দিল্লি ক্যাপিটালসের দুঃসময়: কুলদীপ যাদবের ছন্দপতন
আইপিএল ২০২৬ আসরে দিল্লি ক্যাপিটালসের (ডিসি) হতাশাজনক পারফরম্যান্সের তালিকায় নতুন সংযোজন কুলদীপ যাদবের ফর্ম। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তার বোলিং নিয়ে আলোচনা চলছিল, তবে গত তিন ম্যাচে তার ব্যর্থতা অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে। টানা ছয়টি ম্যাচে সফলতার মুখ না দেখায় দল এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে।
পরিসংখ্যান যা চিন্তার কারণ
শুক্রবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) বিপক্ষে হারের পর দিল্লি ক্যাপিটালসের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বেণুগোপাল রাও স্বীকার করেছেন যে, তারা বড় ধরনের ব্যর্থতার সম্মুখীন। সেই ম্যাচে কুলদীপ ৩ ওভার বল করে ৪১ রান দেন এবং কোনো উইকেট পাননি। চলতি মৌসুমে ১১টি ম্যাচ খেলে কুলদীপ মাত্র সাতটি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন। তার ইকোনমি রেট ১০.৬৬ এবং গড় ৫০.২৮, যা একজন বিশেষজ্ঞ স্পিনারের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ৩০ ওভারের বেশি বল করা বোলারদের মধ্যে টি নটরাজনের পরই কুলদীপের ইকোনমি রেট সবচেয়ে বেশি।
লাইন ও লেংথের বিভ্রান্তি
কেকেআরের বিপক্ষে কুলদীপ প্রতিটি ওভারেই অন্তত দুটি বাউন্ডারি খেয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচটি ছিল ছক্কা। ফাইন অ্যালেন ও ক্যামেরন গ্রিনের মতো ব্যাটাররা অনায়াসেই তার বল সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ দীপ দাশগুপ্তের মতে, কুলদীপের প্রধান সমস্যা হলো শর্ট বলের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা। তিনি বলেন, ‘শর্ট বল করে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা খাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি চাইব কুলদীপ লুজ বল করলেও তা যেন মিড-অফ বা মিড-অন দিয়ে হয়, অর্থাৎ ব্যাটাররা যেন সামনের পায়ে খেলে সেগুলোকে বাউন্ডারি মারে। পিছনের পায়ে ভর করে ব্যাটারদের মারতে দেওয়াটা ভুল।’
কেন কুলদীপ ব্যর্থ হচ্ছেন?
পরিসংখ্যান বলছে, এই মৌসুমে কুলদীপ ৭০টি ফুল-লেংথ বল করেছেন এবং তাতে ১৭৮ রান খরচ করেছেন। তার স্ট্রাইক রেট ২৫৪.২৮, যা গত মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশি। ফুল ডেলিভারিতে তিনি মাত্র দুটি উইকেট পেয়েছেন। অন্যদিকে, অন্যান্য লেংথে কিছুটা ভালো করলেও তিনি একাধারে সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মিচেল ম্যাকক্লেনাঘান মনে করেন, কুলদীপ প্রায়শই ব্যাটারদের জন্য সহজ ‘হ্যান্ড-ফ্রি’ জোনে বল করছেন। তিনি লেগ স্টাম্পের ওপর বা সঠিক কোণে বল ফেলতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা ব্যাটারদের জন্য সুবিধা করে দিচ্ছে।
দলের ওপর প্রভাব
দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলও বিষয়টি নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ করেছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন, ‘বোলিং করার সময় আমি আমার সঙ্গী কুলদীপকে খুব মিস করছিলাম।’ দলের বোলিং ইউনিটের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে কুলদীপের এই ছন্দহীনতা পুরো দলের ভারসাম্য নষ্ট করছে। বেণুগোপাল রাওয়ের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে হতাশা। তিনি বলেন, ‘অক্ষর এবং কুলদীপের জুটি যখন ছন্দে থাকে, তখন দলের বোলিং অনেক শক্তিশালী হয়। কিন্তু একজনের ব্যর্থতা পুরো বোলিং গ্রুপকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা এই ব্যর্থতার মোকাবিলা করছি এবং আশা করছি কুলদীপ দ্রুত তার পুরোনো ফর্মে ফিরবেন।’
সামনের দিনগুলোতে কুলদীপ যাদব কীভাবে তার লাইন ও লেংথের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আবার উইকেটের সন্ধানে ফিরবেন, সেটাই এখন দিল্লি ক্যাপিটালসের ভক্তদের প্রধান চাওয়া। টুর্নামেন্ট যখন শেষের পথে, তখন তার ঘুরে দাঁড়ানো দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
0 Comments