[CRK] চোটের আতঙ্ক কাটিয়ে পান্তের দাপট: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র বিরুদ্ধে হাফ-সেঞ্চুরি
[CRK]
চোটের আতঙ্ক কাটিয়ে পান্তের দাপট: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিরে হাফ-সেঞ্চুরি
আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কলকাতায় শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টের ঠিক আগেই ভারতীয় শিবিরে কিছুটা উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ব্যাটিং করতে নেমে চোটের কবলে পড়েছিলেন তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার ঋষভ পান্ত। তবে সেই আতঙ্ককে দ্রুতই আত্মবিশ্বাসে পরিণত করেছেন তিনি। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে হাফ-সেঞ্চুরি করে নিজের ফর্ম এবং ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছেন পান্ত।
লড়াই এবং শারীরিক আঘাতের নাটকীয়তা
ম্যাচের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ব্যাটিং করতে নেমে পান্তের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার ৎশেপো মোরেকির বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়েছিলেন তিনি। মাত্র ২২ বলে ১৭ রান করার সময় পরপর তিনবার মারাত্মক আঘাত পান পান্ত। প্রথম আঘাতটি আসে তার হেলমেটে। মোরেকির একটি শর্ট ডেলিভারিতে রিভার্স পিক-আপ শট খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন পান্ত এবং বল সরাসরি তার হেলমেটে আঘাত করে। আঘাতের তীব্রতায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, যার ফলে তৎক্ষণাৎ কনকাশন টেস্ট করতে হয় ফিজিওদের।
হেলমেটের আঘাত থেকে সাময়িকভাবে সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিনি আবারও আঘাত পান ডান কনুইতে। একটি শর্ট-আর্ম জ্যাব খেলার প্রচেষ্টায় বল তার কনুইয়ে আঘাত করলে তিনি যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। ফিজিওর পেন-রিলিফ স্প্রে এবং টেপিংয়ের পর তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চূড়ান্ত ধাক্কাটি আসে পেটে, যখন একটি ইনসুইং ডেলিভারি তাকে সরাসরি আঘাত করে। শেষ পর্যন্ত ভারত ‘এ’ দলের কোচ হৃষিকেশ কানিটকার এবং মেডিকেল টিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
প্রত্যাবর্তন এবং বিধ্বংসী হাফ-সেঞ্চুরি
মাঠ ছাড়ার পর ভক্ত এবং ম্যানেজমেন্টের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, পান্ত কি আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য প্রস্তুত? তবে সেই সব প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন চূড়ান্ত সেশনে। পান্তের অনুপস্থিতিতে ধ্রুব জুরেল (অপরাজিত ১২৭) এবং হর্ষ দুবে ষষ্ঠ উইকেটে ১৮৪ রানের এক বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। এই স্থিতিশীলতার পর পান্ত পুনরায় ক্রিজে ফিরে আসেন এবং এবার তার লক্ষ্য ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।
স্পিনারদের বিরুদ্ধে পান্তের সেই পরিচিত আগ্রাসন ফিরে আসে। দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন তিনি এবং খুব অল্প সময়েই তার হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়। ভারত ‘এ’ দল শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৮২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। তবে পান্তের ইনিংসের সমাপ্তিটি ছিল কিছুটা হতাশাজনক। বাঁহাতি স্পিনার কাইল সিমন্ডসের একটি স্লগ সুইপ শট খেলতে গিয়ে বলটি টপ-এজ হয়ে উইকেটকিপারের হাতে চলে যায়। পান্ত শেষ পর্যন্ত ৬৫ রান করে আউট হন।
দীর্ঘ প্রত্যাশা এবং সুস্থ হয়ে ফেরা
পান্তের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি হাফ-সেঞ্চুরি নয়, বরং দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল। গত জুলাই মাসে ম্যানচেস্টারে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে ক্রিস ওকসের বলে আঙুলে ফাটল ধরার পর দীর্ঘ ৯৮ দিন ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন তিনি। অস্ত্রোপচারের পর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে দুই মাস কঠোর রিহ্যাবিলিটেশনের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে তিনি পুনরায় অনুশীলনে ফেরেন এবং ম্যাচ প্র্যাকটিসের জন্য ভারত ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে শুরু করেন।
উল্লেখ্য যে, পান্তের অনুপস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুটি হোম টেস্ট এবং ওভালের টেস্টে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব সামলেছিলেন ধ্রুব জুরেল। ওভালের ম্যাচে ভারতের জয় সিরিজের ফলাফল ২-২ সমতায় নিয়ে আসে।
আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ও ডব্লিউটিসি সমীকরণ
ভারতের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। ১৪ নভেম্বর থেকে কলকাতায় প্রথম টেস্ট এবং ২২ নভেম্বর থেকে গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে গুয়াহাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন মাইলফলক।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে ভারত ৬১.৯০% পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০% পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে। তাই এই সিরিজটি কেবল দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পান্তের এই ফিটনেস এবং ফর্ম ভারতের জন্য এক বিশাল শক্তি হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচের মূল হাইলাইটস:
- ঋষভ পান্ত: ৬৫ রান (চোট কাটিয়ে ফিরে হাফ-সেঞ্চুরি)।
- ধ্রুব জুরেল: ১২৭* রান (অপরাজিত)।
- পার্টনারশিপ: জুরেল এবং দুবের between ১৮৪ রান।
- ভারত ‘এ’ মোট স্কোর: ৩৮২/৭ (ঘোষিত)।
- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: পান্ত ৯৮ দিন পর পূর্ণমাত্রায় ক্রিকেটে ফিরেছেন।
