[CRK] জামানের অপরাজিত ইনিংসে লাহোর কোয়ান্ডার্স জালমির বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়
[CRK]
জামানের নেতৃত্বে কোয়ান্ডার্সের ঐতিহাসিক তাড়া
লাহোর কোয়ান্ডার্স আজ শুধু ম্যাচ জিতেনি, তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে আশা কখনও মরে না। পাকিস্তান সুপার লিগ ২০২৬-এর এক জীবন-মরণ ম্যাচে ২০০ রানের লক্ষ্য তিন বল আগেই তাড়া করে নেয় লাহোর, যখন বিপক্ষ ছিল লিগ পর্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল—পেশাওয়ার জালমি। এই জয়ে কোয়ান্ডার্সের চতুর্থ স্থানে উঠে আসার আশা আবার জ্বলে উঠেছে।
জামান: অপরাজিত দেওয়াল
ফখর জামান আজ কেবল স্কোরবোর্ডে নয়, তাদের দলের হৃদয়েও আশ্রয় হয়ে উঠলেন। ৪৭ বলে অপরাজিত ৫৮ রানে তিনি ঠিক যেমন দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তা থেকে কোনোভাবেই পিছপা হননি। কিন্তু তাঁর ভূমিকা ছিল সমর্থনমূলক। পাওয়ারপ্লেতে মাত্র ১৯ বলে ২০ রান নেওয়া জামান প্রতিবার রান হারানোর পর সঙ্গীকে মাঠে রাখার কাজটাই সবচেয়ে ভালোভাবে করেছিলেন।
মিডইনিংসের আগুন: শাফিক, রাজা ও স্যামস
কোয়ান্ডার্সের জয় কিন্তু শুধু জামানের নয়। আবদুল্লাহ শাফিক ১১ বলে ২৫ রান হাঁকিয়ে ইনিংসটাকে ঠিক গতিতে রেখেছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সিকান্দার রাজা।
৪৪ বলে ৮২ রান তাড়া করতে হচ্ছিল যখন তিনি ব্যাটিং করতে নামেন। মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি রানের হার ১৩০-এর বেশি নিয়ে গেলেন। মিড-অন থেকে কাভারের দিকে তাঁর শটগুলো ছিল নিখুঁত। তারপর মুহূর্তটা ধরেছিলেন ড্যানিয়েল স্যামস।
১৫ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংসে স্যামস লাহোরকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। বিশেষ করে মোহাম্মদ বাসিতের বিরুদ্ধে তাঁর ঝোঁকা আক্রমণ ছিল নির্ণায়ক — দুই চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে রানের চাপ কমিয়ে ফেলেন তিনি। ওই ওভার শেষে মাত্র ১৯ রান চাইত কোয়ান্ডার্স ১৮ বলে — তারপর তো হেঁটে জয় নিশ্চিত করা হয়েছিল।
অন্যান্য অবদান
চারিথ আসালঙ্কা চতুর্থ নম্বরে ২৬ বলে ৩৩ রান করে মাঝের ওভারগুলোতে ইনিংসকে স্থিতিশীল রেখেছিলেন। তাঁর ইনিংস ছিল হালকা, কিন্তু সুসংগঠিত। মোট ৪ উইকেট হারিয়ে লাহোর লক্ষ্য তাড়া করে নেয়, যা প্রমাণ করে যে ব্যাটিং গভীরতা তাদের দলে রয়েছে।
জালমির মজবুত ইনিংস, দুর্বল বোলিং
জালমির পক্ষে বাবর আজম আরেকটি অর্ধশতক (৫৯ রান) করেছিলেন, কিন্তু আসল তারকা ছিলেন মাইকেল ব্রেসওয়েল, যিনি ৪৫ বলে নিশ্চিত ৮৩ রান করেন। তাঁর ব্যাটিং ছিল নিখুঁত, বিশেষ করে স্ট্রেইট শটগুলো। তবে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯৯ রান করা হলেও জালমির বোলাররা চাপের মুখে ভেঙে যান।
তরুণ বোলারদের আলি রাজা (৩ ওভারে ৪৮ রান) এবং সুফিয়ান মুকিম (৪ ওভারে ৩৮ রান) বিপুল রান তুলে দেন।
কোয়ান্ডার্সের বোলিংয়ে শাহীন-রাউফ
কোয়ান্ডার্সের পক্ষে শাহীন আফ্রিদি এবং হারিস রাউফ দু’জনেই ২টি করে উইকেট নেন। শাহীনের ফিগার ২/৩৬, যা বেশ কার্যকরী ছিল। কিন্তু বল করার পর ফিল্ডিংয়ে জালমির রান প্রবাহ রোধ করতে পারেননি তারা।
প্লে-অফের হিসাব-নিকাশ
এই জয়ের ফলে কোয়ান্ডার্সের নেট রান রেট হয়েছে -০.৪৮২, অন্যদিকে হায়দ্রাবাদ কিংসমেন-এর -১.০৩৭। তাই কিংসমেনকে শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিততে হবে, লাহোরের স্থান কেড়ে নেওয়ার জন্য। যে কারণে কোয়ান্ডার্সের ভাগ্য এখন নিজেদের হাতে।
মাঠে দর্শক নেই, কিন্তু উত্তেজনা পূর্ণ। লাহোর কোয়ান্ডার্স আজ আবার বিশ্বাস জাগালো — প্লে-অফ এখন খুব কাছাকাছি।
