[CRK] সূর্যবংশীর বিধ্বংসী সেঞ্চুরি বৃথা, রাজস্থান রয়্যালসকে উড়িয়ে দিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ
[CRK]
সূর্যবংশীর সেঞ্চুরির ঝড়, কিন্তু জয় হায়দ্রাবাদের
আইপিএল ইতিহাসে খুব কম বয়সেই নিজের নাম খোদাই করে নিচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী। তবে তার ব্যক্তিগত রেকর্ডের উজ্জ্বলতা ছাপিয়ে গেল দলের পরাজয়ের কালো ছায়া। রাজস্থান রয়্যালস (RR) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালকের বিধ্বংসী ১০৩ রানের ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত বৃথা গেল। ২২৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েও রাজস্থান রয়্যালসকে ৫ উইকেটে পরাজিত করল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।
ম্যাচটির সংক্ষিপ্ত ফলাফল ছিল নিম্নরূপ: রাজস্থান রয়্যালস ২২৮/৬ (সূর্যবংশী ১০৩, জুরেল ৫১, মালিঙ্গা ২-৩৮) বনাম সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ২২৯/৫ (কিষাণ ৭৪, অভিষেক ৫৭, আর্চার ২-৩৪)।
বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৩৬ বলে নিজের দ্বিতীয় আইপিএল সেঞ্চুরিতে পৌঁছান তিনি। তার ব্যাটিংয়ের বিশেষত্ব ছিল অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেট—প্রতিটি তৃতীয় বলে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। মোট ৩৭ বলে ১০৩ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে সূর্যবংশীর এই একক লড়াইয়ের পাশে খুব একটা সমর্থন পাননি তার সতীর্থরা। সূর্যবংশী যখন ১০৩ রান করছিলেন, তখন বাকি ব্যাটসম্যান এবং অতিরিক্ত রান মিলিয়ে রাজস্থানের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১২৫ রান (৮৩ বলে)।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, প্রফুল হিঞ্জ-এর বিরুদ্ধে সূর্যবংশীর প্রতিশোধ নেওয়ার ধরন ছিল দেখার মতো। প্রথম ওভারের পাঁচ বলের মধ্যে একটি ডট বলের পর টানা চারটি ছক্কা হাঁকান তিনি। এরপর প্যাট কামিন্সের মতো অভিজ্ঞ বোলারের বিরুদ্ধেও তিনি দাপট দেখান। কামিন্সের একটি শর্ট বলকে অনায়াসেই সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে জানান যে, তিনি চাপের মুখে ভেঙে পড়ার পাত্র নন। পাওয়ার প্লে শেষ করার সময় তিনি মাত্র ১৬ বলে ৫১ রান সংগ্রহ করেছিলেন, যা ছিল এই মরসুমে তার তৃতীয় ১৫-বল হাফ সেঞ্চুরি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে কম বলে ১০০০ রান পূর্ণ করার রেকর্ডটি এখন সূর্যবংশীর দখলে। যদিও ১৪তম ওভারে সাকিব হোসেনের একটি নিখুঁত ইয়র্কার তাকে আউট করে, কিন্তু তার আগে তিনি তার বিহারের সতীর্থ সাকিবের বলে ৬, ৪, ৬ মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছিলেন।
রাজস্থানের supporting cast-এর ব্যর্থতা
একপাশে যখন সূর্যবংশীর ব্যাটিং ঝড় চলছিল, অন্যপাশে রাজস্থানের বাকি ব্যাটিং লাইনআপ ছিল স্থবির। ধ্রুব জুরেল লড়াই করে ৫১ রান (৩৫ বল) করলেও তার গতি ছিল মন্থর। রিয়ান পরাগ, যিনি চলতি মরসুমে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে, প্যাট কামিন্সের একটি দুর্দান্ত ইয়র্কারের মুখে মাত্র ৭ রানে আউট হয়ে যান। ইনিংসের শেষ দিকে ডনোভান ফেরেরা ১৬ বলে ৩৩ রান করে কিছুটা গতি এনেছিলেন, কিন্তু সানরাইজার্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে রাজস্থান তাদের স্কোরকে আরও এগিয়ে নিতে পারেনি।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দাপুটে রান তাড়া
২২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল নেয় হায়দ্রাবাদ। জোফরা আর্চার প্রথম ওভারেই ট্র্যাভিস হেডকে আউট করে রাজস্থানকে আশার আলো দেখান। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি খুব বেশি সময়। অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিষাণ জুটি বেঁধে রাজস্থানি বোলারদের তছনছ করে দেন।
সূর্যবংশী ও জুরেলের ১১২ রানের জুটিটি রাজস্থানের বড় অবদান ছিল, কিন্তু তার চেয়েও ভয়ংকর ছিল অভিষেক ও কিষানের ১৩২ রানের ওপেনিং জুটি, যা তারা মাত্র ৫৫ বলে গড়ে তোলেন। এই জুটির দাপটে শেষ ১০ ওভারে হায়দ্রাবাদকে প্রতি ওভারে মাত্র ৯ রান প্রয়োজন ছিল।
ম্যাচটিতে ক্যাচ মিসের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। উভয় দল মিলিয়ে মোট সাতটি ক্যাচ মিস করেছে, যা ম্যাচের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলেছিল। অভিষেক এবং কিষাণ উভয়েই বেশ কিছু সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তাদের ইনিংসকে আরও দীর্ঘায়িত করে।
শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ও জয়
ডোנוভান ফেরেরা যখন অভিষেক ও কিষানের জুটিটি ভাঙলেন, তখন জয় হায়দ্রাবাদের হাতের মুঠোয় ছিল। শেষ দিকে হাইনরিখ ক্লাসেন (২৪ বলে ২৯) এবং নীতীশ কুমার রেড্ডি (১৮ বলে ৩৬) দ্রুত রান সংগ্রহ করে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। যদিও শেষ দিকে দুজনই আউট হন, তবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ১.৫ ওভার বাকি রেখেই লক্ষ্য অর্জন করে নেয়।
সামগ্রিকভাবে, এই ম্যাচটি প্রমাণ করল যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একক নৈপুণ্যের চেয়ে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যবংশীর প্রতিভা অনস্বীকার্য, কিন্তু হায়দ্রাবাদের ব্যাটিং গভীরতা এবং বোলিং পরিকল্পনা তাদের জয় এনে দিয়েছে।
