[CRK]

আইসিসির ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে বিদায় নিচ্ছেন ওয়াসিম খান

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ICC)-এর জন্য একটি বড় পরিবর্তনের সময় এসেছে। সংস্থাটির জেনারেল ম্যানেজার (ক্রিকেট) ওয়াসিম খান চার বছর দায়িত্ব পালনের পর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জুন মাসের শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব শেষ করবেন এবং জুলাই থেকে নতুন কোনো পেশাগত দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

ওয়াসিম খানের ক্রিকেটীয় ও প্রশাসনিক পথচলা

ওয়াসিম খানের ক্যারিয়ার বেশ বৈচিত্র্যময়। তিনি কেবল একজন দক্ষ প্রশাসকই নন, বরং একজন সাবেক ক্রিকেটারও। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রথম ব্রিটিশ-জন্মগ্রহণকারী মুসলিম হিসেবে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়ারউইকশায়ার, সাসেক্স এবং ডার্বিশায়ারের হয়ে তিনি ৫৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ৩০টি লিস্ট এ ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৫ সালে ওয়ারউইকশায়ারের কাউন্টি শিরোপা জয়ের পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল, যেখানে তিনি প্রায় ৫০ গড় রান করেছিলেন।

ক্রিকেট মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার পর তার প্রশাসনিক ক্যারিয়ার ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি লিসেস্টারশায়ার কাউন্টির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ‘চ্যান্স টু শাইন’ নামক ক্রিকেট চ্যারিটিকে যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিইও হিসেবে প্রায় তিন বছর কাজ করার পর ২০২২ সালের মে মাসে তিনি আইসিসিতে যোগ দেন। এর আগে জিওফ অ্যালারডাইস আইসিসির সিইও হওয়ার পর সেই শূন্যপদে স্থলাভিষিক্ত হন ওয়াসিম।

আইসিসিতে তার চ্যালেঞ্জ ও অর্জন

ওয়াসিম খানের চার বছরের এই সময়কালটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান টি-২০ এবং টি-১০ লিগের ভিড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি ঠিক রাখা ছিল তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও তার আমলে বেশ কিছু বড় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

  • ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনা (FTP): তার সময়েই ২০২৩-২৭ চক্রের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • নারী ক্রিকেটের প্রসার: ওয়াসিম খানের আমলেই ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটের জন্য পূর্ণাঙ্গ এফটিপি (FTP) উন্মোচন করা হয়।

আইসিসিতে পরিবর্তনের হাওয়া

ওয়াসিম খানের এই বিদায় হঠাৎ মনে হলেও, গত দুই বছরে আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে বেশ কিছু রদবদল হয়েছে। জিওফ অ্যালারডাইস সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সংস্থার উচ্চপর্যায়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ইভেন্ট প্রধান ক্রিস টেটলি এবং দুর্নীতি দমন ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালও গত দুই বছরে বিদায় নিয়েছেন। তাদের জায়গায় যথাক্রমে গৌরব সাক্সেনা এবং অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ওয়াসিম খানের উত্তরসূরি কে হবেন বা তার পরবর্তী গন্তব্য কোথায়, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনা চলছে। তবে আইসিসির ক্রিকেট অপারেশন্সে তার অবদান এবং বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের প্রসারে তার উদ্যোগগুলো দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন আইসিসির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগনিত সমর্থক ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা ওয়াসিম খানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন।

Categories: News

Avatar photo

Reyaansh Foster

Reyaansh Foster is a cricket analyst specializing in match forecasts, player form evaluation, and team performance insights across formats.

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *