এজবাস্টনে ওয়ারউইকশায়ারের দাপুটে পারফরম্যান্স
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে এজবাস্টনে এক অভাবনীয় দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। প্রথম দিনে ম্যাচে ব্যাকফুটে থাকা ওয়ারউইকশায়ার পরবর্তী দুই দিনে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা কাউন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। স্যাম হেইন এবং ইথান ব্যাম্বারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইয়র্কশায়ার এখন পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে।
স্যাম হেইনের বীরত্বপূর্ণ ইনিংস
ওয়ারউইকশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংসের বিশাল সংগ্রহের মূল কারিগর ছিলেন স্যাম হেইন। তিনি ৩১৯ বল মোকাবিলায় অপরাজিত ১৬৪ রানের একটি ধ্রুপদী ইনিংস উপহার দিয়েছেন, যা তার ক্যারিয়ারের ২০তম প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি। হেইনের এই ম্যারাথন ইনিংস স্বাগতিকদের ম্যাচে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন এড বার্নার্ড এবং জেন মালিক। বার্নার্ড ৬০ রান এবং মালিক ৫৭ রান করে দলের সংগ্রহকে ৫৩৩ রানে নিয়ে যান। তাদের এই ব্যাটিং দৃঢ়তা ইয়র্কশায়ারের বোলারদের সম্পূর্ণ অসহায় করে ফেলেছিল।
ইথান ব্যাম্বারের বোলিং তোপ
জয়ের জন্য ৫৪৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইয়র্কশায়ার শুরুতেই বিপদে পড়ে। ওয়ারউইকশায়ারের পেসার ইথান ব্যাম্বার নতুন বলে অগ্নিঝরা বোলিং শুরু করেন। মাত্র ২২ বলে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ইয়র্কশায়ারের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন। ১৪ রানের মাথায় ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া ইয়র্কশায়ার দলের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এরপর হ্যারি ব্রুক এবং জনি বেয়ারস্টোর উইকেট পতনে ইয়র্কশায়ারের জয়ের সব আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। চতুর্থ দিনের শেষে ইয়র্কশায়ার ৯৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের প্রহর গুনছে।
ম্যাচের নাটকীয় মোড়
ম্যাচটি যেন দুই ভিন্ন মেরুর গল্পের সমষ্টি। প্রথম দিনে ইয়র্কশায়ার যেখানে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছিল, সেখানে পরের দুই দিন ওয়ারউইকশায়ার তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটিং ব্যর্থতা থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তারা অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। স্যাম হেইনের ধৈর্যশীল ব্যাটিং এবং বার্নার্ডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মিশেলে ওয়ারউইকশায়ার বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, ইয়র্কশায়ারের বোলাররা এই রান আটকানোর জন্য তেমন কোনো কার্যকর পরিকল্পনা দেখাতে পারেননি।
শেষ দিনের সমীকরণ
ম্যাচের শেষ দিনে ইয়র্কশায়ারের প্রয়োজন আরও ৪৫১ রান। যদিও ক্রিকেটে অসাধ্য বলে কিছু নেই, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এটি একটি অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। ওয়ারউইকশায়ারের বোলিং আক্রমণ যেভাবে ধারালো হয়ে উঠেছে, তাতে ইয়র্কশায়ারের টেল-এন্ডারদের জন্য টিকে থাকা বেশ কঠিন হবে। যদি বৃষ্টি কোনো বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তবে ওয়ারউইকশায়ারের জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
উপসংহার
ক্রিকেটের এই লড়াই প্রমাণ করে যে, ম্যাচের প্রথম দিনে পিছিয়ে থাকলেও হাল না ছাড়লে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। ওয়ারউইকশায়ার দলগত প্রচেষ্টায় ইয়র্কশায়ারের মতো শক্ত প্রতিপক্ষকে যেভাবে কোণঠাসা করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখন দেখার বিষয়, শেষ দিনে ইয়র্কশায়ার কোনো অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারে কি না, নাকি ওয়ারউইকশায়ার তাদের দাপট বজায় রেখে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
0 Comments