মিডিলসেক্স ১৬৯ (দু প্লুয় ৬৭, অ্যান্ডারসন ৪-৬৭) ও ১১৭/৪ (গেডেস ৭৩*, ব্যালডারসন ২-২৩) বনাম ল্যাঙ্কাশায়ার ২০১ (জেনিংস ৬৭, মরগান ৩-৪১) ও ৮৪ (শর্মা ৪-১৭, হিগিন্স ৪-২৭) – মিডিলসেক্স ৬ উইকেটে জয়ী
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মিডিলসেক্সের ঐতিহাসিক জয়
১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয় তুলে নিল মিডিলসেক্স। রোথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে ল্যাঙ্কাশায়ারকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দলটি মৌসুমের দ্বিতীয় জয় পাকাপোকটা করল। নাভিয়া শর্মা, রায়ান হিগিন্স এবং বেন গেডেসের মতো তরুণ তারকাদের অসামান্য পারফরম্যান্সই এই জয়ের মূল কারণ।
শর্মা এবং হিগিন্সের স্পেল: ল্যাঙ্কাশায়ার ৮৪ রানে অলআউট
ল্যাঙ্কাশায়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হয় ৪৫/৩ স্কোরে। সেখান থেকে শুরু হয় মিডিলসেক্সের ধ্বংসযজ্ঞ। দিনের প্রথম ওভার থেকেই টিম হিগিন্স মার্কাস হ্যারিসকে ক্যাচ আউট করে প্রথম উইকেট নেন। পরপর টবি রোল্যান্ড-জোন্স মাইকেল জোন্স (১০) ও মিচ স্ট্যানলি (৮) কে বোল্ড করেন। স্কোর ছিল মাত্র ৬৪/৬।
তারপর আসেন নাভিয়া শর্মা। ব্রায়ান স্ট্যাথাম এন্ডে এসে তিনি স্ট্রাইকে গেলেন এবং তাঁর প্রথম বলেই মাইকেল হার্স্টকে স্লিপে ক্যাচ দিলেন হিগিন্সের হাতে। পরের বলে টম হার্টলিকে ক্যাচ বেহালা করলেন ব্যাটার ছুঁড়ে না মেরেও। ষষ্ঠ বলে টম বেইলি স্লিপে দু প্লুয়ের হাতে আউট হন। পরের ওভারে ক্রিস গ্রিন রোল্যান্ড-জোন্সের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
শর্মা ১০ বলে ৪ উইকেট নেন—ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স (৪-১৭)। রায়ান হিগিন্সও নিলেন ৪-২৭। এই যুগল বোলিং ম্যাজিকে ল্যাঙ্কাশায়ার মাত্র ৮৪ রানে অলআউট হয়। এটি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মিডিলসেক্সের বিপক্ষে তাদের ১৯৩৫ সালের পর সর্বনিম্ন স্কোর।
গেডেসের ঝোড়ো অপরাজিত ৭৩* রান
১১৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মিডিলসেক্স ভালো শুরু করে। ৯.১ ওভারে ৫৭/২ ছিল স্কোর। স্যাম রবসন (১৪) এবং ম্যাক্স হোলডেন (৯) আউট হন। কিন্তু দু প্লুয় মাত্র ১ রানে আউট হওয়ায় দলের অবস্থা অস্থির হয়ে পড়ে। ক্যালেব ফালকনার প্রথম বলেই স্ট্যানলির বলে হার্স্টের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
৬৪/৪ হওয়ার পর ম্যাচে ভারসাম্য ফিরে আসে ল্যাঙ্কাশায়ারের দিকে। কিন্তু বেন গেডেস একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। মাত্র ৭০ বলে ৭৩ রান করেন তিনি—৫টি ফোর ও ২টি সিক্স মারেন, বিশেষ করে স্ট্যানলির বিরুদ্ধে দুটি পুল সিক্স চোখ ছাড়ায়। তাঁর সঙ্গে রায়ান হিগিন্স অপরাজিত থাকেন ৭ রানে। দুজনে মিলে ৫৩ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপ গড়েন পঞ্চম উইকেটে।
ম্যাচের পরিণতি এবং টেবিলে অবস্থান
এই জয়ের ফলে মিডিলসেক্স ল্যাঙ্কাশায়ারকে পেছনে ফেলে ডিভিশন টুর টেবিলে এগিয়ে যায়। তবে চলমান রাউন্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করা যাবে না।
ম্যাচের সবচেয়ে দ্রুততম কারণ হলেন নাভিয়া শর্মা। তাঁর ১০ বলে ৪ উইকেট শুধু ম্যাচ নয়, ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পাশাপাশি হিগিন্স এবং গেডেসের মতো তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ আশার আলো জ্বালায়।
- ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস ৮৪ রানে শেষ – ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ১৯৩৫ সালের পর সর্বনিম্ন
- নাভিয়া শর্মা: ৪ উইকেট মাত্র ১৭ রানে (১০ বলে ৪ উইকেট)
- বেন গেডেস: ৭০ বলে ৭৩* রান (৫x৪, ২x৬)
- মিডিলসেক্স ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়
এই জয় মাত্র একটি ম্যাচই নয়, এটি মিডিলসেক্সের তরুণ দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কাঠি। এখন প্রশ্ন হলো—তারা কি এই ঝাঁকুনি ধরে রাখতে পারবে?
0 Comments