[CRK] সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত: সব ঘাট ভরা কি সম্ভব?
[CRK]
সূর্যকুমার যাদব: ভারতের টি২০ সাফল্য, কিন্তু সব ঘাট কি ভরা?
“সব ঘাট ভরা হওয়া কখনোই সম্ভব নয়”— এমন মন্তব্য করলেন ভারতীয় টি২০ দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হওয়ার পর তিনি বলেন, “আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার সঙ্গে এতগুলো দক্ষ তরুণ ক্রিকেটার আছেন, যারা প্রত্যেকেই নানা ধরনের দক্ষতা নিয়ে দলে এসেছেন।”
অজয় অভিযান: ৭ সিরিজ জয়, ২৬-৪ রেকর্ড
২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ভারত টি২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অপরাজিত ছিল। তারা এখন পর্যন্ত ৭টি বাইল্যাটারাল সিরিজের মধ্যে প্রতিটি জয় পেয়েছে। এই সময়ে তাদের রেকর্ড হল ২৬ জয় ও মাত্র ৪ পরাজয়।
অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের সাফল্যের পর সূর্যকুমার যাদব বলেন, “আমরা মাঠে খুব শক্তিশালী এনার্জি ছড়াই। খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, সমবেদনা গড়ে তোলে। এটাই দলীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”
বোলিং থেকে ফিল্ডিং: বুমরাহের উপস্থিতি দলকে শক্তিশালী করছে
জসপ্রীত বুমরাহ-এর মতো অভিজ্ঞ বোলারদের উপস্থিতি তরুণদের শেখার সুযোগ তৈরি করে। সূর্যকুমার বলেন, “বুমরা দলে থাকার ফলে সবাই ম্যাচের নানা ট্রিকস আর ট্রেডস শিখছে। তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতা দলে এক ধরনের সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি করছে।”
প্রতিটি ম্যাচের মাধ্যমে দল আরও একটু করে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তবে সূর্যকুমার স্পষ্ট করে দেন, দল কখনোই “সব দিক থেকে পূর্ণ” নয়।
অভিষেক শর্মা: যে তরুণ ব্যাটসম্যান বদলে দিল গেম প্ল্যান
অভিষেক শর্মা এই সিরিজে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন। মাত্র ৬৫২টি বল মুখোমুখি হয়ে তিনি টি২০ আন্তর্জাতিকে ১০০০ রান করার রেকর্ড গড়েন, যা ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত রেকর্ড।
তার সবচেয়ে চমক ছিল কঠিন পিচে নিয়ন্ত্রিত ইনিংস। ভারত ১৬৭ রান করলেও তারা তা সফলভাবে ধামাচাপা দেয়। সূর্যকুমার এই স্কিল নিয়ে মুগ্ধ। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে এমনও হয়, একটা বাঘও ঘাস খেতে বাধ্য হয়!”
ব্র্যান্ড অফ ক্রিকেট: যে ফ্রিডমে সাফল্য আসে
অভিষেক শর্মা এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন দল কর্তৃপক্ষকে। তিনি বলেন, “দল আমাকে এমন স্বাধীনতা দিয়েছে যে ১৫টি ডাকআউট পরপর করলেও আমি দলে থাকব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি জানতাম অস্ট্রেলিয়াতে বলের গতি এবং রিবাউন্ড বেশি হবে। কিন্তু আমি আমার নিজের স্টাইলে খেলার পরিকল্পনা করেছিলাম। কারণ ওপেনার হিসেবে আমার ভূমিকা খুব স্পষ্ট।”
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি: অভিজ্ঞতা হবে বড় হাতিয়ার
শুভমন গিল এবং অভিষেক শর্মার জুটি পিচ ভালো পড়ে নিয়েছে। সূর্যকুমার বলেন, “মাঝে মাঝে ৪-৫টি বল বেশি লাগতে পারে শর্ত বুঝতে। কিন্তু তাদের দক্ষতা এতটাই বেশি যে সেটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
আগামীতে যদি উপমহাদেশে কঠিন পিচ আসে, তবে এই অভিজ্ঞতা অভিষেককে খুব কাজে দেবে।
ভারতীয় দল এখন আরও দুটি বাড়ির সিরিজ খেলবে আগামী তিন মাসের মধ্যে। টি২০ বিশ্বকাপের সোয়াগাত এখন পুরো দলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে যে সতর্কতা আর বিনয় তাদের সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই হতে পারে পরবর্তী সাফল্যের গোপন রহস্য।
