[CRK]

হেডিংলিতে রানের লড়াই: ইয়র্কশায়ারের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

রোদঝলমলে হেডিংলিতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় দিনটি ছিল পুরোপুরি ব্যাটারদের দখলে। সাসেক্সের প্রথম ইনিংসের ৫০২ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের জবাবে ইয়র্কশায়ার তাদের প্রথম ইনিংসে ৫১১ রান সংগ্রহ করে ৯ রানের লিড নিয়েছে। দিনের শেষে ম্যাচের পরিস্থিতি ড্রয়ের দিকে এগোলেও, ইয়র্কশায়ারের টপ অর্ডার ব্যাটারদের দাপট ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে জো রুট, স্যাম হোয়াইটম্যান এবং ফিন বিন তাদের ব্যাটিং শৈলী দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।

জো রুটের আক্ষেপের ৯৬ রান

ইংল্যান্ডের ব্যাটিং স্তম্ভ জো রুট যখন ক্রিজে আসেন, তখন ইয়র্কশায়ারের স্কোর ২ উইকেটে ১৯৯। প্রায় ১০৯ দিন পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যাট করতে নেমে রুট ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল। ১২৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংসে তিনি ১২টি নান্দনিক চারের মার মারেন। রুট যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল তার দ্বাদশ প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু চা বিরতির ঠিক আগে পেসার হেনরি ক্রোকোম্বের একটি বাড়তি বাউন্স নেওয়া বলে এজ হয়ে উইকেটরক্ষক জন সিম্পসনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করার আক্ষেপ নিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। তবে তার এই ইনিংসটি ইয়র্কশায়ারকে সাসেক্সের সংগ্রহের কাছাকাছি পৌঁছাতে বড় ভূমিকা পালন করে।

হোয়াইটম্যান ও ফিন বিনের শতক উদযাপন

দিনের শুরুতে ১৯২ রানে ১ উইকেট নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে ইয়র্কশায়ার। ওপেনার ফিন বিন গতকালের সংগৃহীত রানের সাথে মাত্র ৪ রান যোগ করে ১০৫ রানে আউট হন। ফিন হডসন-প্রেন্টিসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তিনি ইয়র্কশায়ারকে একটি শক্ত ভিত গড়ে দেন।

এরপর ক্রিজে আধিপত্য বিস্তার করেন স্যাম হোয়াইটম্যান। ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেওয়া এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার তার জন্মভূমির কাউন্টির হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৮৮ বলে ১০১ রানের এক ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন তিনি। জেমস কোলসকে স্ট্রেট সিক্স মেরে শতক পূর্ণ করা হোয়াইটম্যানের ইনিংসটি ছিল সংযম ও আক্রমণের এক দারুণ মিশ্রণ। ক্রোকোম্বের বলে আউট হওয়ার আগে তিনি জো রুটের সাথে দলের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যান।

সাসেক্সের বোলিং ও টম প্রাইসের ইনজুরি

পিচ ব্যাটিং সহায়ক হওয়ায় সাসেক্সের বোলারদের উইকেট পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এর মধ্যে দলের অলরাউন্ডার টম প্রাইস ফিল্ডিং করার সময় গোড়ালি মচকে মাঠ ছাড়লে সাসেক্স একজন বোলার কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। হেনরি ক্রোকোম্ব এবং জেমস কোলস দুজনেই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। ইংল্যান্ডের টেস্ট তারকা ওলি রবিনসন উইকেট না পেলেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ইয়র্কশায়ারকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছেন।

জনি বেয়ারস্টোর ব্যর্থতা ও লোয়ার অর্ডারের লড়াই

দীর্ঘদিন পর লাল বলের ক্রিকেটে ফেরা জনি বেয়ারস্টো খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। জেমস কোলসের স্পিনে মাত্র ৬ রান করে বোল্ড হন তিনি। তবে মিডল অর্ডারে ম্যাথিউ রিভিস এবং জর্জ হিল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন। জর্জ হিল ৫০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে দলের লিড নিশ্চিত করেন। শেষ দিকে লোগান ফন বিক (২৯) এবং ঝাই রিচার্ডসনের (৩৫) ঝড়ো ব্যাটিং ইয়র্কশায়ারকে ৫১১ রান পর্যন্ত নিয়ে যায়।

তৃতীয় দিনের শেষ মুহূর্ত ও চতুর্থ দিনের প্রত্যাশা

ইয়র্কশায়ার অলআউট হওয়ার পর হাতে মাত্র ১৪ ওভার ছিল। এই স্বল্প সময়েই সাসেক্সের টপ অর্ডারে আঘাত হানেন অজি পেসার ঝাই রিচার্ডসন। ড্যানিয়েল হিউজকে একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করে তিনি দিনের শুরুটা করেন। দিনের একদম শেষ মুহূর্তে টম হেইন্স জর্জ হিলের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলে সাসেক্সের স্কোর দাঁড়ায় ৩১/২।

বর্তমানে সাসেক্স ২২ রানে এগিয়ে থাকলেও হাতে আছে ৮ উইকেট। চতুর্থ দিনে ইয়র্কশায়ার চাইবে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরতে, অন্যদিকে সাসেক্সের লক্ষ্য থাকবে বড় লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচটি ড্র করা। হেডিংলির এই পাটা উইকেটে শেষ দিনের রোমাঞ্চ দেখতে মুখিয়ে আছে ক্রিকেট ভক্তরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড (তৃতীয় দিন শেষে):

  • সাসেক্স: ৫০২ এবং ৩১/২
  • ইয়র্কশায়ার: ৫১১ (ফিন বিন ১০৫, স্যাম হোয়াইটম্যান ১০১, জো রুট ৯৬, জর্জ হিল ৫০)
  • ফলাফল: সাসেক্স ২২ রানে এগিয়ে।
Categories: Report

Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *