[CRK] গুয়াহাটিতে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট: সূচি পরিবর্তনে অভিনব চা-বিরতি ও দুপুরের খাবারের নিয়ম
[CRK]
গুয়াহাটি টেস্টে নতুন নিয়মের ধাঁধা
ক্রিকেট মাঠে আমরা সাধারণত লাঞ্চের পর চা-বিরতি দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টে দেখা যাবে তার উল্টো চিত্র। গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টেস্ট ম্যাচে ক্রিকেটাররা দুপুরের খাবারের আগেই সেরে নেবেন চা-বিরতি। বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি মূলত ভৌগোলিক বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে।
কেন এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত?
উত্তর-পূর্ব ভারতে শীতকালীন সূর্যের আচরণ কিছুটা ভিন্ন। এখানে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত হয় অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ আগে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া জানিয়েছেন, বিকেল চারটের পর গুয়াহাটিতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব দেখা দেয়, যা টেস্ট ম্যাচের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বজায় রাখতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। দিনের আলো পুরোপুরি কাজে লাগাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ম্যাচের নতুন সূচি ও সময়সীমা
ম্যাচটি শুরু হবে আগামী ২২ নভেম্বর থেকে। প্রচলিত সময়সূচির চেয়ে ৩০ মিনিট এগিয়ে আনা হয়েছে খেলার শুরু। বিস্তারিত সূচি নিম্নরূপ:
- টস: সকাল ৮:৩০ মিনিট।
- প্রথম সেশন: সকাল ৯টা থেকে ১১টা।
- চা-বিরতি (Tea Break): প্রথম সেশনের ঠিক পরেই ২০ মিনিটের চা-বিরতি।
- দুপুরের খাবার (Lunch): দুপুর ১:২০ থেকে ২টা পর্যন্ত।
- শেষ সেশন: বিকেল ৪টে পর্যন্ত।
দেবজিৎ শইকীয়া আরও ব্যাখ্যা করেছেন, সকাল ৯টায় খেলা শুরু করার পরও প্রথম সেশনের পরপরই লাঞ্চ দেওয়াটা খেলোয়াড়দের শরীরের জন্য মানানসই হতো না। সেই কারণেই লাঞ্চের সময় পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মাঝখানের বিরতি হিসেবে চা-পানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি একান্তই একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত, যা খেলার মান বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
গুয়াহাটির ক্রিকেটে ঐতিহাসিক মুহূর্ত
গুয়াহাটির জন্য এটি একটি মাইলফলক। এর আগে মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি সফল ম্যাচ আয়োজন করার পর, এবার প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট ম্যাচ আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই ভেন্যুতে। স্থানীয় দর্শকদের মধ্যেও এই টেস্ট ম্যাচ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ইডেন গার্ডেনসে প্রথম লড়াই
গুয়াহাটি টেস্টের আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেনসে। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচে টসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি সোনার প্রলেপ দেওয়া কয়েন ব্যবহার করা হবে, যাতে বিসিসিআই এবং ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকার লোগো খোদাই করা থাকবে। এটি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
উপসংহার
প্রকৃতির নিয়মের সাথে তাল মিলিয়ে খেলার সময়সূচি পরিবর্তন করা ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। তবে গুয়াহাটি টেস্টে এই নতুনত্বের ব্যবহার প্রমাণ করে যে, বিসিসিআই কেবল খেলার মান নয়, বরং খেলোয়াড়দের সুবিধা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারের ব্যাপারেও কতটা সচেতন। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন ২২ নভেম্বরের দিকে, যখন নতুন নিয়মের এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচটির সূচনা হবে। এই অদ্ভুত অথচ যৌক্তিক সময়সূচি ম্যাচে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।
