[CRK]

বিরাট কোহলির অপরাজেয় ছন্দ: স্টেইন ও বিশপের চোখে এক অনন্য জিনিয়াস

আইপিএল ২০২৬-এর আসরে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আবারও দেখা গেল এক মহাকাব্যিক দৃশ্য। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে রান তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলি যেন নিজের ব্যাট দিয়ে শিল্পের প্রদর্শন করলেন। ৪৪ বলে ৮১ রানের সেই ঝোড়ো ইনিংস শুধু আরসিবির জয় নিশ্চিত করেনি, বরং ফের একবার অরেঞ্জ ক্যাপের মালিক হিসেবে তাকে আসীন করেছে শীর্ষে। এই মুহূর্তে সাত ইনিংসে তার সংগ্রহ ৩২৮ রান।

একজন জিনিয়াস এবং পরিস্থিতির পাঠক

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় কোহলির প্রাক্তন সতীর্থ ডেল স্টেইন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘তিনি একজন জিনিয়াস।’ ইএসপিএনক্রিকইনফোর টাইম:আউট শো-তে স্টেইন কোহলির খেলার ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘বিরাট ম্যাচের পরিস্থিতি অসাধারণ পড়তে পারেন। প্রথম বল থেকেই তিনি জানেন কীভাবে ইনিংসটিকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। রান তাড়া করার ক্ষেত্রে তিনি সম্ভবত সর্বকালের সেরা ব্যাটার।’

স্টেইনের মতে, কোহলি কেবল খেলেন না, তিনি পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজের খেলার কৌশল নির্ধারণ করেন। এটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

দেবদূত পাডিক্কালের সাথে রসায়ন

সেই ম্যাচে দেবদূত পাডিক্কাল ২৭ বলে ৫৫ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেন। কোহলির সাথে তার ১১৫ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাডিক্কাল জানান, ‘গুজরাট টাইটান্সের ইনিংস শেষ হওয়ার পর আমাদের মনে হয়েছিল তারা ২০ রান কম করেছে। এই আত্মবিশ্বাস আমাদের ব্যাটিংয়ে সাহায্য করেছে।’

পাডিক্কাল আরও যোগ করেন, ‘বিরাটের মতো একজন খেলোয়াড়, যিনি ক্রিকেটে সব কিছু অর্জন করেছেন, তিনি প্রতিটি সেশনে যে পরিমাণ পরিশ্রম করেন তা অবিশ্বাস্য। তার এই আবেগ এবং নিবেদন পুরো দলের এনার্জি বাড়িয়ে দেয়।’

টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে বিরাটের বিবর্তন

কোহলির এই বিবর্তন গত কয়েক বছরে চোখে পড়ার মতো। ২০১৪ সালের পর থেকে তার স্ট্রাইক রেট ক্রমাগত উন্নতি করেছে। ২০২৪ সালে ১৫৪.৭০, ২০২৫ সালে ১৪৪.৭১ এবং বর্তমান মরসুমে ১৬৩.১৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন তিনি। ৩৭ বছর বয়সেও আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের হাই-টেম্পো খেলার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এই ক্ষমতাকে ইয়ান বিশপ ‘অসাধারণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বিশপ বলেন, ‘আমি কোহলির ব্যাটিং উপভোগ করি। কিন্তু এই বয়সে এসেও যেভাবে তিনি নিজের খেলার ধরণ বদলেছেন, তা সত্যিই অভাবনীয়।’

কোহলির নিজস্ব বিশ্লেষণ

ম্যাচ শেষে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার নেওয়ার সময় কোহলি নিজের মানসিকতা সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা ২৩০-২৩৫ রানের লক্ষ্য মাথায় রেখেছিলাম। পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য দারুণ ছিল। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল বোলারদের উপর চাপ বজায় রাখা। দেব দুর্দান্ত ব্যাট করেছে এবং আমাদের পার্টনারশিপে কোনো সংশয় ছিল না।’

গত বছরের আইপিএল জয়ী আরসিবি এবারও দারুণ ছন্দে রয়েছে। ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলার পর কোহলির আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, ‘এই মাঠ সবসময়ই স্পেশাল। আশা করছি মরসুমের শেষে আমরা আবারও এখানে ফিরে আসব।’

বিরাট কোহলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে শুধু একজন ক্রিকেটার নন, বরং তিনি কঠোর পরিশ্রম, অদম্য জেদ এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক জীবন্ত উদাহরণ। আইপিএল ২০২৬-এর বাকি পথচলায় আরসিবি ভক্তদের চোখ এখন কেবলই কিং কোহলির ব্যাটের দিকে।

Categories: News

Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *