[CRK] শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের নতুন যুগের সন্ধানে গ্যারি কারস্টেন: অডিট ও পরিকল্পনার বিস্তারিত
[CRK]
নতুন মিশনে গ্যারি কারস্টেন
২০১১ সালে গ্যারি কারস্টেনের কোচিংয়ে ভারত যখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করে, তখন ২০ মিলিয়ন শ্রীলঙ্কান ভক্তের হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। সেই কারস্টেনই এখন শ্রীলঙ্কা দলের প্রধান কোচ। গত এপ্রিলে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লঙ্কান ক্রিকেটের জন্য তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
টিম অডিট: সমস্যার গভীরে অনুসন্ধান
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই কারস্টেন পুরো দলের ওপর একটি ‘টিম অডিট’ পরিচালনা করেছেন। তার মতে, শ্রীলঙ্কা দলে প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভা এবং বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র প্রতিভার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য আসে না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক কর্মনীতি এবং মানসিকতা।’
কারস্টেন শুধু সিনিয়র দলের দিকেই নজর দিচ্ছেন না, বরং শ্রীলঙ্কার উদীয়মান খেলোয়াড়দের দেখতে গলে সফর করার পরিকল্পনাও করেছেন। তিনি দলের গভীরতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী খেলোয়াড় অদলবদল করা সম্ভব হয় এবং কারো ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
তথ্য বা ডাটার ব্যবহার
আধুনিক ক্রিকেট যে তথ্য-প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে, তা কারস্টেন ভালোভাবেই বোঝেন। তিনি এখন আর প্রথাগত ‘উপর থেকে আদেশ’ দেওয়ার পদ্ধতিতে বিশ্বাসী নন। তার মতে, আধুনিক খেলোয়াড়রা যুক্তি এবং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খেলতে পছন্দ করে। তিনি উদাহারণ হিসেবে জানান যে, ২০২০ সাল থেকে শ্রীলঙ্কা সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেললেও সেঞ্চুরির সংখ্যা ভারতের তুলনায় অনেক কম। এই তথ্যগুলো খেলোয়াড়দের সামনে উপস্থাপন করে তিনি তাদের পারফরম্যান্সে গতি আনতে চান।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ও ফিটনেস
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলোয়াড়দের ব্যস্ততা সম্পর্কে কারস্টেন বেশ ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, অনুশীলন ক্যাম্পের চেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলা খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির জন্য অনেক বেশি কার্যকর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে খুব অল্প সময় হাতে থাকলেও তিনি বর্তমান দলের ফিটনেস মানদণ্ড নিয়ে সন্তুষ্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খেলোয়াড়দের মাঠে দীর্ঘ সময় ধরে ফিট রাখার জন্যই এই কঠোর প্রোটোকলগুলো প্রয়োজন, যা কোনোভাবেই ‘অতিরিক্ত’ নয়।
২০২৭ বিশ্বকাপের লক্ষ্য
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে কারস্টেন এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন মাথায় রেখে তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চান যেখানে পেস বোলার থেকে শুরু করে স্পিনার এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাটার—সবকিছুর সঠিক ভারসাম্য থাকবে। তিনি মনে করেন, প্রতিটি সিরিজের মাধ্যমেই দলের উন্নতি বজায় রাখা জরুরি। কারস্টেন বলেন, ‘আমরা ফলাফলকে অস্বীকার করতে পারি না। প্রতিটি সিরিজে নিজেদের সেরাটা দিয়ে বিশ্বকাপের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
একজন বিদেশি কোচ হিসেবে শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতি ও ক্রিকেটীয় সত্তাকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে তিনি শ্রীলঙ্কা জুড়ে সাইকেল চালিয়ে ঘোরার পরিকল্পনাও করেছেন। লঙ্কান ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছে কারস্টেনের এই নতুন রূপরেখা কত দ্রুত দলের ভাগ্য বদলাতে পারে, তার অপেক্ষায়।
