মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বোলিং ব্যর্থতা এবং বুমরাহর ভূমিকা
আইপিএল ২০২৬-এ মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের (MI) সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। পয়েন্ট টেবিলে তারা এখন অষ্টম স্থানে রয়েছে। দলের বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তার ভাঁজ কোচিং প্যানেলের কপালে। বিশেষ করে জসপ্রিত বুমরাহ এবং ট্রেন্ট বোল্টের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা এখনো আশানুরূপ উইকেটের দেখা পাননি। মুম্বাইয়ের পাঁচজন বোলারের ইকোনমি রেটই ১২-এর উপরে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই যুগে বেশ উদ্বেগজনক।
বোলারদের ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা
দলের প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে আগেই জানিয়েছেন, নতুন বলে মুম্বাই তাদের পরিকল্পনামাফিক বল করতে পারছে না। ট্রেন্ট বোল্ট, যিনি আইপিএলের পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়ার জন্য পরিচিত, চলতি বছর জুড়ে ছন্দে নেই। অন্যদিকে দীপক চাহার ও শার্দুল ঠাকুরের পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যাচ্ছে। শার্দুল ঠাকুর দলের সর্বোচ্চ চার উইকেট নিলেও তার ইকোনমি রেট ১২.৮৮, যা দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ।
বুমরাহকে নিয়ে কিয়েরন পোলার্ডের বার্তা
এমন পরিস্থিতিতে জসপ্রিত বুমরাহর উইকেটহীন থাকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা চলছে। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ব্যাটিং কোচ কিয়েরন পোলার্ড বুমরাহর পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বর্তমান যুগে শুধু উইকেটের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না। বুমরাহ একজন বিশ্বমানের বোলার। সে অতীতে অনেকবার আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে। যখন তার উইকেট নেওয়ার সময় আসবে, সে ঠিকই উইকেট পাবে। যদি সে কিপটেমি বোলিংও করে, আমরা সেটাও গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’
পোলার্ড আরও যোগ করেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে খুব একটা ভাবছি না। ক্রিকেট একটি দলীয় খেলা। বুমরাহ সম্পূর্ণ ফিট আছে এবং আমরা তাকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে আশা করি আগামীকাল সে পাঁচ উইকেট নেবে এবং ইকোনমি রেটও থাকবে পাঁচের ঘরে।’
গতির অভাব এবং কৌশলগত পরিবর্তন
চলতি আইপিএলে বুমরাহর গতিও কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ডেলিভারি ১৩০ কিমি/ঘণ্টার আশেপাশে ছিল। এটি নিয়ে পোলার্ডের ব্যাখ্যা, ‘যদি বল সীমানার বাইরে যেতে থাকে, তবে আগুনের বিপরীতে আগুন দিয়ে লড়ার প্রয়োজন নেই। নতুন কৌশলে কাজ করার সময় এসেছে। আমরা বোলিং ইউনিট হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছি।’
ওয়াংখেড়েতে আরসিবি চ্যালেঞ্জ
মুম্বাই ইন্ডিয়ানস তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খেলবে। যদিও এই মাঠ বোলারদের জন্য খুব একটা অনুকূল নয়। সামনে প্রতিপক্ষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। উল্লেখ্য, গত বছর ওয়াংখেড়েতে আরসিবি ২২১ রান করে মুম্বাইয়ের দীর্ঘদিনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙেছিল। বুমরাহ আরসিবির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিকভাবে ভালো পারফর্ম করেছেন, তাদের বিপক্ষে তার ঝুলিতে রয়েছে ২৯টি উইকেট। এই ম্যাচে মুম্বাই বোলিং ইউনিট কি পারবে তাদের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে?
পোলার্ডের মতে, সবকিছুই নির্ভর করছে মাঠের মানসিকতা এবং সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। তিনি বলেন, ‘আমরা কঠোর অনুশীলন করছি। ব্যাটার ও বোলারের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত যারা ধৈর্য ধরতে পারবে, তারাই সফল হবে। আশা করছি মাঠের লড়াইয়ে আমরা আমাদের পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারব।’
মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। বুমরাহর ফর্ম এবং দলের সামগ্রিক বোলিং আক্রমণের উন্নতিই পারে তাদের প্লে-অফের দৌড়ে ফিরিয়ে আনতে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন ওয়াংখেড়ের পরবর্তী রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের দিকে।
0 Comments