[CRK] WPL 2026 রিটেনশন: হরমনপ্রীত-স্মৃতি বহাল, তবে বাদ পড়লেন ল্যানিং ও হিলি
[CRK]
ডব্লিউপিএল ২০২৬: বড় রদবদলের পথে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো
মহিলা প্রিমিয়ার লিগ (WPL) ২০২৬ মৌসুমের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর রিটেনশন তালিকা প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। একদিকে যেমন ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা নিজেদের দলে জায়গা ধরে রেখেছেন, অন্যদিকে বড় বড় আন্তর্জাতিক তারকাদের জায়গা হয়েছে নিলামের তালিকায়। আসন্ন মেগা নিলামের আগে দলগুলো তাদের রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে।
কারা থাকলেন, কারা বাদ?
ভারতীয় ক্রিকেটের নক্ষত্ররা এই রিটেনশন প্রক্রিয়ায় নিজেদের দাপট বজায় রেখেছেন। হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মান্ধানা, জেমিমাহ রড্রিগেস এবং শেফালি ভার্মার মতো খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বহাল রয়েছেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান মহাতারকা অ্যালিসা হিলি এবং মেগ ল্যানিং, সেইসাথে নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার অ্যামেলিয়া কারকে নিলামের পুলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সবথেকে বড় চমক হিসেবে এসেছে দীপ্তি শর্মার নাম, যিনি গত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেও এবার রিলিজ পেয়েছেন।
দলভিত্তিক রিটেনশন তালিকা
- দিল্লি ক্যাপিটালস: অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড, মারিজান কাপ, জেমিমাহ রড্রিগেস, শেফালি ভার্মা, নিকি প্রসাদ।
- মুম্বাই ইন্ডিয়ানস: হরমনপ্রীত কৌর, ন্যাট সিভার-ব্রান্ট, আমনজোট কৌর, জি কামলিনি, হেইলি ম্যাথিউস।
- রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু: স্মৃতি মান্ধানা, এলিস পেরি, রিচা ঘোষ, শ্রেয়াঙ্কা পাটিল।
- গুজরাট জায়ান্টস: অ্যাশলেই গার্ডনার, বেথ মুনি।
- ইউপি ওয়ারিয়র্স: শ্বেতা সেহরাওয়াত।
নিলাম ও রিটেনশন নিয়মাবলী
ডব্লিউপিএল ২০২৬-এর নিয়ম অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সর্বোচ্চ পাঁচটি খেলোয়াড় ধরে রাখতে পেরেছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত ছিল যে, অন্তত একজন আনক্যাপড ভারতীয় খেলোয়াড়কে দলে রাখতে হবে। এবারের আসরে নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘রাইট টু ম্যাচ’ (RTM) কার্ড, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিলামের সময় তাদের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের ফেরাতে সহায়তা করবে।
প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য ১৫ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৭ নভেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত হতে যাওয়া এই নিলামে দলগুলোর হাতে থাকা বাজেটের উপর ভিত্তি করেই তাদের নতুন স্কোয়াড গঠনের লড়াই শুরু হবে। দিল্লি ক্যাপিটালস এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ানস যারা পাঁচজন খেলোয়াড় রিটেইন করেছে, তাদের হাতে এখন মাত্র ৫.৭৫ কোটি টাকা রয়েছে। অন্যদিকে, ইউপি ওয়ারিয়র্স রিটেনশনে কম খেলোয়াড় নেওয়ায় তাদের হাতে সর্বোচ্চ ১৪.৫ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে, যা তাদের নিলামের টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রতিটি দলের লক্ষ্য এখন ১৬ থেকে ১৮ সদস্যের একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড তৈরি করা। আরটিএম কার্ডের ব্যবহার এবং নতুন খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে কোন দল আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের নজর এখন ২৭ নভেম্বরের সেই মেগা নিলামের দিকে, যেখানে নতুন মুখ এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে তৈরি হবে নতুন ডব্লিউপিএল ২০২৩-এর প্রতিচ্ছবি।
ক্রিকেট প্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কারণ ল্যানিং বা হিলির মতো খেলোয়াড়রা কোন নতুন দলের জার্সি গায়ে চাপান, তা নির্ধারণ করবে পরবর্তী মৌসুমের সমীকরণ। সব মিলিয়ে ডব্লিউপিএল ২০২৬ যে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
