[CRK] শান্তর সেঞ্চুরি ও লিটনের ব্যাটে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি | ৩য় ওয়ানডে
[CRK]
শান্তর সেঞ্চুরি ও লিটনের হাফ-সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের লড়াকু সংগ্রহ
চট্টগামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি এবং লিটন দাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হাফ-সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এক সময় ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের দুর্দান্ত ব্যাটিং। তবে শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশ সম্ভবত কিছুটা আক্ষেপে পুড়বে।
শুরুর বিপর্যয় ও ও’রর্কের তান্ডব
ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য একেবারেই সুখকর ছিল না। কিউই ফাস্ট বোলার উইল ও’রর্কের তোপে পাওয়ারপ্লেতেই মাত্র ৩২ রানে সাজঘরে ফেরেন ৩ টপ অর্ডার ব্যাটার। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাইফ হাসানকে সাজঘরে ফেরান ও’রর্ক। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন সাইফ। এরপর গত ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা তানজিদ হাসান তামিম আজ কিছুটা জড়সড় ছিলেন। ও’রর্কের করা তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন তিনি।
তিনে নামা সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন। তারা ৫টি চারের সাহায্যে ইনিংসের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সেই চেষ্টায় পানি ঢেলে দেন ও’রর্ক। সৌম্য সরকারের স্টাম্প উপড়ে দিয়ে তাকে প্যাভিলিয়নে পাঠান এই কিউই পেসার। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন গভীর সংকটে, তখনই উইকেটে থিতু হতে শুরু করেন শান্ত ও লিটন দাস।
শান্ত-লিটনের রেকর্ড গড়া জুটি
বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শান্ত ও লিটন। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা যখন পিচের হার্ড লেন্থে আক্রমণ চালাচ্ছিলেন, তখন এই দুই ব্যাটার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সময় নিয়ে ইনিংস গড়ার দিকে মনোযোগ দেন। ১৪তম ওভারে বেন লিস্টারের বলে শান্তর হুক থেকে আসা ছক্কাটি ছিল অনেকটা ধারার বিপরীতে। ২০তম ওভারের পর থেকে এই জুটি উইকেটে থিতু হতে শুরু করে।
২৪তম ওভারে জশ ক্লার্কসনের বলে নাজমুল হোসেন শান্ত সিঙ্গেল নিয়ে ৫০ রানের জুটি পূর্ণ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ব্যক্তিগত ২৯ রানে জীবন পান লিটন দাস, যখন নিজের বোলিংয়ে তার সহজ ক্যাচ মিস করেন মুহাম্মদ আব্বাস। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শান্ত ৭০ বলে পূর্ণ করেন তার টানা দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি। লিটন শুরুতে বেশ ধীরগতিতে ব্যাটিং করলেও শান্ত অন্য প্রান্ত থেকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানরেট সচল রাখেন।
২৯তম ওভারে এসে নিজের প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান লিটন, ততক্ষণে তিনি ৬০টি বল মোকাবেলা করে ফেলেছেন। ৩০তম ওভারে এই জুটির ১০০ রান পূর্ণ হয়। ৩৩তম ওভারে লিটন দাস তার ক্যারিয়ারের ৫ম ওয়ানডে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি তার জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস, কারণ প্রায় আড়াই বছর এবং ১৯টি ইনিংস পর ওয়ানডেতে হাফ-সেঞ্চুরির মুখ দেখলেন তিনি। শান্ত এরপর নাথান স্মিথের ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসী হওয়ার ইঙ্গিত দেন, যদিও ৭৫ রানে ও’রর্কের হাতে জীবন পান তিনি।
শান্তর বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি ও শেষ ভাগের লড়াই
শান্ত ও লিটন দাসের ১৬০ রানের এই জুটিটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ৩৮তম ওভারে ও’রর্ককে চার ও ছক্কা মারার পর লিনক্সের বলে ইনসাইড-আউট শট খেলতে গিয়ে আউট হন লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৯১ বলে ৭৬ রানের কার্যকরী এক ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কার মার।
লিটন বিদায় নিলেও শান্ত অবিচল ছিলেন। ভ্যাপসা গরম ও হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তি জয় করে ৪১তম ওভারে নিজের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তবে সেঞ্চুরির ঠিক পরেই ক্লান্তির কারণে লিনক্সের বলে ভুল শট খেলে আউট হন শান্ত। ১০৫ রানের এই লড়াকু ইনিংসে তিনি ১০টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান।
শান্তর বিদায়ের পর বাংলাদেশের রান তোলার গতি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ মাত্র ৩টি চার ও ১টি ছক্কা মারতে সক্ষম হয়। তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেটে থাকলেও নিউজিল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা সুবিধা করতে পারেননি। শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দ্রুত বিদায় নিলে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে উইল ও’রর্ক ৩টি উইকেট নেন, এছাড়া লিস্টার ও লিনক্স ২টি করে এবং ফক্সক্রফট ১টি উইকেট শিকার করেন।
