মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: হার্দিকের সাহসী সিদ্ধান্ত ও দলের বড় পরিবর্তন
ওয়াংখেডের প্রথা ভেঙে হার্দিকের দুঃসাহস
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যকার এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া বর্তমান সময়ে অত্যন্ত বিরল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের পর থেকে কোনো আইপিএল অধিনায়ক এখানে টস জিতে ব্যাটিং করার সাহস দেখাননি। গত ২১টি ম্যাচে যারা টস জিতেছেন, তারা সবাই প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হার্দিক এই ট্রেন্ড ভেঙে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন।
কেন ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলেন হার্দিক?
নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে হার্দিক পান্ডিয়া জানান, আজকের সন্ধ্যাটি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি ঠান্ডা এবং বাতাসযুক্ত। তার ধারণা, আজ শিশির (dew) খুব একটা বড় ভূমিকা পালন করবে না। সাধারণত ওয়াংখেডে শিশিরের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই সবাই আগে বোলিং করতে চায়। তবে হার্দিকের এই সাহসী পদক্ষেপ দলের জন্য আশীর্বাদ হবে নাকি অভিশাপ, তা সময়ই বলে দেবে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ইনজুরি সংকট ও দলের পরিবর্তন
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো তাদের মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি। প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মা এখনও পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেননি। তার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির বিষয়ে হার্দিক জানান, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে রোহিতকে আরও দুই থেকে তিনটি ম্যাচ অপেক্ষা করতে হবে। শুধু রোহিতই নন, কবজির ইনজুরির কারণে দলের বাইরে রয়েছেন তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার কুইন্টন ডি কক। এছাড়া কাঁধের গুরুতর ইনজুরির কারণে মিচেল স্যান্টনারকে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে, যা মুম্বাইয়ের স্পিন আক্রমণে বড় ধাক্কা।
নতুন মুখ এবং রণকৌশল
ইনজুরি এবং ফর্মের কথা মাথায় রেখে দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মুম্বাই। ওপেনিংয়ে দেখা যাবে রায়ান রিকেলটন এবং উইল জ্যাকস-কে। এই দুই তরুণের ওপরই নির্ভর করছে দলের দ্রুত শুরু করার আশা। এছাড়া এই মরসুমে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন রবিন মিনজ। বোলিং আক্রমণে ফিরে এসেছেন অভিজ্ঞ ট্রেন্ট বোল্ট। অন্যদিকে, ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে শার্দুল ঠাকুর বা কৃশ ভগতের নাম আসতে পারে, যা ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের প্রস্তুতি ও কৌশল
অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স টস হেরে খুশি। তিনি আগে থেকেই চেয়েছিলেন এই পিচে বোলিং করতে, কারণ তার মনে হয়েছে উইকেটটি কিছুটা ‘ট্যাকি’ (Tacky) বা ধীরগতির হতে পারে। কামিন্স তার দলে কৌশলী পরিবর্তন এনেছেন। শিশিরের সম্ভাবনা মাথায় রেখে তিনি রিস্ট স্পিনার শিভং কুমারের পরিবর্তে ফিঙ্গার স্পিনার হর্ষ দুবে-কে দলে নিয়েছেন। হায়দ্রাবাদের ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে অনিকেত ভারমার নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দলের বর্তমান ফর্ম ও পয়েন্ট টেবিলের লড়াই
বর্তমান ফর্মের কথা চিন্তা করলে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তারা টানা চারটি ম্যাচ জিতেছে এবং বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে ১০ পয়েন্ট নিয়ে। এই ম্যাচে জিতলে তারা আরও উপরের দিকে উঠে যাবে।
এর বিপরীতে, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অবস্থা বেশ শোচনীয়। সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি জিতে তারা পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো তাদের নিজেদের ঘরের মাঠে পারফরম্যান্স। ঘরের মাঠে চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি হেরেছে তারা, যার মধ্যে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ১০৩ রানের রেকর্ড হারটি ছিল অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই ম্যাচে জয় মুম্বাইয়ের জন্য এখন কেবল পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের লড়াই।
দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ (Playing XI)
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: ১. রায়ান রিকেলটন (উইকেটকিপার), ২. উইল জ্যাকস, ৩. নামান ধীর, ৪. সূর্যকুমার যাদব, ৫. তিলক ভার্মা, ৬. হার্দিক পান্ডিয়া (অধিনায়ক), ৭. রবিন মিনজ, ৮. ট্রেন্ট বোল্ট, ৯. জাসপ্রিত বুমরাহ, ১০. এএম ঘজনফর, ১১. আশওয়ানি কুমার।
বেঞ্চ: মায়াঙ্ক রাওয়াত, রঘু শর্মা, শার্দুল ঠাকুর, কৃশ ভগত, রাজ বাওয়া।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: ১. ট্র্যাভিস হেড, ২. অভিষেক শর্মা, ৩. ইশান কিষাণ (উইকেটকিপার), ৪. হেনরিখ ক্লাসেন, ৫. নীতিশ কুমার রেড্ডি, ৬. সালিল অরোরা, ৭. প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), ৮. হর্ষ দুবে, ৯. এশান মালিঙ্গা, ১০. প্রফুল হিঞ্জ, ১১. সাকিব হোসেন।
বেঞ্চ: আর স্মারান, অনিকেত ভার্মা, লিয়াম লিভিংস্টোন, শিভং কুমার, হর্ষাল প্যাটেল।
