[CRK] তামিমের উদ্যোগে ক্যাপ্টেনস কার্ড: আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে আবেগপ্রবণ বার্তা
[CRK]
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা: ক্যাপ্টেনস কার্ড
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি এবং সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দেশের ক্রিকেটের অগ্রযাত্রায় যাদের অবদান অপরিসীম, সেই ৩৩ জন সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ককে সম্মান জানাতে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’। গত ১৬ এপ্রিল ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্ডগুলো প্রদান করা হয়।
তামিম ইকবালের মহৎ উদ্যোগ
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তামিম ইকবাল বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো—সবক্ষেত্রেই তিনি সরব। তবে এই কার্ড বিতরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাবেক ক্রিকেটারদের যথাযথ সম্মান প্রদান করা। তামিমের মতে, মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের অনেক দাবি-দাওয়া থাকে, কিন্তু অবসরের পর তাদের একমাত্র প্রত্যাশা থাকে সম্মান।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে নিয়ে তামিমের আক্ষেপ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ৩৩ জন অধিনায়কের তালিকায় নাম ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলেরও। তবে তামিম ইকবাল খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন যে, তিনি বুলবুলের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি। তামিম বলেন, ‘আমি বুলবুল ভাইকে ফোন করেছিলাম, মেসেজ পাঠিয়েছিলাম। পরে বুঝলাম আমি ব্লকলিস্টে আছি। কোনো সমস্যা নেই। তার অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অপরিসীম।’
সাবেক তারকাদের প্রাপ্য সম্মান
তামিম ইকবালের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে দেশের ক্রিকেটের ভিত গড়ে দেওয়া মানুষগুলোর প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা। তিনি বলেন, ‘যখন তারা খেলেছেন, তখন আজকের মতো সুযোগ-সুবিধা বা অর্থ ছিল না। শুধু খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা লড়ে গেছেন। আজ আমরা মিডিয়া বা অর্থের প্রাচুর্যে থাকলেও তাদের অবদানই আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’
অধিনায়কদের জন্য এক বিশেষ উপহার
এই ক্যাপ্টেনস কার্ডের মাহাত্ম্য নিয়ে তামিম আরও যোগ করেন, ‘কার্ডটি খুব বড় কোনো উপহার নয়, কিন্তু এটি একটি সম্মানের শুরু। অনেক সময় সাবেক ক্রিকেটাররা স্টেডিয়ামে গিয়ে অপরিচিত বোধ করেন, যা খুবই বেদনাদায়ক। এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের সেই আত্মসম্মান ও স্বীকৃতির পথ সুগম হবে।’
যাদের কার্ড বাকি, তারা কীভাবে পাবেন?
অনুষ্ঠানে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, ফারুক আহমেদ বা পাইলটের মতো অনেকেই উপস্থিত হতে পারেননি। তামিম পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যারা আসতে পারেননি, তাদের কার্ডগুলো বিসিবি অফিসে সংরক্ষিত থাকবে। তারা যখনই চাইবেন, সংগ্রহ করতে পারবেন। তামিম বলেন, ‘আমরা সবাই ক্রিকেটার এবং আমরা একে অপরকে সম্মান করি। এই কার্ড তাদের সারা জীবনের জন্য বৈধ।’
উপসংহার
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উত্তরণ ও সাবেক ক্রিকেটারদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তামিম ইকবালের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মতভেদ বা যোগাযোগের দূরত্ব থাকলেও, দেশের ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের প্রতি এই বিনম্র শ্রদ্ধা পুরো ক্রিকেট অঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ৩৩ জন অধিনায়কের এই সম্মাননা প্রাপ্তি আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
