[CRK] বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা মহিলা দল
[CRK]
রাজশাহী, বাংলাদেশ – মজবুত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা মহিলা ক্রিকেট দল বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ও চূড়ান্ত ওয়ানডে ম্যাচে ৭ উইকেটে জয় পেয়ে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে নিজেদের দখলে করে নিয়েছে। রাজশাহীর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই জয় শ্রীলঙ্কাকে ক্রমাগত উন্নয়নের পথে স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং: মস্তারি একাই ভরসা
প্রথমে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ মহিলা দল ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান তোলে। পুরো ইনিংস জুড়ে দলের প্রায় সমস্ত ভার বহন করেন সোভানা মস্তারি। মাত্র ৮০ বলে ৭৪ রানের ইনিংসে তিনি ৮টি চৌকা মারেন, যা ছিল দলের সবচেয়ে বড় যোগদান।
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জোটি ৯০ বলে ৪০ রানে অবদান রাখেন, যদিও তিনি হাফ সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। শারমিন সুলতানা ২৫ এবং রিতু মনি মাত্র ১৬ বলে ২০ রান যোগ করেন, তবে তারা সেভাবে রানের ধারা ধরে রাখতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণে কভিশা দিলহারি তিন উইকেট নেন, আর নিমাশা মীপেজ নেন দুটি। তাদের নির্ভরযোগ্য বোলিং বাংলাদেশকে বড় রানের মারধর থেকে বাঁচায়।
শ্রীলঙ্কার সহজ দৌড়
২১৪ রানের লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কা শুরুটা করে অস্থিতিশীল। তাদের স্টার ব্যাটার চামারি আথাপাথু মাত্র ১৯ রানে আউট হন, যা দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছিল।
পেরেরা-দুলানি জুটি খেলার গতি বদলে দেয়
কিন্তু তারপরই হাসিনি পেরেরা এবং ইমেশা দুলানি একসাথে ১০৮ রানের অমূল্য জুটি গড়েন। এই জুটি ম্যাচের গতিই বদলে দেয়। দুলানি ৭৯ বলে ৫৬ রান করে আউট হন এবং পেরেরা একাই দায়িত্ব নেন।
পেরেরা খেলেন চমকপ্রদ ইনিংস—১৩১ বলে ৯৫ রান করেন, যাতে ছিল ১৩টি চৌকা। তিনি শতরান থেকে মাত্র ৫ রান দূরে ছিলেন, কিন্তু তার ইনিংসই জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যায় তাদের।
অন্যদিকে, হার্শিথা সমারাউইক্রামা অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে এবং শেষ পর্যন্ত দলকে ৭ উইকেটে সহজ জয় এনে দেন।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের সংগ্রাম
বাংলাদেশের হয়ে শুধুমাত্র মারুফা আক্তার সফলতা পান, তিনি নেন দুটি উইকেট। তবে সামগ্রিকভাবে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা মহিলা দল বর্তমান সিরিজে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করেছে এবং এশিয়া অঞ্চলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দল প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও শেষ দুটি ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে, যা উদ্বেগের কারণ হয়েছে।
উভয় দলের জন্য এই সিরিজ ছিল প্রস্তুতির অংশ এবং ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টের আগে মূল্যবান অভিজ্ঞতা জুগিয়েছে।
