ইউরোপীয় টি-টোয়েন্টি লিগে রটারডাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হলেন ডু প্লেসি, রোডস ও ক্লাসেন
ইউরোপীয় ক্রিকেটে নতুন জোয়ার: রটারডাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় দক্ষিণ আফ্রিকান ত্রয়ী
ক্রিকেট বিশ্বের মানচিত্রে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে ‘ইউরোপীয় টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগ’ (ETPL)। এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার তিন কিংবদন্তি এবং তারকা ক্রিকেটার—ফাফ ডু প্লেসি, জন্টি রোডস এবং হাইনরিখ ক্লাসেন—একজোট হয়েছেন। তারা রটারডাম ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অধিগ্রহণের মাধ্যমে এই লিগে নিজেদের ব্যবসায়িক ও খেলোয়াড়ি যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন।
কেন ETPL-এ ঝুঁকছেন তারকারা?
আগামী আগস্ট মাসে শুরু হতে যাওয়া এই লিগ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহী ফাফ ডু প্লেসি। তার মতে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপে ক্রিকেটের প্রসার ঘটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। ডু প্লেসি জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নতুন একটি টুর্নামেন্টকে সফল করে তোলার চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন কিছু গড়ে তুলতে যা সত্যিকার অর্থেই দক্ষিণ আফ্রিকান আমেজ সমৃদ্ধ হবে এবং ইউরোপীয় ক্রিকেটের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।’
খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠ মাতাবেন মালিকরা
এই মালিকানার বিশেষ দিক হলো, ডু প্লেসি এবং ক্লাসেন কেবল মালিকই নন, তারা মাঠের লড়াইয়েও অংশ নেবেন। ডু প্লেসি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। হাইনরিখ ক্লাসেন, যিনি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, তিনিও এই উদ্যোগকে একটি ‘চমৎকার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ক্লাসেনের ভাষায়, ‘এটি আমার কাছে খুব সহজ একটি সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্বের বড় বড় তারকাদের এই লিগে যুক্ত হতে দেখে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, এর অংশ হওয়াটা সময়ের দাবি।’
ইউরোপে ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার স্বপ্ন
জন্টি রোডস, যিনি দীর্ঘদিন ইউরোপে কোচিংয়ের সাথে যুক্ত, তিনি মনে করেন রটারডাম ইউরোপের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের তারকাদের আধিপত্যের মাঝে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটি শক্তিশালী ফোকাস নিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু চার সপ্তাহের টুর্নামেন্ট নয়, বরং ইউরোপের ক্রিকেটের মূল অবকাঠামোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা।’
টুর্নামেন্টের বিস্তারিত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
- টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তি: আগস্ট ২৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০ পর্যন্ত।
- ভেন্যু: আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস।
- ম্যাচ সংখ্যা: মোট ৩৩টি ম্যাচ।
- অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি: আমস্টারডাম, বেলফাস্ট, এডিনবরা, গ্লাসগো এবং ডাবলিন।
টুর্নামেন্টে স্টিভেন স্মিথ, মিচেল মার্শ এবং মিচেল স্যান্টনারের মতো বড় তারকাদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। তবে সফল হওয়ার জন্য কেবল তারকা ফুটবলার থাকলেই হবে না, বরং মাঠের মান ও পরিবেশগত দিকগুলোও নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন ডু প্লেসি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী পণ্য তৈরি করতে হবে, যাতে সাধারণ দর্শক পরিবারের সাথে খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে আসে।’
উপসংহার
ইউরোপের দেশগুলোতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখনো সীমিত। তবে ETPL যদি যথাযথ পেশাদারিত্বের সাথে পরিচালিত হয়, তবে এটি কেবল নতুন প্রতিভাই সৃষ্টি করবে না, বরং প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারদের জন্য বিনিয়োগের নতুন এক দ্বার উন্মোচন করবে। ডু প্লেসি, রোডস এবং ক্লাসেনের এই উদ্যোগ সফল হলে তা বিশ্ব ক্রিকেটের ইকোসিস্টেমে এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করবে।
