[CRK] ডম সিবলির দৃঢ়তায় লড়াই করছে সারেই, এসেক্সের ৪০৯ রানের জবাবে ১৯২/৩
[CRK]
এসেক্সের বিশাল সংগ্রহের মুখে সারেইয়ের লড়াই: সিবলি ও পোপের প্রতিরোধ
কিয়া ওভালে অনুষ্ঠিত রোথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে এসেক্সের শক্তিশালী ব্যাটিং প্রদর্শনীতে বড় সংগ্রহ করার পর, সারেই এখন সেই পাহাড়সম রানের মুখে লড়াই করছে। প্রথম ইনিংসে এসেক্স ৪০৯ রান করার পর, সারেই তাদের ব্যাটিংয়ে নেমে বর্তমানে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান সংগ্রহ করেছে। এই লড়াইয়ে মূল নায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন ওপেনার ডম সিবলি, যিনি অপরাজিত ৭৪ রান করে দলের হাল ধরে রেখেছেন।
এসেক্সের দাপট এবং নোয়াহ থেইনের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস
ম্যাচের প্রথম ভাগে এসেক্সের ব্যাটিং লাইনআপ দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। তাদের মোট ৪০৯ রানের ভিত গড়ে দিয়েছেন ওয়াল্টার (১০১ রান) এবং এলগার (৯২ রান)। তবে দলের জন্য বিশেষ অবদান রেখেছেন নোয়াহ থেইন, যার ৬৪ রানের ইনিংসটি ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা। থেইন যখন সকালে ৩৩ রানে আউট হয়ে শুরু করেন, তখন গুস অ্যাটকিনসনের একটি মারাত্মক ডেলিভারি তাকে প্রায় বিপদে ফেলেছিল, কিন্তু তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে সেটি মোকাবিলা করেন।
থেইন এবং সাইমন হারমার তাদের রাতারাতি পার্টনারশিপকে ৭৫ রানে উন্নীত করেন। হারমারের কিছু বিধ্বংসী কভার ড্রাইভ এসেক্সকে নিশ্চিতভাবে তৃতীয় ব্যাটিং বোনাস পয়েন্ট এনে দেয়। যদিও শান অ্যাবটের বলে হারমার ৪১ রানে এলবিডব্লিউ (lbw) হয়ে আউট হন, তবে শোন স্ন্যাটার দ্রুতই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন এবং অ্যাবটকে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন।
ড্যান লরেন্সের ম্যাজিক এবং এসেক্সের ইনিংস সমাপ্তি
এসেক্সের ইনিংসের শেষ দিকে সবচেয়ে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন অফ-স্পিনার ড্যান লরেন্স। তার প্রাক্তন কাউন্টির বিপক্ষে লরেন্সের বোলিং ছিল রীতিমতো বিধ্বংসী। তিনি মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে দুটি উইকেট এসেছে পরপর দুটি বলে।
- প্রথম বলে থেইন স্কয়ার লেগের কাছে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
- পরের বলে স্যাম কুক স্লিপে রোরি বার্নসের একহাত ধরা এক দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন।
- পরের ওভারে স্ন্যাটারকে স্লিপে ক্যাচ করিয়ে ইনিংসটি শেষ করেন লরেন্স।
সারেইয়ের শুরু এবং কঠিন পরিস্থিতি
৪০৯ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সারেই শুরু থেকেই চাপে পড়েছিল। লঞ্চের পর দ্রুতই রোরি বার্নস আউট হয়ে যান। জেমি পোর্টারের নিখুঁত বোলিংয়ে সারেই মাত্র ২৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এরপর জেমি স্মিথও সস্তায় আউট হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পোর্টার এবং স্যাম কুকের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সারেইয়ের ব্যাটসম্যানদের জন্য রান তোলা অসম্ভব করে তুলেছিল। বিশেষ করে বিকেলের সেশনের প্রথম ছয় ওভারে সারেই মাত্র ৬ রান করতে সক্ষম হয়েছিল।
সিবলি ও পোপের সহমর্মী পার্টনারশিপ
অন্ধকার যখন ঘনিয়ে আসছিল, তখন হাল ধরেন ডম সিবলি এবং অলি পোপ। সিবলি এই সিজনে তার প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং শেষ দুই সেশন জুড়ে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ব্যাটিং করেন। অন্যদিকে, অলি পোপের ব্যাটে দেখা যায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ। শীতকালে ইংল্যান্ড টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর, সারেইয়ের হয়ে এটি তার টানা তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি (৬৯ রান)।
সিবলি এবং পোপ মিলে ১০৫ রানের এক গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন, যা সারেইকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। পোপ যখন তার ফিফটির পর সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন একটি সহজ রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে তিনি জেমি পোর্টারের হাতে আউট হয়ে যান, যা ছিল এই ইনিংসের সবচেয়ে হতাশাজনক মুহূর্ত।
বর্তমান অবস্থা ও আগামীর সম্ভাবনা
দিনের খেলা শেষে সারেই ১৯২ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছে এবং তারা এখনো এসেক্সের থেকে ২১৭ রানে পিছিয়ে আছে। তবে ডম সিবলির অপরাজিত ৭৪ রান এবং লরেন্সের ৩৮ রানের অবদান সারেইকে একটি শক্ত ভিত প্রদান করেছে। এখন দেখার বিষয়, সিবলি তার এই দৃঢ়তা ধরে রেখে সারেইকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন এবং তারা এসেক্সের বিশাল সংগ্রহের ব্যবধান কতটা কমাতে সক্ষম হন।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:
এসেক্স: ৪০৯ (ওয়াল্টার ১০১, এলগার ৯২, নোয়াহ থেইন ৬৪; লরেন্স ৩-১৪)
সারেই: ১৯২/৩ (সিবলি ৭৪*, পোপ ৬৯; পোর্টার ও কুকের নিয়ন্ত্রিত বোলিং)
