Cricket News

জাসপ্রীত বুমরাহর বিকল্প: ওয়ানডে ফরম্যাটে ভারতের ভবিষ্যৎ তিন পেসার

Reyaansh Foster · · 1 min read
Share

ভারতের বোলিং আক্রমণের ভবিষ্যৎ: জাসপ্রীত বুমরাহর বিকল্প খোঁজা

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে জাসপ্রীত বুমরাহ কেবল ভারতের সেরা বোলারই নন, বরং তাকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার ক্রিকেটীয় মেধা, সুইং এবং পিচ অনুযায়ী ভ্যারিয়েশন প্রয়োগের ক্ষমতা তাকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য উপযোগী করে তুলেছে। তবে বুমরাহর বোলিং অ্যাকশন এবং কাজের চাপের কারণে তাকে ইনজুরি থেকে রক্ষা করা বিসিসিআই-এর জন্য এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুমরাহকে সব ফরম্যাটে নিয়মিত না খেলিয়ে বরং গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে আফ্রিকা মহাদেশের কন্ডিশনের উপযোগী একটি শক্তিশালী পেস আক্রমণ তৈরি করা ভারতের জন্য এখন সময়ের দাবি। আইপিএল ২০২৬-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা তিন তরুণ বোলার বিসিসিআই-এর রাডারে রয়েছেন, যারা ভবিষ্যতে বুমরাহর যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেন।

১. অশোক শর্মা (গুজরাট টাইটান্স)

আইপিএল ২০২৬-এ ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টার বেশি গতিতে বল করে হইচই ফেলে দিয়েছেন তরুণ অশোক শর্মা। গুজরাট টাইটান্সের এই পেসার ক্রমাগত কঠিন লেংথে বল করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘ইন্ডিয়া এ’ দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাসকে কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। মোহাম্মদ সিরাজ এবং কাগিসো রাবাদার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা তাকে একজন আধুনিক বোলার হিসেবে গড়ে তুলছে। অধিনায়ক শুভমান গিলের অধীনে তার প্রতিভা যে খুব দ্রুত জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

২. কার্তিক ত্যাগী (কলকাতা নাইট রাইডার্স)

কার্তিক ত্যাগী ভারতীয় ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। ২০২০-২১ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে নেটস বোলার হিসেবে নজর কাড়া ত্যাগী মাঝে ইনজুরির কারণে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন। তবে আইপিএল ২০২৬-এ কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে তিনি যেন নতুন করে জ্বলে উঠেছেন। সিএসকে ও রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে তার বোলিং অনেকের নজর কেড়েছে। নিয়মিত ১৪০ কিমি গতিতে বল করার ক্ষমতা এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে ওয়ানডে ফরম্যাটের জন্য প্রথম পরিবর্তনের (first-change) এক চমৎকার বিকল্প করে তুলেছে।

৩. প্রিন্স যাদব (লখনউ সুপার জায়ান্টস)

প্রিন্স যাদবকে অনেকে জশ হ্যাজলউডের সাথে তুলনা করছেন তার শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিংয়ের কারণে। ২৪ বছর বয়সী এই পেসার লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে মোহাম্মদ শামির তত্ত্বাবধানে নিজেকে দক্ষ করে তুলছেন। বিজয় হাজারে ট্রফি ২০২৫-এ আট ইনিংসে ১৮টি উইকেট শিকার করে তিনি নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। কেবল সুইং নয়, পিচ থেকে বল মুভ করানোর সহজাত ক্ষমতা তাকে ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে। শামির কাছ থেকে শেখা বোলিংয়ের কারিগরি জ্ঞান তাকে ভবিষ্যতে ভারতের নিয়মিত পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

উপসংহার

জাসপ্রীত বুমরাহর অভাব পূরণ করা সহজ নয়, তবে ভারতীয় ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুনদের সুযোগ দেওয়া অপরিহার্য। অশোক শর্মা, কার্তিক ত্যাগী এবং প্রিন্স যাদবের মতো বোলাররা যদি সঠিক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান, তবে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের পেস আক্রমণ থাকবে বিশ্বমানের। বিসিসিআই-এর বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এই তরুণরাই আগামীর ভারতের বোলিং মেরুদণ্ড হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন।

Avatar photo
Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.