চিপকে সিএসকের রুদ্ধশ্বাস জয় এবং রুতুরাজ গায়কোয়াডের বিশ্লেষণ
চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) জন্য চিপকের মাঠ সবসময়ই বিশেষ। তবে ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতাটা কখনোই সহজ নয়। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত ম্যাচে সিএসকে তা করে দেখিয়েছে। এই জয়ের পর অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড জানিয়েছেন, নতুন ব্যাটারদের জন্য এই পিচে শট খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল।
লখনউয়ের ঝোড়ো শুরু ও সিএসকের ঘুরে দাঁড়ানো
ম্যাচের শুরুটা ছিল লখনউয়ের নিয়ন্ত্রণে। জশ ইংলিসের ব্যাটিং তান্ডবে পাওয়ারপ্লেতেই লখনউ ৯১ রান তুলে ফেলেছিল। ইংলিস মাত্র ১৭ বলে পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন। রুতুরাজ গায়কোয়াড স্বীকার করেছেন যে, সেই মুহূর্তে তাদের কাছে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তিনি বলেন, ‘ইংলিস দারুণ কিছু শট খেলেছিল, যার কোনো উত্তর আমাদের কাছে ছিল না।’ লখনউয়ের রান দেখে মনে হচ্ছিল তারা অনায়াসেই ২৪০ বা ২৫০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করবে। তবে সেই কঠিন সময়ে সিএসকে অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন দলকে শান্ত থাকার বার্তা দেন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দেন।
জেমি ওভারটনের দুর্দান্ত বোলিং
সিএসকের ঘুরে দাঁড়ানোর মূল কারিগর ছিলেন জেমি ওভারটন। দশম ওভারে তিনি জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জশ ইংলিসকে ৮৫ রানে ফেরানোর পাশাপাশি ঋষভ পন্তকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিনি। ওভারটন তার বোলিং স্পেল প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি শুধু স্টাম্পের ওপর বল রাখার চেষ্টা করেছি। সঠিক সময়ে এই উইকেটগুলো পাওয়াটা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।’
পিচের চ্যালেঞ্জ ও ব্যাটিং পরিস্থিতি
জয়ের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে সিএসকে পাওয়ারপ্লেতে ৯৭ রান তুলে ফেলেছিল। বিশেষ করে উর্বিল প্যাটেলের ১৩ বলে পঞ্চাশ রানের ইনিংস সিএসকেকে উড়ন্ত শুরু এনে দেয়। তবে উর্বিল আউট হওয়ার পর নতুন ব্যাটারদের জন্য পিচে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। রুতুরাজ গায়কোয়াড পিচের অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘পিচটি বেশ ট্যাকি ছিল, যা নতুন ব্যাটারদের জন্য শট খেলার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’ শেষ ৩ ওভারে ৩০ রানের সমীকরণ ছিল বেশ চাপের, তবে প্রশান্ত বীরের কিছু বড় শট এবং শিবম দুবের শেষ ওভারের জোড়া ছক্কা সিএসকেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।’
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দলের মন্ত্র
১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে সিএসকে এখন পয়েন্ট টেবিলের পঞ্চম স্থানে। রুতুরাজ গায়কোয়াড সামনের তিন ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী। তার কথায়, ‘এখনো তিনটি ম্যাচ বাকি। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই এবং সহজভাবে খেলার চেষ্টা করব। চাপের মুখে সহজ থাকাটা কঠিন, কিন্তু এটাই আমাদের জয়ের মন্ত্র এবং আমরা এর ওপরই ভরসা রাখছি।’
উপসংহার
চিপকের মাঠে এই জয় কেবল দুই পয়েন্টের নয়, এটি সিএসকের মানসিক দৃঢ়তারও পরিচয়। কঠিন পিচে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং শেষ মুহূর্তে ব্যাটারদের সাহসিকতা তাদের প্রতিযোগিতায় বাঁচিয়ে রেখেছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্যায়ে সিএসকে এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
0 Comments