[CRK] চট্টগ্রামে অবিশ্বাস্য জয়ের মূলমন্ত্র ‘আক্রমণই সেরা রক্ষণ’: হৃদয়
[CRK]
চট্টগ্রামের সেই অবিশ্বাস্য জয়
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য ১০০ রানের বেশি লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করা বরাবরই একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শেষ দশ ওভারে এমন রান দরকার হলে তা প্রায়শই পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সব হিসেব উল্টে দিয়ে বাংলাদেশ যেভাবে ১৮৩ রানের লক্ষ্য অতিক্রম করল, তা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। মাত্র দুই ওভার বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
‘আক্রমণই সেরা রক্ষণ’
ম্যাচ জয়ের নায়ক তাওহিদ হৃদয় তার ইনিংস শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আক্রমণই সেরা রক্ষণ’—এই নীতিতেই তারা বিশ্বাসী ছিলেন। হৃদয় বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আপনি যদি রক্ষণাত্মক হয়ে খেলেন, তবে টিকে থাকা কঠিন। মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত রান তোলাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আমি শুধু চেয়েছিলাম আক্রমণ করতে, নাহলে ম্যাচ জেতা অসম্ভব হতো।’
মিডল অর্ডারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা
দলের শুরুর ব্যাটিং কিছুটা ধীরগতির হলেও মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামিম হোসেনের ব্যাটিং ছিল দেখার মতো। এই তিন ব্যাটার মিলে ২০৩.৭ স্ট্রাইক রেটে ১১০ রান যোগ করেন। হৃদয় ব্যক্তিগতভাবে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও, ইমন (২৮) এবং শামিমের (৩১) ইনিংস দুটিকে তিনি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
হৃদয় বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে অনেক সময় ১০ রানের একটি ইনিংসও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। শামিম ও ইমন যে মেজাজে ব্যাট করেছে, তা আমাদের ম্যাচটি সহজ করে দিয়েছে। বিশেষ করে শামিমের শট খেলার ক্ষমতা অসাধারণ, যা বোলারদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।’
নিউজিল্যান্ডের আক্ষেপ
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ডেন ক্লিভার স্বীকার করেন যে, তাদের ২০০ রান করা উচিত ছিল। পাওয়ারপ্লে-তে ভালো শুরু পেলেও, বল পুরনো হওয়ার সাথে সাথে উইকেট কঠিন হয়ে পড়ায় তারা শেষ দিকে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়। ক্লিভার বলেন, ‘আমরা ২০০ রানের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিলাম, কিন্তু বলের আচরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের রান তোলার গতি কমে যায়। এরপরও ১৮০ রানকে আমরা লড়াইয়ের মতো স্কোর মনে করেছিলাম।’
বাংলাদেশের উন্নতির বার্তা
অতীতে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। তবে হৃদয় মনে করেন, দল প্রতিদিন উন্নতি করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। আজকে আমাদের দ্রুত রানের প্রয়োজন ছিল, তাই আমরা ঝুঁকি নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই জয় এবং সেই মানসিকতা নিয়েই আমরা মাঠে নামি।’
শামিমের প্রশংসায় হৃদয় আরও যোগ করেন, ‘তার মতো একজন ব্যাটার ৬ নম্বর পজিশনে থাকলে দলের সুবিধা হয়। সে এমন সব শট খেলে যা খুব কম ব্যাটারই আয়ত্ত করতে পারে। আমি কেবল আশা করব, সে যেন তার এই ফর্ম বজায় রাখতে পারে।’
এই জয়টি কেবল বাংলাদেশের সিরিজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতিবিধির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে টাইগাররা কতটা মরিয়া। আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ যে যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করতে সক্ষম, চট্টগ্রামের এই ম্যাচটি তার বড় প্রমাণ।
