মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: বাংলাদেশ দলে বড় রদবদল
২০২৬ সালের মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হয়ে গিয়েছে। আসন্ন এই টুর্নামেন্টের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে। এই স্কোয়াডে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো টপ-অর্ডার ব্যাটার তাজ নেহারের ফিরে আসা। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলা শারমিন সুলতানাকে এই বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তাজ নেহারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখনও খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে কেবল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই খেলেছেন। ৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ৪৪ রান। তবে তার সামর্থ্যের ওপর নির্বাচকদের অগাধ আস্থা রয়েছে। তিনি শেষবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। প্রায় এক বছর পর আবারও বড় আসরে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি।
তাজ নেহারকে নিয়ে নির্বাচকদের পরিকল্পনা
তাজ নেহারকে দলে নেওয়ার পেছনে নির্বাচক প্যানেলের সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ তাজ নেহারের বহুমুখী প্রতিভাকেই মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, নেহার ব্যাটিং অর্ডারের যেকোনো অবস্থানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন।
সাজ্জাদ আহমেদ বলেন, “আমরা শারমিন সুলতানাকে মূলত ওয়ানডে ফরম্যাটের জন্য বিবেচনা করছি। অন্যদিকে, তাজ নেহার একজন অত্যন্ত বহুমুখী ক্রিকেটার, যিনি ব্যাটিং লাইনআপের ১ থেকে ৬ নম্বর পর্যন্ত যেকোনো পজিশনে ব্যাট করতে সক্ষম। নির্বাচকরা বিশ্বাস করেন যে, ম্যাচের শেষ পাঁচ ওভারে দ্রুত গতিতে রান তোলার যে সমস্যা আমাদের রয়েছে, নেহার তা সমাধান করতে পারবেন।”
অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের বর্তমান দলটি অভিজ্ঞ ও তরুণদের এক দারুণ সমন্বয়। টানা তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের পর এটি তার অধিনায়ক হিসেবে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ অভিযান। জ্যোতির হাতে রয়েছে একঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন।
এই দলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে থাকছেন ফাহিমা খাতুন। তিনি তার সপ্তম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াডে ছিলেন ফাহিমা। এছাড়াও সহ-অধিনায়ক নাহিদা আক্তার, ঋতু মণি এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২০১৬ সাল থেকে নিয়মিত দলে রয়েছেন। বর্তমান স্কোয়াডের ১১ জন ক্রিকেটারই গত ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছেন, যা দলের স্থিতিশীলতাকে প্রকাশ করে।
সাম্প্রতিক ফর্ম ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। জুনের ১২ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের আগে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। অথচ এর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে টানা সাতটি ম্যাচ জেতার দুর্দান্ত রেকর্ড ছিল তাদের। শ্রীলঙ্কা সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানোর প্রবণতা দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বিশ্বকাপের মূল লড়াই শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ মে তারা স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের উদ্দেশে রওনা হবে। সেখানে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে টাইগ্রেসরা। এরপর বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে তারা যাবে লাফবরোতে।
গ্রুপ বিন্যাস ও সূচি
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অত্যন্ত কঠিন একটি গ্রুপে পড়েছে। গ্রুপ ১-এ বাংলাদেশের সঙ্গী হিসেবে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, শক্তিশালী ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডস। প্রতিটি ম্যাচই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৪ জুন, এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড
বিসিবি ঘোষিত ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড নিচে দেওয়া হলো:
- নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক)
- নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক)
- শারমিন আক্তার
- সোবহানা মোস্তারি
- স্বর্ণা আক্তার
- ঋতু মণি
- রাবেয়া খান
- ফাহিমা খাতুন
- ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা
- মারুফা আক্তার
- সানজিদা আক্তার মেঘলা
- সুলতানা খাতুন
- দিলারা আক্তার (উইকেটরক্ষক)
- জুয়াইরিয়া ফেরদৌস
- তাজ নেহার
বিশ্বকাপের মঞ্চে এই দলটি কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তাজ নেহারের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জন্য আমাদের শুভকামনা রইল।
0 Comments