সাসেক্সের জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তাদের বোলাররা। চতুর্থ দিনে ১৫৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করা লেস্টারশায়ারকে দ্রুত গুটিয়ে দেন সাসেক্সের বোলাররা। দিনের প্রথম ওভারেই ওলি রবিনসন দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে জনি ট্যাটারসালকে বোল্ড করে বিপদে ফেলেন লেস্টারশায়ারকে।
রবিনসনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও ছিল দারুণ সমন্বয়। স্টিভ এসকিনাজির উইকেট পতনের মুহূর্তটি ছিল বেশ নাটকীয়। রবিনসনের ফলো-থ্রুতে বল লেগেছিল তার বুটে, সেই সুযোগে রান নেওয়ার চেষ্টায় এসকিনাজি ও বেন কক্স একই প্রান্তে চলে আসেন। ফিন হাডসন-প্রেন্টিসের নিখুঁত থ্রোতে এসকিনাজি রান আউট হয়ে ফিরে যান।
শেষের লড়াই ও সাসেক্সের দাপট
লেস্টারশায়ারের টেল-এন্ডাররা কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। বেন কক্স লেজের ব্যাটারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান। শেষ উইকেটে টম হেলমের সঙ্গে তার জুটি দলীয় স্কোর কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে রবিনসন দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নিতেই লেস্টারশায়ারের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। শেষ পর্যন্ত রবিনসন এবং হাডসন-প্রেন্টিস উভয়ই সমান তিনটি করে উইকেট ভাগ করে নেন। জ্যাক কারসনও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়েছেন।
সাসেক্স তাদের প্রথম ইনিংসে ৪২০ রান করেছিল, যেখানে ড্যানিয়েল হিউজ ১৩৬ এবং সিম্পসন ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। সেই বিশাল লিডই শেষ পর্যন্ত লেস্টারশায়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল সাসেক্স। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শিরোপার লড়াইয়ে তারা বড় দাবিদার হিসেবে থাকবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা।
ম্যাচের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিচার করলে দেখা যায়, সাসেক্সের ব্যাটার ও বোলারদের সঠিক সমন্বয়ই তাদের এই জয়ের নেপথ্যে কাজ করেছে। বৃষ্টির কারণে খেলা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও মানসিকভাবে শক্ত থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছে দলটি। আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ বজায় রাখতে চায় সাসেক্স।
0 Comments