[CRK] স্যাম কনস্টাসের কঠিন সময়ে নিজের ক্যারিয়ার খুঁজছেন স্টিভ ওয়াহ
[CRK]
স্যাম কনস্টাসের লড়াই: স্টিভ ওয়াহর চোখ দিয়ে দেখা তরুণ ক্রিকেটারের সংকট
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট মহলে স্যাম কনস্টাস বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নাম। মাত্র ২০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা এই তরুণ ব্যাটারকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে দল থেকে বাদ পড়ার পর এখন চলছে নানা বিশ্লেষণ। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক প্রধান জর্জ বেইলি এবং কিংবদন্তি সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ কনস্টাসের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ওয়াহর মতে, কনস্টাসের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা তার নিজের ক্রিকেট জীবনের শুরুর দিকের দিনগুলোর মতোই।
অতিরিক্ত চাপের মুখে স্যাম কনস্টাস
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং শেফিল্ড শিল্ডের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে কনস্টাসের ব্যাটে রান খরা স্পষ্ট। নির্বাচক প্রধান জর্জ বেইলি মনে করেন, এই তরুণ ব্যাটারকে নিয়ে গণমাধ্যমে যে পরিমাণ আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে, তা একজন ২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের জন্য খুব কঠিন। বেইলি বলেন, ‘আমি স্যামের জন্য দুঃখিত। এখন অবস্থা এমন যে, সে যদি ভুল কিছু করে, তা নিয়েই হেডলাইন তৈরি হয়। সে এখনো শিখছে এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পথে হাঁটছে। তার দক্ষতা নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই, তবে সবারই ক্যারিয়ারের পথ সমান হয় না।’
স্টিভ ওয়াহর স্মৃতিকথা: নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছেন কনস্টাসের মধ্যে
অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটার স্টিভ ওয়াহ নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ‘স্যাম কনস্টাসের এই পরিস্থিতির সাথে আমার নিজের ক্যারিয়ারের মিল রয়েছে। আমিও ২০ বছর বয়সে ভারতের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্টে অভিষেক করেছিলাম। তবে শুরুতে আমার আত্মবিশ্বাসও এমন টালমাটাল ছিল। আমার প্রথম সেঞ্চুরি পেতে ২৭তম টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।’
ওয়াহ আরও যোগ করেন যে, টেস্ট ক্রিকেট চলাকালীন টেস্ট খেলা শেখা কতটা কঠিন, তা তিনি নিজে অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি স্যাম বর্তমানে একটু দ্বিধায় আছে যে কীভাবে খেলতে হবে। প্রত্যাশার পাহাড় তার ওপর। তার এখন উচিত সবার কথা না শুনে কেবল নিজের কাছের দু-একজন মানুষের পরামর্শ শোনা এবং শেফিল্ড শিল্ডে ফিরে গিয়ে দীর্ঘ ইনিংস খেলার অভ্যাস করা। নিজের খেলার ধরণটি ভালোভাবে আয়ত্ত করা সবচেয়ে জরুরি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কী হতে পারে কনস্টাসের পরবর্তী পদক্ষেপ?
জর্জ বেইলি জানিয়েছেন, কনস্টাস এখনো অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ভাবনার কেন্দ্রেই আছেন। সামনেই শেফিল্ড শিল্ডের তিনটি ম্যাচ রয়েছে। এছাড়া প্রাইম মিনিস্টার্স একাদশ এবং অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়েও খেলার সুযোগ থাকছে তার সামনে। বেইলির ভাষায়, ‘আমরা তাকে পছন্দ করি এবং দীর্ঘমেয়াদে তার ওপর আমাদের আস্থা আছে। তার জন্য বার্তাটি পরিষ্কার—কিছুটা সময় নাও, শেফিল্ড শিল্ডে বেশি বেশি রান করো এবং নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর মনোযোগ দাও।’
উপসংহার
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাঁক বদল প্রতিটি খেলোয়াড়ের জীবনেই আসে। স্টিভ ওয়াহর পরামর্শ এবং নির্বাচকদের ভরসা যদি স্যাম কনস্টাস সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে তাকে আবারও অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যাটিং করতে দেখা যাবে। ক্রিকেট ভক্তরা আশায় আছেন, এই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা থেকেই আরও পরিণত হয়ে ফিরে আসবেন তরুণ কনস্টাস।
- আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা: ওয়াহর মতে কনস্টাসের এখন মূল কাজ আত্মবিশ্বাস বাড়ানো।
- সরলীকরণ: খেলার কৌশল জটিল না করে বেসিকের ওপর জোর দেওয়া।
- ধৈর্য: ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন মেনে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হিসেবে স্যাম কনস্টাস নিজেকে আবারও প্রমাণ করতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে কিংবদন্তিদের সমর্থন তার জন্য নিঃসন্দেহে বড় একটি প্রাপ্তি।
